Home » জাতীয় » জামালপুরে ভুমিদস্যুদের জমির মাটি বিক্রির ফলে কৃষক হতাশ!!
জামালপুরে ভুমিদস্যুদের জমির মাটি বিক্রির ফলে কৃষক হতাশ!!
জামালপুরে ভুমিদস্যুদের জমির মাটি বিক্রির ফলে কৃষক হতাশ!!

জামালপুরে ভুমিদস্যুদের জমির মাটি বিক্রির ফলে কৃষক হতাশ!!

কৃষকদের জীবন হচ্ছে মাটি আর মাটির ফসল। মাটিতে ফলানো ফসলের জন্য তারা সকল প্রকারের বাধা অতিক্রম করে আসছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ আর মানুষের সৃষ্টি বিপর্যয় এর অন্যতম কারণ। তবু কৃষক ভাইরা সংগ্রাম করে বেচে আছে তাদের সোনার ফসলের জন্য।

আর বতর্মানে আমাদের দেশে শুরু হয়েছে জমি দখল আর জোর জুলুম করে ভোগ করার রীতি।এমনটাই ঘটছে  জামালপুর সদর উপজেলায় জয়রামপুর ও ভাটিপাড়া এলাকায় । আওয়ামী লীগের এক সমর্থকের নেতৃত্বে ১৫-২০ জন কৃষকের ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে বিক্রি করচ্ছে বলে অভিযোগ জানা যায়। মাটি কেটে নেওয়ার ফলে এই জমিতে কয়েক বছর ভালো ফসল ফলবে না এমন কি চাষের মিত আর অবস্থাই থাকবে না বলে যানান কৃষকরা।

মাটি কাটার ঘটনায় জড়িত ওই ব্যক্তির নাম জালাল উদ্দিন। বাড়ি জয়রামপুর এলাকায় আর  তিনি আওয়ামী লীগের সমর্থক বলে জানান কৃষকরা। জেলার সরকারদলের বড় বড় নেতোদের সাথে তার উঠা বসা।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীর বলেন, ‘ফসলি জমির মাটি কাটার বিষয়ে কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। তারপরও ওই ভূমিদুস্যদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

স্থানীয় কয়েকজন কৃষক বলেন, ছয় মাস ধরে জালাল উদ্দিনের নেতৃত্বে চার-পাঁচজন শ্রমিক নিয়োগ করে জমির মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। তাঁরা প্রতিদিন ১০-১৫ ট্রাক মাটি বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করছেন। এসব মাটি রাস্তা ভরাট, বসতঘর নির্মাণসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।

গত বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিন দেখা যায়, ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী জয়রামপুর ও ভাটিপাড়া এলাকায় ২০-২৫ একর ফসলি জমি থেকে এক্সকাভেটর দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে। এতে জমির বিভিন্ন স্থানে ৭-৮ ফুট গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।

ভাটিপাড়া গ্রামের আবদুর রাজ্জাক অভিযোগ করেন, জালাল উদ্দিন তাঁর ১৭ শতাংশ জমি থেকে মাটি কেটে নিয়েছেন। তাতে তাঁর জমির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জমির মধ্যে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে তিনি এবার জমিতে কোনো ফসল চাষ করতে পারেননি। মাটি কাটতে অনেক নিষেধ করা হলেও জালাল উদ্দিন তা শোনেননি। বাধা দিতে গেলে তাঁর (জালাল উদ্দিন) বাহিনী দিয়ে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে।

ভাটিপাড়া গ্রামের কৃষক মতিউর রহমান বলেন, তাঁর ১৬ বিঘা জমি থেকে এক্সকাভেটর দিয়ে মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। মাটি তুলে বিক্রি করে দেওয়ায় প্রভাবশালীরা লাভবান হলেও তাঁর জমির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এবার তিনি ওইসব জমিতে কোনো চাষাবাদ করতে পারেননি।

হামিদপুর বানার এলাকার রফিকুল ইসলাম বলেন, ব্রহ্মপুত্র নদের ভাটিপাড়া ও জয়রামপুর এলাকায় তাঁর ৩২ বিঘা জমি আছে। জোর করে ভূমিদস্যুরা ওইসব জমির মাটি কেটে বিক্রি করছেন। জমি তাঁর হলেও ভূমিদস্যুরা নদীর জমি দাবি করে মাটি কেটে বিক্রি করছেন। বাধা দিতে গেলে নানা ধরনের হুমকি ও হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। এতে তিনিও ওইসব জমিতে এবার কোনো চাষাবাদ করতে পারেননি।

অন্যের জমি থেকে মাটি কাটার অভিযোগ অস্বীকার করে জালাল উদ্দিন বলেন, ‘যেসব জমি থেকে মাটি বিক্রি করা হচ্ছে, সেসব জমি নদীর ও আমার। জমির অনেক মালিকও মাটি বিক্রি করছেন। শুধু আমিই বিক্রি করছি, এটা ঠিক না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগের কোনো পদে না থাকলেও জেলার অনেক সরকারদলীয় নেতার সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক। এখন তাঁদের বললে আপনাকে ফোন করবে। সন্ধ্যার পর অনেক বড় নেতার অফিসে গিয়ে আমি আড্ডা দিই।’

জামালপুর জেলা পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন কমিটির সভাপতি জাহাঙ্গীর সেলিম গতকাল শুক্রবার বলেন, ‘কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি কেটে ফেলায় এর উর্বরতা হারিয়ে যায়। তবে ভূমিদস্যুরা যেভাবে মাটি কেটে বিক্রি করছে, তাতে ওই সব এলাকার কৃষক ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এ ছাড়া ওই এলাকার নদী ভাঙনের আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে নদীর গতিপথ পরিবর্তনও হয়ে যাবে।  বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানিয়েছি।’

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: