Home » অন্যান্য » নিশাচর পাখির জানা-অজানা ১০টি বিষ্ময়কর তথ্য
নিশাচর পাখির জানা-অজানা ১০টি বিষ্ময়কর তথ্য
নিশাচর পাখির জানা-অজানা ১০টি বিষ্ময়কর তথ্য

নিশাচর পাখির জানা-অজানা ১০টি বিষ্ময়কর তথ্য

নিশিতে আকাশে বেশ কিছু ধরনের পাখি ঘুরে বেরায়। এজন্য এসব পাখিকে নিশাচর পাখি বলে। আর এসব নিশাচর পাখির মধ্যে অনেক পাখি রয়েছে। এদের মধ্যে পেঁচা একটি নিশাচর পাখি। নিশাচর পাখি পেঁচাকে নিয়ে তিাই বিভিন্ন সমাজে বিভিন্ন রকম ধারণা, সংস্কার প্রচলিত রয়েছে। অনেকে আবার এ পাখিকে অশুভ প্রতীক বলে মনে করেন। কোনো কোনো সমাজে পেঁচার ডাক শুনতে পেলে বাড়ির সিঁড়িতে পানি ঢেলে দেওয়া হয়। মনে করা হয়, এতে পেঁচার অশুভ প্রভাব থেকে বাড়ি সুরক্ষিত থাকে।

তবে বিজ্ঞানীরা পেঁচাকে শুভ কিংবা অশুভ কোনোটাই মানতে নারাজ। পেঁচা অন্য সবার মতোই প্রাণিজগতের একজন সদস্য। আর পেঁচার রয়েছে কিছু অদ্ভুত বৈশিষ্ট্য যা হয়তো অনেকেরই অজানা। আবার কিছু সম্প্রদায়ের কাছে এ পাখি পূজনীয়। সনাতন ধর্মমতে লক্ষ্মীর বাহন পেঁচা।

পেঁচার বৈশিষ্ট্য গুলো খুবই অদ্ভুদঃ

১. পেচার অজানা বেশ্ট্যি গুলোর মধ্যে গ্রেট হর্ন্ড পেঁচাসহ কিছু প্রজাতির পেঁচারা পানিতে সাঁতার কাটতে পারে। যা এদের একটি বৈশ্ষ্ট্যি। শিকার ধরতে প্রায়ই পেঁচাকে জলাশয়ের কাছাকাছি যেতে হয় এবং পালক ভিজে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু পেঁচার মতো ভারী পালকের পাখির পক্ষে ভেজা পালক নিয়ে ওড়া সম্ভব না। তখন এরা ডানার সাহায্যে সাঁতরে তীরে পৌঁছায়।

২. রাতে আকাশে উড়ে বেড়ার কারনে পেঁচাকে সাধারণত নিশাচর পাখি বলা হয়। কিন্তু সব পেঁচা নিশাচর না। গ্রেট গ্রে, নর্দান হক্‌, নর্দান পিগমিসহ পেঁচার আরও কয়েকটি প্রজাতি রয়েছে যারা দিনের বেলা শিকার করে। তবে এদের নিশাচর না হওয়ার জন্য দায়ী বিবর্তন। কারণ, এরা যেসব অঞ্চলে বসবাস করে সেখানে রাতের বেলা তেমন কোনো শিকার পাওয়া যায় না।

৩. পেঁচার আরেকটি বিস্ময়কর বৈশিষ্ট্য রয়েছে। আর সেটা হলো এর ঘারের বৈশিষ্ট্য। পেঁচার ঘাড়ে ১৪টি অস্থিসন্ধি থাকে। মানুষের ঘাড়ে থাকে এর অর্ধেক। এ অনন্য দেহ বৈশিষ্ট্যের জন্য পেঁচার ঘাড় ২৭০ ডিগ্রি পর্যন্ত ঘুরে যেতে পারে। এ দক্ষতা পেঁচাকে টিকে থাকতে সাহায্য করে। এরা সহজে চোখ নাড়াতে পারে না। ফলে ঘাড় ঘুরিয়ে চারপাশের উপর নজর রাখতে হয় এদের।

৪. পেঁচাদের মধ্যে কিউবার ‘জায়ান্ট আউল’ হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আকৃতির পেঁচা। এদের উচ্চতা প্রায় সাড়ে তিন ফুট। তবে এরা অনেক আগেই বিলুপ্ত হয়ে গেছে এবং গবেষকরা নিশ্চিত না যে এরা উড়তে পারতো কিনা।

৫.  এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতিতে পেঁচা অনেক উপকারী ভূমিকা পালন করে। এসব অঞ্চলের পেঁচাদের প্রধান শিকার ইঁদুর। আর এই ইঁদুর হচ্ছে ফসলের শত্রু। ইসরায়েল, জর্ডান ও প্যালেস্টাইন অঞ্চলে কৃষিজমির আশপাশ দিয়ে পেঁচার জন্য বাসা বানিয়ে রাখা হয়। এক জোড়া পেঁচা বছরে গড়ে ছয় হাজার ইঁদুর শিকার করে।যদি এদের ওড়ার ক্ষমতা থাকতো, তবে এদেরকেই বলা যেত উড়তে জানা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় পাখি। কিউবার বনাঞ্চলে এদের দেহাবশেষ আবিষ্কার করেন গবেষকরা।

৬. নিশাচর পাখি পেঁচার বৈশিষ্ট্যের মধ্যে কিছু কিছু পেঁচার নকল চোখ থাকে, যেমন- নর্দান পিগমি আউল। এদের চোখের রং উজ্জ্বল হলুদ। কিন্তু এদের মাথার পেছনে কালো রঙের কিছু পালক আছে যা দেখলে অবিকল চোখ বলে মনে হবে। শিকারি প্রাণীকে বিভ্রান্ত করে এ নকল চোখ।

৭. অপরদিকে আর্কটিকে বসবাসকারী তুষার পেঁচারা শীতের মৌসুমে দক্ষিণ দিকে তিন হাজার মাইল পর্যন্ত ভ্রমণ করে।

৮. পেঁচার একটি গুরত্বপুর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো পেঁচা দুই কানে দুই রকম শব্দতরঙ্গ শনাক্ত করতে পারে।

৯. পেচার আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো নারী পেঁচারা আকৃতিতে পুরুষ পেঁচার চেয়ে বড়।

১০. পেঁচার শেষ বৈশিষ্ট্য হলো পেঁচারা বাসা তৈরি করতে পারে না। এরা বেশিরভাগ সময়ই গাছের কোটরে বসবাস করে। অন্য পেঁচার পরিত্যক্ত গাছের কোটরই বেছে নেওয়া পছন্দ পেঁচাদের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this: