Home » খেলাধুলা » বিদায় নিলেন রোনালদিনহো
চিরতরে বিদায় নিলেন রোনালদিনহো
চিরতরে বিদায় নিলেন রোনালদিনহো

বিদায় নিলেন রোনালদিনহো

ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী তারকা রোনালদিনহোকে আর দেখা যাবে না জাদুকরী ফুটবল নিয়ে  খেরার মাঠে। সব ধরনের ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিলেন ব্রাজিলের হয়ে ২০০২ বিশ্বকাপ জয়ী তারকা রোনালদিনহো। ৩৭ বছর বয়সী পিএসজি এবং বার্সেলোনার সাবেক এ অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারের অবসরের সংবাদটি নিশ্চিত করেন তার ভাই এবং এজেন্ট রবার্তো অ্যাসিস বলেছেন যে তার সময় শেষ, সে ফুরিয়ে গেছে।

ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী তারকা রোনালদিনহো ১৯৯৮ সালে ব্রাজিলিয়ান ক্লাব গ্রেমিওর হয়ে ক্যারিয়ার শুরু করেন এবং ২০০১ সালে যোগ দিয়েছিলেন প্যারিস সেইন্ট জার্মেইয়েতে। ফরাসি ক্লাব পিএসজির হয়ে তার শৈল্পিক ফুটবল দেখে চোখ পড়ে  যায় বার্সেলোনার। সেখান থেকে তাই ২০০৩ সালে কাতালান ক্লাবটিতে যোগ দিয়েছিলেন এই ব্রাজিলিয়ান সুপার স্টার। ২০০৬ সালে বার্সেলোনাকে ১৪ বছরের অপেক্ষা গুছিয়ে  চ্যাম্পিয়ন্স লীগ শিরোপা এনে দিয়েছিলেন ২০০৫ সালে  ব্যালন ডি’অর জিতা এই ব্রাজিলিয়ান। অপরদিকে বার্সেলোনায় তিনি ছিলেন মেসির প্রথম ফুটবল জীবনের বড় ভাই, বন্ধু ও পথপ্রদর্শক। ২০১০-১১ মৌসুমে এসি মিলানের হয়ে লীগ শিরোপা জিতে বার্তা দিয়েছিলেন ফুটবলকে আরও অনেক কিছু দেওয়ার বাকি আছে তার। কিন্তু নাইট ক্লাবের বিশৃঙ্খল জীবন  এর সাথে জড়িয়ে পরায় ক্যারিয়ারটা বেশিদূর এগিয়ে নিতে পারেননি।

ব্রাজিলীয় ক্লাব ফ্লুমিনেনসের হয়ে ২০১৫ সালে সর্বশেষ পেশাদারি ফুটবল মাঠে নেমেছিলেন রোনালদিনহো। তার আগে ২০১১ সালে ফ্যামেঙ্গোতে ফেরেন রোনালদিনহো। এরপর অ্যাথলেটিকো মিনেইরো, মেক্সিকোর কেরেতারা এবং সর্বশেষ খেলেন ব্রাজিলিয়ান ক্লাব ফ্লুমিনেনসে। গত তিন বছর ধরে তিনি নিভৃতেই ছিলেন। গত জুলাইয়ে একটি প্রীতি ম্যাচে অংশ নিয়েছিলেন। সেখানেই বলেছিলেন, পেশাদারি ফুটবলে ফেরার বয়স তাঁর আর নেই।

এদিকে রোনালদিনহোর অ্যাসিস তার বিদায় সম্পর্কে জানিয়েছেন, রাশিয়া বিশ্বকাপের পরপরই রোনালদিনহোর বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হবে। পেশাদারি ফুটবল ছেড়ে দেওয়ার তিন বছরের মাথায় বিদায়ী সংবর্ধনা আয়োজিত হবে ব্রাজিলীয় তারকার জন্য।

আগস্টে এই বিদায়ী সংবর্ধনা আয়োজন করতে চান অ্যাসিস, ‘রোনালদিনহোর ফুটবল ক্যারিয়ার শেষ। সে বিদায় নিতে যাচ্ছে। তাই আমরা রাশিয়া বিশ্বকাপের পর আগস্টেই তাঁর জন্য সত্যিকার অর্থেই মনে রাখার মতো বড় কিছু আয়োজন করি।  ব্রাজিল, ইউরোপ ও এশিয়ায় এই আয়োজনগুলো করতে চাই। আর ব্রাজিলীয় ফুটবল দলের সঙ্গেও দারুণ কিছু আয়োজনের ইচ্ছা আছে।’

মেসি-রোনালদোর আবির্ভাবের আগে দিয়ে ফুটবল বিশ্ব বুঁদ হয়ে ছিল রোনালদিনহোর জাদুতে। অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হিসেবে তাঁর খেলায় ছিল নানামুখী বৈচিত্র্য। ২০০২ সালে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র ছিলেন। তাই তার বিদায়টা মনে রাখার মতো বড় কিছু  দিয়ে আয়োজন করা সত্যিই প্রাপ্য এই ফুটবল-জাদুকরের।

অনেকে বলেন, ক্যারিয়ারের শেষটা যে রাঙিয়ে যেতে পারলেন না, এই যে এমন নিভৃতে বিদায় নিতে হলো, এর দায় তাঁরই। মাঠের বাইরের জীবনে লাগাম পরাতে পারলে সর্বকালের সেরাদের ছোট তালিকায় সব সময়ই উচ্চারিত হতো তাঁর নাম। ফুটবলকে অনেক দিয়েছেন, তবে হয়তো আরও অনেক কিছু দিতে পারতেন। এই আক্ষেপ সঙ্গে নিয়েই বিদায় নিলেন রোনি!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: