Home » অর্থনীতি » চালের দাম বৃদ্ধিতেও ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত কৃষকেরা
চালের দাম বৃদ্ধিতেও ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত কৃষকেরা
চালের দাম বৃদ্ধিতেও ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত কৃষকেরা

চালের দাম বৃদ্ধিতেও ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত কৃষকেরা

বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত শুক্রবার বলেন, চালের কেজি ৪০ টাকা উপযুক্ত দাম। কেননা যারা খাদ্য উৎপন্ন করেন, তাদের ব্যাপারটাও মাথায় রাখতে হবে আমাদের।

অর্থমন্ত্রীর আবুল মাল আবদুল মুহিতের কথা যুক্তিসংগত মনে করে বলা যাচ্ছে, ‘তার কথার যথাযথ যুক্তি রয়েছে। তবে কৃষক কি তারপরও সঠিক প্রাপ্যটা পাচ্ছেন? সার, কীটনাশক, বীজ, ডিজেল এই সব কিছুর দাম কমাতে হবে। তবেই সার্থকতা আসবে, কৃষক মূল্যায়িত হবে।’
অবশ্য আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারের বিষয়টি মনে করিয়ে দিয়ে মুহসিন উদ্দিন লিখেছেন, ৪০ টাকা হলে কোনো ধরণের সমস্যার সৃষ্টি হবে না , কিন্তু ভয় হয় এ কারনে যে পূর্বের নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ সরকার বলেছিল ১০ টাকা কেজি চাল খাওয়াবে, কিন্তু খাইয়েছে ৭০ টাকায়! আর এবারের নির্বাচনের আগে বলছে ৪০ টাকা। ভয় হচ্ছে নির্বাচনের পর সে দাম ২৮০ টাকা না হয়ে যায়!

প্রতি কেজি চালের দাম ৪০ টাকা উপযুক্ত মনে করা হলেও বাস্তবিকপক্ষে দাম যে ৪০ টাকার বেশি, এ বিষয় নিয়েও মত প্রকাশ করেছেন অনেক পাঠক।
নাজিম উদ্দিন লিখেছেন, চালের দাম ৪০ টাকার মধ্যে থাকলেও তো মানুষ একটু খুশি হতো! কিন্তু যখন এই মূল্য ৮০ টাকার বেশি হয়ে যায় তখন মানুষের মন থেকে নাভিশ্বাস একদমই উঠে যায়।
মো. নুর মোহাম্মদ লিখেছেন, ‘মাননীয় অর্থমন্ত্রী আপনি কখনো ৪০ টাকা কেজি চাল খেয়েছেন? এখনো নিম্নতম ৪৩ টাকা কেজি সেই চাল, যেই চালের ভাত খেতে গন্ধ লাগে। আপনারা তো আর এ রকম খাবার খান না, তাই আমাদের কষ্ট গুলো আপনারা বুঝবেন না।’
শেখ মনিরুজ্জামান লিখেছেন, ‘কৃষককে বাঁচাতে হবে এ কথাও ঠিক। তবে চল্লিশ টাকায় যে চাল বাজারে পাওয়া যায়, সে চাল দেশি হাঁস-মুরগির খাবার। আমরা যখন বাজারে যাই তখন প্রথমে চালের দোকানে ঢুকি, চাল কেনার পর যা থাকে তা দিয়ে অন্যান্য বাজার করি।’ তিনি পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, পৃথিবীর বহু দেশে কৃষককে বাঁচাতে ভর্তুকি দেওয়া হয়, বেশি দামে ধান কিনে কম দামে চাল বিক্রয় করা হয়। এই প্রকল্প বাংলাদেশে চালু করুন।

রিয়াজ উদ্দিন লিখেছেন, ‘উনি একটি যুক্তিযুক্ত কথা বলেছেন! কিন্তু কথা হলো, চালের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে কোনোকালেই কোনো কৃষকের সম্পর্ক ছিল না, থাকবেও না। চালের বাজার অস্থির করে তোলে আড়তদার আর খুচরা বিক্রেতারা। এদের নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে মূল্য নির্ধারণ শুধুই সময় নষ্ট।
আবু সুফিয়ান লিখেছেন, ‘একমত। দেশের অধিকাংশ মানুষ আজও কৃষি পেশার সঙ্গে যুক্ত। তবে তাদের জমির পরিমাণ অনেক কম, তাই আয়ও কম। চালের দাম ৪০ টাকার নিচে হলে তাদের জন্য জীবিকা নির্বাহ কষ্টকর হবে এবং তারা ধানের উৎপাদন কমিয়ে দেবে। কারণ তখন ধান উৎপাদন তাদের জন্য লাভজনক থাকবে না।’
তানভির আলম পার্থ লিখেছেন অন্য কথা। তাঁর বক্তব্য হলো, ২০ / ২৫ টাকায় যখন চাল ছিল তখন কি কৃষকেরা খুব খারাপ ছিল? আর চালের কেজি ৪০ টাকা হলেও কি কৃষক ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে?

রনি সরদার অর্থমন্ত্রীর কথায় পুরোপুরি একমত পোষণ করেছেন, তিনি লিখেছেন, ‘তাঁর কথার যুক্তি আছে, কারণ কৃষকেরা বাড়তি মূল্যের সার, সেচ, বীজ, শ্রমিক ব্যবহার করে। ধানের দামে লাভের পরিবর্তে ক্ষতি হলে সেটা কীভাবে সহ্য করা যায়। যেমন গত বছর পাটের স্বল্প মূল্যের কারণে আমাদের প্রচুর লোকসান গুনতে হয়েছে। তাই বলছি, মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর কথায় সম্পূর্ণ যুক্তি আছে।’
সকল ধরনের শ্রমের মূল্য বেড়ে গেছে বলেছেন দীপঙ্কর রায়। তিনি লিখেছেন, ‘রিকশা ভাড়া বেড়ে গেছে খেয়াল করেছেন? কাজের লোকের বেতন বেড়ে গেছে সেটা খেয়াল করেছেন? সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন দ্বিগুণ হয়ে গেছে, তাহলে ধানচালের দাম বাড়বে না কেন?’

আরো পড়ুন-

কৃষকদের জন্য চালের দাম বাড়ানো – আবুল মাল আব্দুল মুহিত

চালের মজুদ স্তগিত হওয়ায় হাসি নেই কৃষকের মুখে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: