Home » জাতীয় » চট্টগ্রামের বাতাসে ‘ব্ল্যাক কার্বন’এর রাজত্ব্য
চট্টগ্রামের বাতাসে 'ব্ল্যাক কার্বন'এর রাজত্ব্য
চট্টগ্রামের বাতাসে 'ব্ল্যাক কার্বন'এর রাজত্ব্য

চট্টগ্রামের বাতাসে ‘ব্ল্যাক কার্বন’এর রাজত্ব্য

সুস্থ্য পরিবেশ সুস্থ্য জীবন যাপনের সহায়ক ভুমিকা পালন করে। বাংলাদেশে একমাত্র চট্টগ্রামকে বলা হতো পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন নগরী।বর্তমান চট্টগ্রামের পরিবেশের যে হাল তাতে এই পরিচ্ছন্ন নগরী উপাধিটা অর্থহীন।কারণ বাতাসে দিন দিন বেরেই চলেছে জীবানু আর দূষিত ধূলীকণার পরিমাণ।আমরা স্বাভাবিক বাসাতের পিএম-১০ এর পরিমাণ হিসাবে বুঝি যে বাতাসে এর পরিমাণ থাকবে ১৫০ অথচ এর পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে সর্বোচ্চ রেকর্ডের দারপ্রান্তে ৩১৯।বাতাসে ব্ল্যাক কার্বন হিসেবে পরিচিত পিএম (পার্টিকুলেট ম্যাটার) ১০ এবং পিএম ২ দশমিক ৫-এর পরিমাণ মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। যার ফলে নগরীর মানুষের স্বাভাবিক জীবন যাপনে হচ্ছে ভোগান্তি। নানা প্রকারের রোগ ব্যাধি আর বৃদ্ধ-শিশুদের শ্বাসকষ্টর মতো জটিল রোগব্যাধিতে ভুগতে হচ্ছে। স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে মাস্ক ব্যবহারসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বন ও পরিবেশ বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. আল আমিন বলেন, পিএম-১০ এবং পিএম ২ দশমিক ৫ হলো ব্ল্যাক কার্বন। এগুলো যত বেশি হবে তাপমাত্রার তারতম্যও তত বেশি হবে। চট্টগ্রাম শহরে বিভিন্ন ফ্লাইওভার নির্মাণ, সড়ক সংস্কার এবং ডিজেলচালিত যানবাহন বেশি হওয়ার কারণে এ ধরনের ধূলিকণার পরিমাণ বাড়ছে। এ ধরনের দূষণ রোধ করতে ডিজেলচালিত বাস ও ট্রাকের ইঞ্জিনে ফিল্টারের সংখ্যা বাড়াতে হবে।
বিশ্বব্যাংক পরিচালিত জরিপে ব্ল্যাক কার্বন বাড়ার জন্য ৫০ শতাংশ দায়ী করা হয় ইটভাটাগুলোকে। আবার গাড়ির কালো ধোঁয়া, বিভিন্ন জায়গায় ময়লা ফেলা, উন্মুক্তভাবে নির্মাণকাজ করার কারণেও বাতাসে ধূলিকণার পরিমাণ বাড়ছে। এ ধরনের দূষণ রোধে ইটভাটায় আধুনিক প্রযুক্তি, গাড়ির কালো ধোঁয়া এবং খোলা জায়গায় ময়লা-আবর্জনা ফেলা থেকে বিরত থাকতে হবে।

পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত নভেম্বরে তাদের পরিচালিত ক্লিন এয়ার অ্যান্ড সাসটেইনেবল এনভায়রনমেন্টের বায়ু পরিমাপ সূচক বিশ্নেষণ করে চট্টগ্রামে বাতাসে ছোট ছোট ধুলিকণার পরিমাণ পিএম-১০ রেকর্ড করা হয় ৩১৯। নভেম্বর মাস জুড়েই  বাতাসে এ ধরনের ধূলিকণা আর জীবাণু ছিল মাত্রাতিক্ত। নভেম্বরে পিএম-১০-এর গড় পরিমাণ ১৮৫, যা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি। পিএম ২ দশমিক ৫ রেকর্ড করা হয় সর্বোচ্চ ১১৯; যেখানে স্বাভাবিক মাত্রা হচ্ছে ৬৫। ডিসেম্বরে চট্টগ্রামের বাতাসে ধূলিকণার পরিমাণ ছিল ১৬০ পিএম। মাত্র একদিনের ব্যবধানে তার পরিমাণ বৃদ্ধি পায় ১৬৭ পিএম।

রাস্তার ধুলাবালির কারণে শিশু ও বয়স্কদের ফুসফুস এবং শ্বাসনালিতে সংক্রমণ এর মাত্রা অতিদ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।সঙ্গে বাড়ছে যক্ষ্ণা, ব্রঙ্কাইটিস, চোখের সমস্যা, বদহজম, অ্যালার্জিসহ ভাইরাসজনিত নানা সংক্রমণ রোগ।।অস্বাভাবিক হাড়ে ধুলাবালি আর জীবানু পরিবেশে বসবাস করার ফলে সাধারণ মানুষের দেহে সৃষ্টি হচ্ছে ক্যান্সার,কিডনি সমস্যা আর সর্দী। বিশেষ করে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও ছোট্ট শিশুরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: