Home » খেলাধুলা » নেইমারের সাথে মিল খুজে পেলেন- রোনালদো
নেইমারের সাথে মিল খুজে পেলেন- রোনালদো

নেইমারের সাথে মিল খুজে পেলেন- রোনালদো

কুতিনহোকে নিতে রীতিমতো মুখিয়েই আছে বার্সেলোনা। কুতিনহো নিজেও হয়তো স্বপ্ন দেখছেন বার্সেলোনার মতো দলের জার্সি গায়ে দিতে। তবে একজনের কথা শুনলে তিনি হতোদ্যম হতেই পারেন। তিনি আর কেউ নন, ব্রাজিলের অন্যতম সেরা ফরোয়ার্ড রোনালদো নাজারিও। তাঁর মতে, ব্রাজিলিয়ানদের জন্য বার্সেলোনা ‘খুব খারাপ’!
ফিলিপ কুতিনহোকে কেনার চেষ্টা করছে বার্সেলোনা। ব্রাজিলিয়ান এই মিডফিল্ডারকে স্পেনে দেখা যেতে পারে জানুয়ারির মধ্য-মৌসুম দলবদলের সময়েই। কুতিনহো অবশ্য এর আগেও একবার লিভারপুল ছাড়ার আগ্রহ দেখিয়েছিলেন। কোথায় যেতে চান, তা নিয়ে কখনোই সরাসরি কিছু বলেননি। কিন্তু তাঁর সম্ভাব্য গন্তব্য যে ন্যু ক্যাম্পই ছিল, সেটি চাউরই হয়ে গিয়েছিল।
কুতিনহোকে স্রেফ সতর্কই করেছেন ২০০২ সালের বিশ্বকাপজয়ী এই তারকা। সেটি বার্সায় তাঁর নিজের অভিজ্ঞতা এবং পরবর্তী সময়ে রোমারিও, রোনালদিনহো ও নেইমারকে দেখে। এস্পোর্তে ইন্তেরাতিভোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘ব্রাজিলিয়ান ফুটবলারদের সঙ্গে বার্সেলোনার সমস্যা লেগেই ছিল; নেইমার, রোমারিও, রোনালদিনহো এবং আমি। সবার অবদান ও নিবেদন থাকা সত্ত্বেও ক্লাবটি শেষ পর্যন্ত আমাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছে।’
কুতিনহোকে কিনতে এ পর্যন্ত তিন দফা চেষ্টা চালিয়েছে বার্সা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের খবর, জানুয়ারির ট্রান্সফার মৌসুমে খেলোয়াড়টিকে কিনতে ১৫ কোটি ইউরোর একটি তহবিল গোছাতে শুরু করেছে বিশ্বের অন্যতম সেরা এই ক্লাবটি।
বার্সায় প্রথম ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড় এভারেস্তো ডি মাসেদো। ১৯৬২ সালে বার্সেলোনা ছেড়ে সরাসরি রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দিয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলেন সাবেক এ ফরোয়ার্ড। এরপর ১৯৯৩ সালে ন্যু ক্যাম্পে এসেছিলেন রোমারিও। তাঁর বিদায়ও সুখকর হয়নি। তৎকালীন কোচ ইয়োহান ক্রুইফের সঙ্গে ঝামেলায় জড়িয়ে বার্সা ছেড়েছিলেন ’৯৪ বিশ্বকাপজয়ী সাবেক এই স্ট্রাইকার। এ ছাড়া রোনালদিনহো, দানি আলভেজ ও নেইমারের বিদায়ও স্বাভাবিক ছিল না।
‘ফেনোমেনন’খ্যাত রোনালদোর ক্ষেত্রেও বিদায়টা স্বাভাবিক হয়নি। ১৯৯৬-৯৭ মৌসুমে বার্সার হয়ে এক মৌসুমে ৪৯ ম্যাচে ৪৭ গোল করা রোনালদো নিজেই বলেছেন, ‘বার্সার সঙ্গে আমার গল্পের শেষটা সুখের ছিল না।’ বার্সায় রোনালদোর তৎকালীন এজেন্ট জিওভান্নি ব্রাঞ্চিনি পরে জানিয়েছেন সেই ঘটনা—‘রোনালদোর বার্সা ছাড়ার কোনো ইচ্ছা ছিল না। বার্সা পরিচালকেরা তাঁকে নিজেদের সুবিধামতো ব্যবহার করতে চেয়েছিল। এ জন্য তারা চুক্তিপত্র থেকে “রিলিজ ক্লজ” ছেঁটে ফেলে। এতে রোনালদোর পকেট থেকে টাকা বেরিয়ে যেত। কারণ আইন বলছে, চুক্তি শেষ করতে কর্মীকেই টাকা দিতে হবে।’
ব্রাঞ্চিনি শেষ পর্যন্ত কৌশল করে একটি “শর্ত” ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন রোনালদোর চুক্তিপত্রে, “কোনো ক্লাব যদি তাঁর হয়ে রিলিজ ক্লজের টাকা দিতে চায়, তাহলে খেলোয়াড়টির ক্লাব (বার্সা) ছাড়ার অধিকার থাকবে।’ অনেক কাঠখড় পোড়ানোর পর বার্সাকে এ শর্তে রাজি করিয়েছিলেন ব্রাঞ্চিনি, যে কারণে পরবর্তী সময়ে রোনালদো নাম লিখিয়েছিলেন ইন্টার মিলানে।
এর আগে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছিল, নেইমার বার্সা ছাড়ার সময় তাঁর ‘রিলিজ ক্লজ’ দিয়েছে পিএসজি। আলভেজ গত বছর বার্সেলোনা কাতালান ক্লাবটি ছাড়ার পর বলেছিলেন, ‘বার্সায় আগের মতো আর ভালো লাগত না।’ সব সময় ‘বন্দুকের নলের মুখে থাকতে হতো’ বলেও দাবি করেছিলেন বর্তমানে পিএসজির এ রাইটব্যাক। এখন দেখার বিষয় হলো, বার্সায় ব্রাজিলিয়ানদের এত সব তিক্ত অভিজ্ঞতা কুতিনহোর মনে কোনো প্রভাব ফেলে কি না।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: