Home » অর্থনীতি » দক্ষ জনশক্তির বিনিময়েও কমছে বিদেশি রেমিট্যান্স
দক্ষ জনশক্তির বিনিময়েও কমছে বিদেশি রেমিট্যান্স
দক্ষ জনশক্তির বিনিময়েও কমছে বিদেশি রেমিট্যান্স

দক্ষ জনশক্তির বিনিময়েও কমছে বিদেশি রেমিট্যান্স

বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর বৈধ পথে চাকরি নিয়ে বিদেশে যাচ্ছে হাজার হাজার দক্ষা জনশক্তি। তার পরও দেশে তুলনা মুলক ভাবে রেমিট্যান্স বাড়ছে বরং রেমিট্যান্স কমেছে।বাংলাদেশ থেকে বৈধ পথে ছয় বছরে ৩৭ লাখ ৬৪ হাজার ৮৭২ জন লোক বিদেশ গেছেন। কিন্তু সেই তুলনায় রেমিট্যান্স বাড়ছেনা কেন এই বিষয়টি এখনও অজানা। সরকার এ বিষয়ে গবেষনা করছে বালে জানান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত । প্রবাসীদের ইনসেনটিভ করতে চেষ্ট করছে বলে বিএসসি কে জানান,  প্রসাসী কল্যাণমন্ত্রী নুরুল ইসলাম ।কিন্তু অর্থ মন্ত্রণালয়কে এই কাজাটি করতে হবে।

বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশির সংখ্যা বাড়লে ও বাড়ছেনা প্রবাসী আয়।গত বছর বাংলাদেশ থেকে প্রায়  ১০ লাখ ৮ হাজার ৫২৫ জন কর্মী চাকরি নিয়ে বিদেশ গেছেন। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের হিসাবে ২০১৭ সালে রেমিট্যান্স এসেছে ১৩ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলার, যা গত ছয় বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। ২০১৬ সালে রেমিট্যান্স আসে ১৩ দশমিক ৬০ বিলিয়ন ডলার। তার আগের বছর ২০১৫ সালে বিদেশ থেকে আসে ১৫ দশমিক ২৭ বিলিয়ন ডলার। ২০১৫ সালে ইতিহাসের সব চেয়ে বেশি রেমিট্যান্স আসে। ২০১৪ সালে আসে ১৪ দশমিক ৯৪ বিলিয়ন ডলার। ২০১৩ সালে ১৩ দশমিক ৮৩ এবং ২০১২ সালে ১৪ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলার। ২০১৭ সালে প্রবাসী আয় ২০১২ সালের চেয়েও কম।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে কর্মীদের আয় কমে যাওয়া ও অবৈধ মোবাইল ব্যাংকি এর ব্যবাহর হলো রেমিট্যান্স কমার প্রধান কারণ হিসাবে চিহ্নিত করেন বিশেষজ্ঞরা। ২০১৭ সালে রেকর্ড সংখ্যক কর্মী বিদেশ গেলও সেখানে অদক্ষ প্রমিকের সংখ্যা ছিল বেশি যাদের আয় অনেক কম।তারা যে টাকা  পান, সেই টাকার বড় অংশই চলে যায় বিদেশে থাকা-খাওয়ায় যার করনে তারা দেশে টাকা পাঠাতে পারেন না। জ্বালানি তেলের দাম পড়ে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো অর্থনৈতিক মন্দাকে রেমিট্যান্স কমার কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে। কিন্তু বিশ্নেষণে দেখা যায়, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া থেকেও রেমিট্যান্স কমেছে। এ দুই দেশ থেকে রেমিট্যান্স কমার হার মধ্যপ্রাচ্যের চেয়েও বেশি।

সিঙ্গাপুর থেকে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে রেমিট্যান্স এসেছে ৩৮৭ মিলিয়ন ডলার। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এসেছে ৩০০ মিলিয়ন ডলার। গড়ে ২৩ শতাংশ কমেছে। সৌদি আরব থেকে ২০১৫ সালে দুই হাজার ৯৫৫ মিলিয়ন ডলার এসেছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এসেছে দুই হাজার ২৬৭ মিলিয়ন ডলার। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের ছয় মাসে এসেছে ১২০২ মিলিয়ন ডলার। বরং সৌদি থেকে চলতি অর্থবছরে রেমিট্যান্স প্রবাহ আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে মালয়েশিয়া থেকে রেমিট্যান্স এসেছে এক হাজার ৩৩৭ মিলিয়ন ডলার। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এসেছে এক হাজার ১০৩ মিলিয়ন ডলার।  এ অর্থ বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত এসেছে ৫০৩ মিলিয়ন ডলার। অথচ গত আড়াই বছরে দেড় লাখ বাংলাদেশি নতুন করে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে যুক্ত হয়েছেন।
কিন্তু প্রবাসী কর্মীরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা দেওয়া ‘বিকাশ’, ‘রকেট’, মোবিক্যাশ’, ‘ইউক্যাশ’ মধ্যপ্রাচ্যের দেশ, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরেও রয়েছে।

সিঙ্গাপুর থেকে বাংলাদেশি কর্মী ছোটন আহমেদ জানান, সে দেশে বাঙালি অধ্যুষিত এলাকাগুলোর দোকানে দোকানে বাংলাদেশের মোবাইল ব্যাংকিং সেবা রয়েছে। তারা সেখানে টাকা দেন, কয়েক মিনিটের মধ্যে দেশে স্বজনের মোবাইলে তা পৌঁছে যায়।
মোবাইল ব্যাংকিং বলা হলেও আদতে তা হুন্ডি। বিদেশ থেকে দুই উপায়ে বিদেশ টাকা পাঠানো যায় । প্রথম উপায়ে বিদেশ থেকে দেশে টাকা পাঠাতে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে যে বাংলাদেশি সিম ব্যবহার করা হয় তা আন্তর্জাতিক রোমিং করা থাকে। যে পরিমাণ টাকা দেশে পাঠানো হয়, তার সমপরিমাণ বিদেশি মুদ্রা নেন মোবাইলের মাধ্যমে টাকা পাঠানো ব্যবসায়ীরা।  বিদেশে বসে মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবসা করা ‘এজেন্টদের’ অ্যাকাউন্ট বাংলাদেশ থেকেই রিচার্জ করা হয়।

বিদেশ থেকে দেশে টাকা পাঠাতে এজেন্টরা হাজারে ২০ টাকা চার্জ নেন, যা বাংলাদেশে ১০ থেকে ১৮ টাকা ৫০ পয়সা। বৈধভাবে দেশে টাকা পাঠাতে হাজারে ৩০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত ব্যয় হয়। অল্প খরচে টাকা পাঠানোর সুযোগ পেয়ে প্রবাসী কর্মীরা অবৈধ মোবাইল ব্যাংকিংকে বেছে নেন।

প্রবাসীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের অনেকে বিদেশে অতিরিক্ত সময় কাজ করেন। এ আয়ের বৈধ প্রমাণ তাদের নেই। এ কারণে চাইলেও ব্যাংকের মাধ্যমে দেশে টাকা পাঠাতে পারেন না। তাই অবৈধ মোবাইল ব্যাংকিং বেছে নেন। এ পদ্ধতিতে দেশে টাকা পাঠাতে হাজারে ২০ থেকে ২৫ টাকা খরচ হয়।

বাংলাদেশে রিজার্ভের বড় একটি অংশ রেমিট্যান্স। বছর বছর প্রবাসী আয় কমলে রিজার্ভ কমবে বলে সতর্ক করেছেন অভিবাসন গবেষণাবিষয়ক প্রতিষ্ঠান রামরুর নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. সি আর আবরার। তার পরামর্শ, দেশে টাকা পাঠানোর পদ্ধতি আরও সহজ করা উচিত। রেমিট্যান্স পাঠানোর ফি হওয়া উচিত নামমাত্র। তিনি আরো বলেন  বলেন, প্রবাসীরা  বিদেশ থেকে যে অর্থ আয় করেন তাতে সরকারের কোন ধরনের হাত নেই। তাই তাদের টাকা দেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে ফি থাকা উচিত নয়। এ সুবিধা চালু না করলে রেমিট্যান্স কমতেই থাকবে। কারণ প্রবাসীদের সামনে এখন এখন  অনেক বিকল্প পথ রয়েছে দেশে টাকা পাঠানোর ।

অধিকাংশ প্রবাসী  বলেন, তারা বৈধ পথেই টাকা পাঠাতে চান। কিন্তু তাদের কম খরচে টাকা পাঠানোর সুযোগ দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজির মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, কর্মীর সংখ্যা বাড়লেও রেমিট্যান্স কমছে। এর কারণ রেমিট্যান্স অবৈধ পথে আসে । তাদের ‘ইনসেনটিভ’ দিলে রেমিট্যান্স তিনগুণ হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: