Home » খেলাধুলা » নিউজিল্যান্ডে কিউওয়াশ পাকিস্তান
নিউজিল্যান্ডে কিউওয়াশ পাকিস্তান
নিউজিল্যান্ডে কিউওয়াশ পাকিস্তান

নিউজিল্যান্ডে কিউওয়াশ পাকিস্তান

এজন্যইতো আনপেডিকটাবল বলা হয় পাকিস্তান দলকে। কারণ গত ১২ ওয়ানডেতে মাত্র ১টি ম্যাচে হার। এর মধ্যে টানা ৯ ম্যাচ জিতে পাকিস্তান দল পা রেখেছিল নিউজিল্যান্ডের মাটিতে। বাকিটা  অবশ্য ইতিহাস! চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে রূপকথার জন্ম দিয়ে একের পর এক ওয়ানডে জিততে থাকা পাকিস্তান নিউজিল্যান্ডে কী ধবলধোলাইটা না হলো!

ওয়েলিংটনে আজ পঞ্চম ও শেষ ওয়ানডেতেও হেরেছে, চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে বাজিমাত করা পাকিস্তান দল। শেষ ম্যাচে লজ্জা এড়ানোর  জন্য মরণপণ চেষ্টা করেছিল তারা। ওয়েলিংটনে শেষ পর্যন্ত  পাকিস্তান হেরেছে ১৫ রানে। আর এতে করেই ৫-০ ব্যবধানে, ধবলধোলাই হলো পাকিস্তান। ওয়ানডে ইতিহাসে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে তৃতীয় বার ধবলধোলাই হওয়ার লজ্জায় ডুবল পাক বাহিনী। আর নিউজিল্যান্ডের জন্য এটা ওয়ানডেতে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে পাকিস্তানকে প্রথম বারের মত ধবলধোলাই করার গৌরব।

ওয়েলিংটনে শেষ ম্যাচে তাই এই লজ্জা এড়ানোর চ্যালেঞ্জ ছিল পাকিস্তানের জন্য। কিন্তু মার্টিন গাপটিল এর সেঞ্চুরি এবং রস টেলরের (৫৯) ফিফটিতে ৭ উইকেটে ২৭১ রানের স্কোর গড়ে নিউজিল্যান্ড। গাপটিল ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১৩তম সেঞ্চুরি তুলে নেন এবং এতে করেই তাঁর সেঞ্চুরিতে জয়ের ভিত পেয়ে যায় কেন উইলিয়ামসনের কিউ বাহিনী।

নিউজিল্যান্ডের ২৭১ রানের জবাবে হারিস সোহেল এর (৬৩) ও শাদাব খানের (৫৪) রান করার পরও প্রায় তীরে গিয়ে তরি ডুবেছে পাকিস্তান। ১ ওভার হাতে রেখেই ১৫ রানের জয় তুলে নেয় নিউজিল্যান্ড। উপমহাদেশের দলটি অলআউট হয়েছে ২৫৬ রানে। নিউজিল্যান্ডের  এ জয়ে বড় অবদান রাখে  ম্যাট হেনরি  ও মিচেল স্যান্টনার। তারা দুজনেই ৭ উইকেট তুলে নিয়েছে। আর এদিকে পুরো ওয়ানডে সিরিজেই দারুণ ব্যাটিং করায় সিরিজসেরার সঙ্গে ম্যাচসেরাও হয়েছে মার্টিন গাপটিল।

নিউজিল্যান্ডের মাটিতে এ নিয়ে টানা ১০ ম্যাচ হারল পাকিস্তান। ১৯৮৭-৮৮ মৌসুমে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে প্রথমবারের মতো ৫-০ ব্যবধানে হেরেছিল পাকিস্তান। ২০০৯-১০ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একই ভাগ্য বরণ করে নিতে হয় তাদের। এবার সেই অস্ট্রেলিয়ারই ‘তাসমানিয়ান’ প্রতিবেশী নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেও ধবলধোলাইয়ের লজ্জা পেল পাকিস্তান।

পাকিস্তান তাদের ক্রিকেট ইতিহাসে খুব বেশিবার কিন্তু এমন লজ্জায় পড়েনি। হোয়াইটওয়াশের শিকার এর আগে হয়েছে ৯ বার। ২ ম্যাচ সিরিজকে বিবেচনায় নিলেও সংখ্যাটি সব মিলিয়ে ১৫ বার। সর্বশেষ চারবারের তিনবারই পাকিস্তানকে ধবলধোলাইয়ের লজ্জা দিয়েছে নিউজিল্যান্ড। অথচ ২০১৫ সালের আগে এ দলটির বিপক্ষে একবারও হোয়াইটওয়াশ হয়নি পাকিস্তান। এর মধ্যে পাকিস্তানকে বাংলাওয়াশ করেছে বাংলাদেশও।

পাকিস্তান সবচেয়ে বেশি হোয়াইটওয়াশ হয়েছে ইংল্যান্ডের কাছে, চারবার। এরপর নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া; তিনবার করে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে তারা ধবলধোলাই হয়েছে দুবার। ভারত, শ্রীলঙ্কা ও  বাংলাদেশের  কাছে  একবার  করে।

পাকিস্তানের হোয়াইটওয়াশ এর তালিকা
প্রতিপক্ষ ভেন্যু মৌসুম ফল
ইংল্যান্ড ইংল্যান্ড ১৯৭৮ ২-০
ওয়েস্ট ইন্ডিজ পাকিস্তান ১৯৮০/৮১ ৩-০
ইংল্যান্ড ইংল্যান্ড ১৯৮২ ২-০
ভারত ভারত ১৯৮৩/৮৪ ২-০
ইংল্যান্ড পাকিস্তান ১৯৮৭/৮৮ ৩-০
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৯৮৭/৮৮ ৫-০
অস্ট্রেলিয়া পাকিস্তান ১৯৯৮/৯৯ ৩-০
শ্রীলঙ্কা পাকিস্তান ১৯৯৯/০০ ৩-০
অস্ট্রেলিয়া অস্ট্রেলিয়া ২০০৯/১০ ৫-০
ইংল্যান্ড আরব আমিরাত ২০১১/১২ ৪-০
অস্ট্রেলিয়া আরব আমিরাত ২০১৪/১৫ ৩-০
নিউজিল্যান্ড নিউজিল্যান্ড ২০১৪/১৫ ২-০
বাংলাদেশ বাংলাদেশ ২০১৫ ৩-০
নিউজিল্যান্ড নিউজিল্যান্ড ২০১৫/১৬ ২-০
নিউজিল্যান্ড নিউজিল্যান্ড ২০১৭/১৮ ৫-০

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: