Home » জাতীয় » অপরাধ » জ্যামিতিক হারে বাড়ছে মাদকাসক্ত
জ্যামিতিক হারে বাড়ছে মাদকাসক্ত
জ্যামিতিক হারে বাড়ছে মাদকাসক্ত

জ্যামিতিক হারে বাড়ছে মাদকাসক্ত

এখন কার সময়ের সবথেকে  আলোচিত বিষয় হচ্ছে মাদক সেবন। বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি, এনজিও, সামাজিক মাধ্যম, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ক্লাব আর জন সচেতনতা মূলক ছোট-বড় প্রতিষ্ঠান যাই হোক সবার সর্বোত্তম চেষ্টার ফলেও দিন দিন বেড়েই চলেছেন এই ভয়ানক আসক্ত। সরকারি-বেসরকারি আইন-কানুনের শেষ নেই এই মাদক দমনের। কিন্তু কমা তো দুরে থাক জ্যামিতিক হাড়ে বেড়ে চলেছে এর সংখ্যা।

সব কিছুকে পিছে ফেলে মাদকের কেনাবেচাও বেড়ে চলেছে পাল্লা দিয়ে। দেশের প্রতিটি সীমান্ত এলাকা থেকে শুরু করে খোদ রাজধানীতেও বসছে মাদকের খোলা হাটবাজার। লুকোচুরি নয়, বরং প্রকাশ্যেই বেচাকেনা চলছে ইয়াবা, ফেনসিডিল, গাঁজাসহ সব ধরনের মাদকদ্রব্য। মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর ও পুলিশের পৃথক পরিসংখ্যান সূত্রে জানা যায়, প্রভাবশালী ২০০ গডফাদারের তত্ত্বাবধানে এক লাখ ৬৫ হাজার পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতার সমন্বয়ে দেশব্যাপী মাদক-বাণিজ্যের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে। এই চক্রের সকল সদস্যরা হাট-বাজার, মাঠ-ঘাট, স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালত, রাস্তা-শপিংমল সকল জায়গাতে টাকা বিলিয়ে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে। বিলাচ্ছে কোটি কোটি টাকা আর বিনিময়ে মাদ্র সেবন দ্রব্য।

মাঝে মধ্যে কোথাও কোথাও প্রশাসনিক অভিযান পরিচালিত হলেও তা মাদক নেটওয়ার্কে কোনো রকম ব্যাঘাত ঘটাতে পারে না। বরং পুলিশের পাঁচ শতাধিক সদস্য ও বিভিন্ন পর্যায়ের সহস্রাধিক রাজনৈতিক নেতা-কর্মীকে উল্টো মাদক-বাণিজ্যে সম্পৃক্ত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মাদকাসক্তি নিরাময়ের কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত বিশেষজ্ঞরা ২০২০ সালের মধ্যে দেশে এক কোটি লোক নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ার আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন। তারা বলেছেন, প্রতি বছর শুধু নেশার পেছনেই খরচ ৬০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।

এই মূহূর্তে বিশেষজ্ঞরা মাদকসেবন থেকে ছেলে-মেয়েকে সচেতন করার আহ্বান করার অনুরোধ জানা। এই মুহূর্ত থেকেই সংশ্লিষ্টরা পারিবারিক ও সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে নেশামুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে সবাইকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।  অন্যথায় দেশের যাবতীয় অগ্রগতি নেশার আগ্রাসনের কাছে ম্লান হতে বাধ্য।

সারা দেশে র‌্যাব, পুলিশ, বিজিবিসহ মাদক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তাদের অব্যাহত অভিযান সত্ত্বেও মাদকের আগ্রাসী থাবা বন্ধ হচ্ছে না। সরকারি কঠোর পদক্ষেপের মধ্যেও মাদক ব্যবসায়ীরা আরও বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠছে। সচল রয়েছে তাদের সরবরাহ ব্যবস্থাও। তারা বিভিন্ন মাধ্যম আর যানের মাধ্যমে মাদক দ্রব্য স্থানান্তর করে চলেছে। এমন কি গরীব অভাবী ছেলে-মেয়েদের কে টাকার প্রলোভন দেখিয়ে েএই সব কাজ সমপন্ন করছে।মাঝে মধ্যে দেখা যাচ্ছে বাকপ্রতিবন্ধীদের মাধ্যমেও পাচার হচ্ছে ইয়াবা। এতে ইয়াবাসহ বোবারা ধরা পড়লেও তারা মূল মাদক ব্যবসায়ীর নাম-পরিচয় কিছুই জানাতে পারছে না, দিতে পারছে না স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি।

এ ছাড়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের স্টিকার, জেলা প্রশাসন ও পুলিশের স্টিকার লাগানো গাড়ি ব্যবহার করেও মাদক পাচার করছেন ব্যবসায়ীরা। দেশের অভ্যন্তরীণ ৪৭টি রুটের যানবাহন ও ট্রেনে অবাধে আনা-নেওয়া চললেও খুবই সীমিত পরিমাণ মাদক আটক করতে পারছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। রাজধানীর সর্বত্রই মাদক ব্যবসায়ী আর নেশাখোরদের চলছে দাপুটে তত্পরতা। গত বছর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর রেকর্ডপত্রে নগরীতে ৫৪২টি মাদক স্পট ছিল। এখন সে সংখ্যা বেড়ে হাজারে পৌঁছেছে।

অন্যদিকে ভারত থেকে ফেনসিডিলের পাশাপাশি বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে ইয়াবা ট্যাবলেট আসছে মুড়ি-মুড়কির মতো। প্রতিদিন ট্রেন, বাস ও ট্রাক ব্যবহার করে ফেনসিডিল, ইয়াবা, গাঁজা, হেরোইন, মাদক ইনজেকশন, যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট, মদ, বিয়ারসহ ১১ ধরনের নেশাজাত দ্রব্যের পাইকারি চালান ঢাকায় এসে পৌঁছাচ্ছে। মাদকের চালান যাচ্ছে অন্য জেলাগুলোতেও।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান না থাকলেও বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিবছর শুধু ভারত থেকেই অন্তত ১৫ হাজার কোটি টাকার মাদক আমদানি হয়ে থাকে। ফ্যামিলি হেলথ ইন্টারন্যাশনালের পরিসংখ্যানে বলা হয়, প্রতিবছর ভারত থেকে শুধু ফেনসিডিলই আসে তিন হাজার ৪৭ কোটি টাকার। দেশজুড়ে ইয়াবা আসক্তের সংখ্যা অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় এখন মাদক বাবদ সবচেয়ে বেশি টাকা পাচার হচ্ছে মিয়ানমারে। প্রতিদিন মিয়ানমার থেকে বিভিন্ন চোরাচালান পথে ৩০ লক্ষাধিক পিস ইয়াবা দেশে ঢুকছে বলে বিভিন্ন তথ্যসূত্রে জানা গেছে। সে হিসাবে শুধু ইয়াবা বাবদ প্রতিবছর অন্তত মিয়ানমারেই পাচার হয়ে থাকে ১৩ হাজার কোটি টাকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: