Home » বিশ্ব » আঞ্চলিক অস্থিরতা বাড়বে যদি ইরানের শক্তি কমে
আঞ্চলিক অস্থিরতা বাড়বে যদি ইরানের শক্তি কমে
আঞ্চলিক অস্থিরতা বাড়বে যদি ইরানের শক্তি কমে

আঞ্চলিক অস্থিরতা বাড়বে যদি ইরানের শক্তি কমে

মরুভুমিতে যেমন ক্ষুদার্ত পাখিরা নীল আকাশে ঘুরে বেড়ায় খাদ্যের খোঁজে শুতীক্ষ্ণ নজরে ঠিক তেমনিভাবে ইরানের বৈশিক ঘটনার প্রতি সবসময় নজর রাখছে বিভিন্ন আঞ্চলিক প্রগতিবাদিরা। তারা অনেক আশায় আছে যে এই ঘটনার মাধ্যমেই যদি বর্তমান সরকারের পতন ঘটে। ক্ষমতার গঠনরীতির কোন পরিবর্তন হবে। এরইমধ্যে যুক্তরাষ্ট ও ইসরাইল চলমান ঘটনার রেষ ধরেই বিভিন্ন ধরনের সরাসরি মন্তব্য শুরু করে দিয়েছে। টুইটারে মন্তব্য করছে বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল ট্রাম্প। ইসরায়েল আবার বিক্ষোভকারিদেরজন্য সুফল  আশা করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল ট্রাম্প বলেছেন পরিবর্তন ঘটার সময় এখন ইরাকে। এছাড়া ইরানের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে যে, সৌদি কতৃক বিক্ষোভ উসকে দেওয়া হচ্ছে। অথচ সৌদির এটা জানা উচিত যে ইরানকে নিয়ে খেলা করার ফল উল্টটা হতে পারে। এদেশের সরকারকে অচল করার দুর্বল প্রচেষ্টা ইরানের বিক্ষোভকে আরও প্রসারিত করতে পারে।

এদিকে গত ২০০৩ সালে ঘটে যাওয়া ইরাক যুদ্ধে মার্কিনযুক্তরাষ্ট ও ব্রিটিশ কতৃপক্ষ তাদের প্রত্যাশিত ফলাফল না মিলায় তারপর বেশ কয়েক বছর ধরে এই অঞ্চলে তাদের পাকাপক্ত অবস্থান করে নিয়েছে ইরান। পরবর্তীসময়ে সদ্দাম ইরাকের,লেবানন ও সিরিয়ায় অন্যতম চতুর হয়ে ওঠে এদেশটি।এরকম পরিকল্পনা করতে গিয়ে অনেক শত্রুর প্রকাশ করেছে দেশটি।

ইরানের অন্যতম ঘনিষ্ট প্রতিদ্বন্দ্বি সৌদিআরব। কিন্তু এ দুই দেশের মধ্যে বর্তমান সম্পর্ক একেবারেই খারাপ। কিছুদিন আগে সৌদিআরবের রিয়াদের রাজপ্রসাদে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের জন্য ইরানকে দোষি সাব্যস্ত সেদেশের সরকার। এদিকে সৌদিআরব গোপন সরযন্ত্রের মাধ্যমে ইরানের ক্ষমতার পথ নাকি পরিবর্তন করতে যাচ্ছে এরকম চিন্তা সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত বেশ আবাক মনে হতো। কিন্তু ইরানের দাবি বর্তমান সময়ে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে যেসকল  চলন্ত উস্কানিমূলক বার্তা পাঠানো হয়েছে সেগুলোর নাকি অর্ধেকই সৌদি ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে পঠানো হয়েছে।

সম্প্রতি কয়েক মাসে নিজেদের ক্ষমতা বলবৎ করার জন্য ইরানকে রাগান্বিত করে ,এমন অনেক বিষয়ের পরিকল্পনা করেছেন সৌদি যুবরাজ মুহাম্মাদ বিন সালমান।

বিস্ময়ের ব্যাপার হলো ইরানে বর্তমান বিক্ষোভের  পিছনে আঞ্চলিক কারন নাকি খুব বেশি নয়। বিভিন্ন মার্কিনেতা ও ট্রাম্পসহ এই আশা করেন যে ইরানে ‘দমনমূলক শাষনের’ অবসান ঘটবে।কিন্তু তারা এটা ভুলে যাচ্ছে যে হাসান রুহানি এক বছরের কম সময় ধরে পুননির্বাচত হয়েছেন।

এদিকে ইসরায়েলও ইরানের বর্তমান ঘটনায় বেশ আশাবাদিএবং সে দেশের কয়েকজন মন্ত্রীও ইরান নিয়ে বিভিন্ন আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। সেদিক থেকে আবার প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু অনেক সচেতন। তিনি ভালো করেই বিষয়টি সম্পর্কে জানেন যে সামনের দিন গুলোতে ইরানের ক্ষোভ গিয়ে পরতে ইসরাইলের উপর। কারন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স ও ট্রাম্প ইরানরে তোপের মুখে না থাকলেও ঠিকই কিন্তু ইসরাইল তোপের মুখে থাকবে।

তাই ইরানকে যুক্তরাষ্ট ,সৌদিআরব,ইসরাইল দুর্বল করতে চাইলেও আঞ্চলিকভাবে ইরানকে তাদের অভ্যন্তরিন অস্থিরতা ঠেকাতে আরও সচেতন হতে হবে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: