Home » জাতীয় » দিনাজপুরে ৩.২ ডি.সে. সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড
দিনাজপুরে ৩.২ ডি.সে. সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড
দিনাজপুরে ৩.২ ডি.সে. সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড

দিনাজপুরে ৩.২ ডি.সে. সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড

সারা দেশে বইছে ভয়াবহ শৈতপ্রবাহ। দিনে দিনে মনে হচ্ছে শিত আরো ভয়াবহ হয়ে আসছে। দিনে রাতে মিলে থাকছে সমান হাড়ে শীত। তীব্র শিতে যেনো জনজীবন থমকে দাড়িয়েছে। ছোট বড় বৃদ্ধ কেউই রেহায় পাচ্ছেনা শিতের হাত থেকে। মনে হচ্ছে দিনের বেলার কাঠ ফাটানো সূর্য্যও নিভে গেছে।

বাংলাদেশের সব অঞ্চলেই শীতের আমেজ একই। তবুও রেকর্ড পরিমান তাপমাত্রায় নামছে কিছু কিছু অঞ্চলে। গত বুধবার থেকে দিনাজপুরে শৈত্যপ্রবাহ শুরুর পর তাপমাত্রাও কমতে শুরু করে। গতকাল দিনাজপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৫.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজকে তা ছাড়িয়ে নেমে এসেছে ৩.২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। আর ধারনা করা হচ্ছে এটাই গত ৪৫ বছরের রেকর্ড ভাঙ্গা দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। গত বছরগুলির শীত মৌসুমে দিনাজপুরের এটিই সর্বনিম্ন তাপমাত্রার বলে দাবি স্থানিয়দের। এর আগে ২০১৩ সালে এই তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল।

এদিকে শীতে হতদরিদ্র ও ছিন্নমুল মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছেই চলেছে। ভোগান্তির কোন রূপ চিহ্নের পরিবর্তন হচ্ছেনা। প্রচণ্ড ঠাণ্ডার কারনে শ্রমজীবী মানুষেরা ঠিকমত কাজ করতে পারছেন না। কৃষি শ্রমিকরা পড়েছেন চরম দুর্ভোগে।

দিনাজপুর আঞ্চলিক আবহাওয়া অফিস জানান, সোমবার দিনাজপুরে সর্বনিম্ন ৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। ১৯৪৮ সালের পরে  ২০১৩ সালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৩.২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমেছিল।

আগামী দুইদিনে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে বলে জানান দিনাজপুর আঞ্চলিক আবহাওয়া অফিসের এই কর্মকর্তা।

হাড় কাঁপানো কনকনে এই শীতে ব্যাহত হচ্ছে এই অঞ্চলের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। সকাল ১০টা পর্যন্ত রাস্তা-ঘাট ফাঁকাই থাকছে।কর্মস্থলগুলি শ্রমিক শুণ্য। অভাবি পরিবারগুলোতে নেমেছে আরো অভাব। শীশু-বৃদ্ধ শীতের হাত থেকে রক্ষার চেষ্টা চালিয়েও ব্যর্থ। ঘরে পুরনো যেকটি গরম কাপড় আছে তাতেও মানছে না শীতের আঘাত। তাদের দূর্ভোগ কমছেইনা। বাধ্য হয়ে ক্ষর-কুটো দিয়ে জ্বালাচ্ছে আগুন।আগুনের উষ্ণতায় যেটুকু উষ্ণতা পাচ্ছে তারা।

এদিকে দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলম জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শীতার্তদের মাঝে ৭০ হাজার কম্বল বিতরণ করেছে এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে আরো ৮০ হাজার শীতবস্ত্র চেয়ে জরুরি বার্তা পাঠানো হয়েছে। দুস্থ, দরিদ্র ও অসহায় মানুষদের শীত নিবারণের জন্য প্রশাসনের পাশাপাশি বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন  তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: