Home » খেলাধুলা » ক্রিকেট » জয় ভুলে পাকিস্তান এখন টানা হারের স্বাদ পাচ্ছে
জয় ভুলে পাকিস্তান এখন টানা হারের স্বাদ পাচ্ছে
জয় ভুলে পাকিস্তান এখন টানা হারের স্বাদ পাচ্ছে

জয় ভুলে পাকিস্তান এখন টানা হারের স্বাদ পাচ্ছে

পাকিস্তানের  বাজে ব্যাটিং পারফরম্যান্স দেখে তাদের অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ  হতাশা প্রকাশ করে বললেন একেবারেই আমাদের খারাপ ব্যাটিং হচ্ছে। নিউজিল্যান্ডের সাথে  সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে নেলসনে আজ  পাকিস্তানের স্কোরকার্ড দেখলে সরফরাজের কথার  প্রতি একটু সহানুভুতি হতেই পারে।  পাকিস্তানের ব্যার্টং ধসের মধ্যে থেকেও তাদের শেষের দিকের দুই ব্যাটসম্যান শাদাব খান আর হাসান আলীর দুটি ফিফটিতে যা একেবারে অকল্পনীয় সেই তাদের কল্যাণে টেনেটুনে ২৪৬ রানের পুঁজি দাঁড় করালেও অবশেষে ম্যাচটা ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিতে নিউজিল্যান্ডের কাছে ৮ উইকেটে হেরে যায় চ্যাম্পিয়নস ট্রফির বিজয়ীরা।

নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসের কথায় একমত হওয়া যায় যে, নেলসনের উইকেট কতটা ব্যাটিং- সহায়ক ছিল যখন টসের সময়ই তিনি  বলেছিলেন ভাগ্য  সাথে থাকলে এবং টসে জিতলে  বিনা দ্বিধায় প্রথমে ব্যাটিংটা বেছে নিতেন তিনি। সেক্ষেত্রে  ২৪৭ রানের টার্গেটটা যে খুব কঠিন হবে তাঁর দলের জন্য তা বুঝিয়ে দিয়েছেন ম্যাচটি ৮ উইকেটে  জয় লাভ করে। কিন্তু জয় তুলতে যদিও প্রথমেই কলিন মানরো আর  শেষের সময়ে  অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসকে হারিয়েছিল নিউজিল্যান্ড তবুও বেগ পেতে হয়নি।

নিউজিল্যান্ডে যখন ভ্যাট করতে ছিল ঠিক সেই সময় বৃষ্টিতে খেলা হয়নি প্রায় ঘণ্টা। এসময় কিউদের সংগ্রহ ছিল ১৩ ওভারে ২ উইকেটে ৬২ রান।বৃষ্টি থামার পর খেলা যখন শুরু হয় তখন ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিতে কিউইদের সামনে লক্ষ্য এসে দাঁড়ায়  ২৫ ওভারে ১৫১ রান।আর এই সময় ক্রিজে যদি মার্টিন গাপটিল আর রস টেলরি এর মতো ব্যাটিং থাকে তখন এই রান তারা করা তো কষ্টের কোন বিষয়ই নয়, আর যদি মাঠটি হয় নিজেদের চেনা মাঠ।ম্যাচের ফল ও হয়েছে তাই গাপটিল ৭১ বলে করেন ৮৭ রান যার মধ্যে ছিল ৫টি চার ও ৫ ছক্কার মার। আর টেলরের ৪৫ রান আসে মাত্র ৪৩বলে। কিউইদের  পতন হওয়া ২টি উইকেট নেন পাকিস্তানের মোহাম্মদ আমির ও ফাহিম আশরাফ।

এদিকে নিউজিল্যান্ডের দুই বোলার ট্রেন্ট বোল্ট আর টিম সাউদি এরা দুজনে তো  রীতিমতো আগুন ঝড়  ঝরিয়েছিলেন  পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ের উপর দিয়ে। তাদের ফাস্ট বোলারের শর্ট বলের ডেলেভারীতে রীতিমতো ভূমিধসের মতো ঝড়ে পরেছে পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানরা ।পাকিস্তানের ওপেনার ফখর জামানের ইনজুরির কারণে দলে সুযোগ পাওয়া ইনাম-আল-হক কিংবা অভিজ্ঞ আজহার আলী কিউদের—শর্ট বলের সামনে দাড়াতেই পারেনি।

এলবিডব্লু ফাঁদে পরে সাউদির বলে  আউট হন  আজহার। আর বোল্টের শর্ট বলে মানরোকে সহজ ক্যাচ দেন  ইনাম। পরোপুরি ব্যর্থ হয়েছেন বাবর আজম, শোয়েব মালিক, সরফরাজ আহমেদরা।আর ৭১ বলে ৬০ রান করে পাকিস্তানের মানসম্মান রক্ষা করেছেন মোহাম্মাদ হাফিজ। তাঁর বিদায়ের সময় পাকিস্তানের স্কোর ৬ উইকেটে ১২৭ রান আর এখান থেকে বাকি ব্যাটসম্যানরা  যে দলকে বেশি দূর টেনে নেবেন—এমন আশাতো ছিলই না।

কিন্তু আনপেডিক্টাবল তকমাটা যে শুধু পাকিস্তানের জন্যই মানায় সেটা আবারও প্রমান করলো তাদের দুই টেল এন্ডার ব্যাটসম্যান হাসান আলী আর শাদাব খান। তারাতো  অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন এবং ফিফটি করেছেন দুজনই। তারমধ্যে হাসান আলীর ইনিংসটি ছিল রীতিমতো  টর্নেডো।মাত্র ৩১ বলে ৫১ রান করেন তিনি। শাদাবের ব্যাটিং সে তুলনায়   ছিল ধীরস্থির, যা সে ৬৮ বলে করেন ৫২রান। কিন্তু এদুই ‘বোলার’ই পাকিস্তানের সংগ্রহ টেনে নিয়ে যায় ২৪৬-এ। যা দিয়ে স্বপ্ন দেখার সাহস করেছিল পাকিস্তান; কিন্তু গাপটিল, টেলর আর বৃষ্টি সে স্বপ্ন ভেঙে দিল।

পাকিস্তান ১২ ওয়ানডের ১১টি তেই জিতেছিল আরটানা নয় ওয়ানডে জিতে নিউজিল্যান্ডে এসেছিল আনপেডিক্টাবল ক্ষ্যাত পাকিস্তান। সেই পাকিস্তান এবার টানা হারের স্বাদ পাচ্ছে। নিউজিল্যান্ডের সাথে ৫ ম্যাচের সিরিজে স্বাগতিকরা  এগিয়ে গেল ২-০-তে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: