Home » জীবনধারা » জেনে নিন -কুকুরের উৎপাত থেকে বাচার উপায়
জেনে নিন -কুকুরের উৎপাত থেকে বাচার উপায়
জেনে নিন -কুকুরের উৎপাত থেকে বাচার উপায়

জেনে নিন -কুকুরের উৎপাত থেকে বাচার উপায়

কুকুর হতে সাবধান! জেনে নিন কিছু প্রয়োজনীয় কৌশল যার ফলে আপনি বেচে ফিরবেন ভয়ানক কুকুরের হাত থেকে।

বে-ওয়ারিশ কুকুরের উৎপাত থেকে বাচতে হলে জানতে হবে:

১). কুকুর দেখে দৌড় দেওয়া যাবে না।

২). কুকুরের দিকে ঢিল মারা যাবে না।

৩). কুকুরের খাওয়ার সময় বিরক্ত করা যাবে না।

৪). বাচ্চা যত্ন করার সময় কুকুরকে বিরক্ত করা যাবে না।

৫). কুকুরের লেজ ধরা যাবে না।

৬). কুকুরের চোখে চোখে তাকানো যাবে না।

৭). কুকুর দিয়ে শরীরের কোন অংশ লেহন বা চাটানো যাবে না।

৮). কুকুরের উপদ্রব কমাতে উচ্ছিষ্ট খাবার নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে।

জলাতঙ্ক (Hydrophobia) মূলত একটি ভাইরাসজনিত মরণব্যাধি। এর ইংরেজী নাম র‌্যাবিস (Rabis) । এটি ল্যাটিন শব্দ। যার অর্থ ‘পাগলামী করা’। জলাতঙ্ক আক্রান্ত পশু বা রোগীর আচরণ থেকেই এই নামকরণের সূত্রপাত।

সাধারণত কুকুর, বিড়াল, শেয়াল, বেজি, বানর, চিকা ইত্যাদি গরম রক্ত বিশিষ্ট প্রাণীই জলাতঙ্কের বাহক।

জলাতঙ্ক আক্রান্ত যে কোন প্রাণীর কামড়,আচড় এমনকি এদের লেহনেও জলাতঙ্ক রোগ হতে পারে।

বাংলাদেশে জলাতঙ্ক রোগের মূল কারণ জলাতঙ্ক আক্রান্ত কুকুর। এ রোগের লক্ষণ জল দেখলেই ভয় পাওয়া, জল খাওয়া বা পান করার সময় খাদ্য নালীর উর্ধভাগের মাংসপেশীতে ব্যথাসহ তীব্র সংকোচন হতে পারে। এ জন্যই এর নাম জলাতঙ্ক।

এই জলাতঙ্কে আক্রান্ত হলে কুকুর এবং মানুষ উভয়েরই মৃত্যু অনিবার্য। একটু সচেতন হলেই এ রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

কুকুর কামড়ানোর ১০ দিন পর (সাধারণত ৩ থেকে ৭ সপ্তাহের মধ্যে) জলাতঙ্কের প্রথম লক্ষণগুলো দেখা দেয়৷ লক্ষণ প্রকাশের পূর্বে চিকিৎসা শুরু করতে হবে৷

প্রতিরোধ:

১). পোষা কুকুর-বিড়ালকে জলাতঙ্কের টিকা দেওয়া উচিত।

২). যাদের (পশুডাক্তার, পশুব্যবসায়ী, পশুপালক) পশু কামড়ানোর সম্ভাবনা বেশি তাদের আগেই টিকা নেওয়া উচিত।

৩). জলাতঙ্ক রোগাক্রান্ত প্রাণী কামড় দিলে বা সন্দেহ হলে টিকা নিতে হবে এবং কামড়ানোর স্থানটি দ্রুত ভালোভাবে ধুয়ে ফেলতে হবে এবং দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

ইঞ্জেকশান রাবিপুর ০,৩,৭,১৪,২৮ এই পাঁচ দিনে মাংসপেশিতে নিতে হয়।

ঔষুধ ব্যবহারের ক্ষেত্রে রেজিষ্টার চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

জলাতঙ্ক আক্রান্ত কুকুরের লক্ষণঃ

১). জলাতঙ্ক রোগে কোনো কুকুর আক্রান্ত হলে পাগলের মতো আচরণ করা শুরু করে।

২). সামনে মানুষ বা পশু যাকেই পায় তাকেই কামড়াতে চেষ্টা করে।

৩). সর্বক্ষণ ঘেউ ঘেউ করে।

৪). মুখ দিয়ে লালা পড়ে (লালার সাথে জীবাণু নির্গত হয়);

৫). কুকুরটি খাওয়া বন্ধ করে দেয় এবং নিস্তেজ হয়ে পড়ে এবং কয়েক দিনের মধ্যে মারা যায়।

কুকুর বা অন্য কোনো পশু কামড়ালে দিশেহারা না হয়ে কুকুরটিকে ঘেরাও করে পর্যবেক্ষণ করা উচিত।

জলাতঙ্ক আক্রান্ত মানুষের লক্ষণ:

১). কামড়ের জায়গায় ব্যথা ও চিনিচিন করে।

২). জ্বর, ঢোক গিলতে ব্যথা ও খিঁচুনি হয়।

৩). পানি খেতে চায় না, পানি দেখলে ভয় পায়।

৪). খুব ঘন চটচটে লালা ঝরে।

৫). শান্ত থাকতে থাকতে হঠাৎ রেগে যায়।

৬). পরে রোগী অজ্ঞান হয়ে যায় এবং পক্ষাঘাত দেখা দেয়।

লক্ষণ প্রকাশ পাবার পর এ রোগের কোনো চিকিৎসা নেই এবং রোগীর মৃত্যু অনিবার্য (১০০%)।

তবে এই মারাত্মক রোগ সম্পূর্ণরূপে প্রতিরোধযোগ্য।

মানুষের জীবন আগে, নাকি কুকুরের ?

অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় বে-ওয়ারিশ কুকুরের জীবনের মূল্যই বেশি !!!

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: