Home » ইসলাম » ইসলামে কসম সম্পর্কে কিছু জরুরী মাসআলা মাসায়েল

ইসলামে কসম সম্পর্কে কিছু জরুরী মাসআলা মাসায়েল

১. বিনা যরুরতে কথায় কথায় কসম খাওয়া অন্যায় কাজ। কারণ, ইহাতে আল্লাহ্ র নামের তা’যীম নষ্ট হয় এবং শক্ত বেআদবী হয়। কাজেই সত্য কথার উপরও কসম না খাইয়া পারিলে কিছুতেই কসম খাওয়া উচিত নহে।

২. যদি কেহ বলে যে, আল্লাহ্ র কসম, এই কাজ আমি করিব বা এইরুপ বলে যে, খোদার কসম বা খোদার ইজ্জত ও জালালের কসম, আল্লাহ্ র বুযুর্গী ও বড়ত্বের কসম, এই কাজ আমি করিব, তবে কসম হইয়া যাইবে তাহার খেলাফ করা কিছুতেই জায়েয হইবে না। (ফলকথা, আল্লাহ্ র যাতি নাম হউক বা ছেফাতি নাম হউক, আল্লাহ্ র নাম উচ্চারণ করিয়া কথা বলিলেই কসম হইয়া যাইবে।)
আল্লাহ্ র নাম উচ্চারণ না করিয়া যদি কেহ শুধু বলে যে, কসম খাইতেছি অমুক কাজ করিব না, তবুও কসম হইয়া যাইবে।

৩. কেহ বলিল, খোদা সাক্ষী, আল্লাহ্কে সাক্ষী করিয়া বলিতেছি বা আল্লাহ্কে হাযের নাযের জানিয়া বলিতেছি, তবে কসম হইয়া যাইবে।

৪. কেহ বলিল, কোরআন বা আল্লাহ্ র কালামের কসম করিয়া বলিতেছি, তবে কসম হইবে। যদি কোরআন হাতে করিয়া বা কোরআনের উপর হাত রাখিয়া কোন কথা বলে কিন্তু কসম না খায়, তবে কসম হইবে না।

৫. যদি কেহ বলে, যদি অমুক কাজ করি, তবে যেন বেঈমান হইয়া মরি, বা মৃত্যুর সময় যেন ঈমান নছীব না হয়, বেঈমান হইয়া যাই, বা  বলিল, যদি অমুক কাজ করি, তবে মুসলমানই নহি, তবে কসম হইয়া যাইবে। ইহার খেলাফ করিলে কাফ্ফারা দিতে হইবে। ঈমান যাইবে না।

৬. যদি কেহ এইরুপ কসম করে যে, যদি অমুক কাজ করি, তবে যেন আমার হাত ভাঙ্গিয়া যায়, বা চোখ  কান নষ্ট হইয়া যায়, বা সমস্ত শরীরে যেন কুষ্ঠরোগ হইয়া যায়, বা আমার উপর যেন খোদার গযব পড়ে, খোদার লা’নত পড়ে, বা যদি অমুক কাজ করি, শূকর খাই, মৃত্যুর সময় যেন কলেমা নছীব না হয়, কিয়ামতে আল্লাহ্ রসূলের সম্মুখে লজ্জিত হই ইত্যাদি কথায় কসম হয় না। এই ধরনের কসম করিয়া যদি কেহ ভঙ্গ করে, তবে তাহাতে কাফ্ফারা নাই।

৭. আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কাহারও কসম খাইলে কসম হয় না। যেমন, রসূলুল্লাহ্ র কসম, বা কাবা শরীফের কসম, নিজ চোখের কসম, নিজ যৌবনের কসম, নিজ হাত পা’র কসম, নিজের বাপের কসম, নিজ সন্তানের কসম, নিজ প্রিয়জনের কসম, তোমার মাতার কসম, তোমার জানের কসম, তোমার কসম, নিজের কসম, এই জাতীয় কসমের খেলাফ করিলে কাফ্ফারা দিতে হইবে না। কিন্তু আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কাহারও কসম খাওয়া শক্ত গোনাহ্। হাদীস শরীফে ইহার কঠোর নিষেধ আসিয়াছে। আল্লাহ্ ব্যতীত অন্য কাহারও কসম খাওয়া শেরেকী কথা, ইহা হইতে বাঁচিয়া থাকা কর্তব্য।

৮. যদি কেহ বলে, তোমার ঘরের ভাত পানি আমার জন্য হারাম, বা এইরূপ বলে, অমুক জিনিস আমি আমার জন্য হারাম করিয়া লইয়াছি, তবে ইহাতে কসম হইয়া যাইবে। সে জিনিস খাইলে তাহার কাফ্ফারা দিতে হইবে।

৯. যদি কেহ বলে যে, তোমার আল্লাহ্ র কসম, এই কাজটা করিয়া দাও বা তোমার খোদার কসম অমুক কাজ করিও না, তবে তাহাতে কসম হয় না। ইহার খেলাফ দুরুস্ত আছে।

১০. কসমের সঙ্গে ‘ইনশাআল্লাহ্’ বলিলে কসম হয় না যেমন খোদার কসম ইনশাআল্লাহ্ অমুক কাজ করিব না; ইহাতে কসম হইবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this: