Home » জাতীয় » নির্বাচনকে ঘিরে যেকোনো মোকাবেলায় প্রস্তুত বিএনপি
নির্বাচনকে ঘিরে যেকোনো মোকাবেলায় প্রস্তুত বিএনপি
নির্বাচনকে ঘিরে যেকোনো মোকাবেলায় প্রস্তুত বিএনপি

নির্বাচনকে ঘিরে যেকোনো মোকাবেলায় প্রস্তুত বিএনপি

আগামী নির্বাচন নিয়ে সরকার যে ‘নিয়ন্ত্রিত ষড়যন্ত্র করছে সেই বিষয় নিয় বিএনপির নেতা কর্মীরা আশঙ্কায় রয়েছে। দলটি  জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এই ষড়যন্ত্রের মোকাবেলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।মাঠ পর্যায়ে নেতাকর্মী দের মাঝে এ বার্তা পৌছে দেন দলের ৭৭টি সংগঠন ।নির্বাচন সামনে রেখে সংগঠনটি বেশ কিছু নির্দেশনা   দিয়েছে তাদের নেতা কর্মীদের।

বিএনপি আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের সকল নেতাকর্মীদের বিশষ প্রস্তিতি নেওয়ার কথা জানান। । দলটির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মামলার রায়ে সাজা হওয়ার আশঙ্কায় এ বার্তা পাঠিয়েছে । হতাশ হওয়া যাবে না প্রয়োজন হলে ঘরোয়া ভাবে বৈঠক করে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে হবে। কারও জন্য অপেক্ষা করার মতো সময় এখন আর নেই।

দলটিকে আরও শক্তিশালী করতে বিএনপি  নান সংগঠন কাজ করছে বলে জানান দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ।দলটিকে শক্তিশালী করার লক্ষে সারাদেশে  ৭৭টি সাংগঠনিক টিম কাজ করছে।দলটির’ ভিশন ২০৩০’ জনগনের সামনে তুলে ধরার পাশাপাশি  আওয়ামী লীগ কর্তৃক গণতন্ত্র হত্যা, মানবাধিকার হরণ, অত্যাচার-নির্যাতন তুলে ধরছে নেতাকর্মীরা।

বিএনপির হাই কমান্ডার ৭৭টি টিম গঠন করে সারাদেশে সারা দেশে পাঠিয়েছেন।গত ২৬ থেকে ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে সাংগঠনিক সফর সম্পন্ন করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সব জেলা সফর শেষ করতে না পারায় এই সয়কে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় বৃদ্ধি করা হয়। বর্তমানে সাংগঠনিক টিমের সদস্যরা দেশের বিভিন্ন জেলায় দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কর্মিসভায় ব্যস্ত রয়েছেন।

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুটি মামলার নতুন বছরের প্রথম দিকে রায় হয়ে যেতে পারে। গতকাল সোমবার খালেদা জিয়ার আরও ১৬টি মামলা বিশেষ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধেও গ্রেনেড হামলা মামলার বিচার শেষ পর্যায়ে। দলের দুই শীর্ষ নেতা মামলার রায়ে সাজাপ্রাপ্ত হয়ে নির্বাচনে ‘অযোগ্য’ ঘোষণার আশঙ্কা করছেন রাজনৈতিক বিশ্নেষকসহ দলের নেতাকর্মীরা। এতে দলের নেতৃত্বশূন্যতা তৈরির আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। এ পরিস্থিতিতে নেতাকর্মীদের হতাশাগ্রস্ত না হয়ে ধৈর্য ধারণ করে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে চায় দলটি। এ পরিকল্পনা থেকে আগামীতে কোনো সংকট দেখা দিলে তা কীভাবে মোকাবেলা করতে হবে- তারও দিকনির্দেশনা পাঠিয়েছে দলের হাইকমান্ড।

অবশ্য বিএনপির সিনিয়র নেতারা জানান, দলের শীর্ষ দুই নেতা খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ বহু সিনিয়র নেতা এর আগে একসঙ্গে কারারুদ্ধ হয়েছিলেন। তখনও বিএনপি নেতৃত্ব সংকটে পড়েনি। দল ভাঙার চেষ্টা করেও লাভ হয়নি। আবারও দুই শীর্ষ নেতৃত্ব খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান সাজাপ্রাপ্ত হলেও নেতৃত্ব সংকট হবে না। দল পরিচালনার ব্যাপারেও একটি ‘গাইডলাইন’ তৈরি করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সমন্বিত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দলের সব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এ সময় দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করবেন। সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে বৈঠক ও যোগাযোগ করে দলের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেবেন।

সিনিয়র নেতারা আরও জানান, মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীরা খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান সাজাপ্রাপ্ত হলেও যাতে হতাশ না হন, সে ব্যাপারে আশ্বস্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে হাইকমান্ড। আগামী দু-তিন মাসের মধ্যে সাজা হলে খালেদা জিয়াকে ছাড়াই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে হতে পারে। এ ছাড়া দলের আরও সিনিয়র নেতারও বিভিন্ন মামলায় সাজা হয়ে যেতে পারে। অবশ্য উচ্চ আদালতেও আইনি লড়াইয়ের সুযোগ থাকবে। তারপরও খালেদা জিয়াসহ সিনিয়র নেতাদের নির্বাচনের বাইরে রাখার নানা শঙ্কা রয়েছে দলটির মধ্যে।

রংপুরের সাংগঠনিক টিমের নেতৃত্বে থাকা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সমকালকে বলেন, আবারও একটি নিয়ন্ত্রিত নির্বাচনের ষড়যন্ত্র চলছে। ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করছে মানুষ। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিএনপির সাংগঠনিক টিম আন্দোলন ও নির্বাচন- দুটির প্রস্তুতি নিতে নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দিচ্ছে।

সূত্র আরও জানায়, গুম, খুন, মানবাধিকার লঙ্ঘন, দুর্নীতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিসহ সরকারের বিভিন্ন নেতিবাচক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতেও নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দিচ্ছে সাংগঠনিক টিম। নেতাকর্মীদের আসনভিত্তিক একটি শক্তিশালী অবস্থান গড়ে তোলার নির্দেশনা দিয়েছে দলটি। আগামী নির্বাচনে দলের সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতাদেরও যার যার এলাকায় দলের নেতাকর্মীদের আগামীতে কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত করারও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

সূত্র জানায়, তৃণমূল পর্যায়ে বিএনপির অন্তর্কলহ রয়েছে। সফররত দলের নেতারা মাঠপর্যায়ের চিত্র দেখে খুশি নন। কোন্দলের কারণে অনেক জেলা ও থানা কমিটিও গঠন করা যাচ্ছে না। দলের অস্তিত্ব রক্ষায় সব ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ারও পরামর্শ দিয়ে আসছেন কেন্দ্রীয় নেতারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: