Home » অর্থনীতি » পর্যটন ও সেবা » পর্যটকে মুখরিত হ্রদ-পাহাড়ের মনোমুগ্ধকর শহর রাঙামাটি
পর্যটকে মুখরিত হ্রদ-পাহাড়ের মনোমুগ্ধকর শহর রাঙামাটি

পর্যটকে মুখরিত হ্রদ-পাহাড়ের মনোমুগ্ধকর শহর রাঙামাটি

সাপ্তাহিক ছুটির সাথে সাথে সরকারি কয়েকটা দিনের ছুটি মিলিয়ে টানা ছুটি পেয়ে বৈশাখের তীব্র গরম কিংবা কাল বৈশাখীর ঝড় মাথায় নিয়েও হ্রদ-পাহাড়ের শহর রাঙামাটিতে ছুটে আসছে পর্যটকরা।

পর্যটকদের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠেছে পুরো শহর। খাবার হোটেল থেকে শুরু করে আবাসিক হোটেল, রেস্টহাউস ও বোডিংগুলো খুবই ব্যস্ত সময় পার করছে।

আবাসিক সব হোটেলগুলো আগেই বুকিং হয়ে যাওয়ার ফলে অনেক পর্যটক অগ্রীম বুকিং না দিয়ে রাঙামাটিতে এসে চরম বিপাকের সম্মুখীন হচ্ছেন।

রাঙামাটির পর্যটন স্পটগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য – রাঙামাটির সিম্বল খ্যাত ঝুলন্ত সেতু, রাঙামাটি ৩০৫ পদাতিক ডিভিশনের অধীন আরণ্যক রিসোর্ট, পুলিশ পলওয়েল পার্ক, ডিসি বাংলো, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য এলাকা, সুবলং ঝর্ণা, টুকটুক ইকো ভিলেজ এলাকাগুলোতে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় লেগেই আছে প্রতিনিয়ত।

অন্যদিকে, জমজমাট ব্যবসায় মেতে উঠেছে সেখানকার খাবারের হোটেলগুলো।

ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা ব্যবসায়ী সামসুল কাদেরী বলেন, ব্যবসার কাজে সময় পাই না, তাই কয়েকদিন বন্ধ পেয়ে বউ-বাচ্চা সাথে নিয়ে পাহাড়- হ্রদের শহরে ঘুরতে এসেছি।

সিরাজগঞ্জ থেকে আসা মো. মানজুরুল আলম শেখ বলেন, রাঙামাটিতে ৫ দিনের ট্যুরে এসেছি। গত ২ দিন ঝুলন্ত সেতু, বৌদ্ধ মন্দির, রাজবাড়ি এবং কাপ্তাই হ্রদে ঘুরেছি।

বগুড়া থেকে বেড়াতে আসা রিতু জাহান বলেন, জনবহূল শহরের কোলাহল থেকে কিছুটা রেহাই পেতে ৩ দিনের ছুটিতে স্বামীকে নিয়ে রাঙামাটিতে বেড়াতে এসেছি। খুব ভাল লাগছে হ্রদ পাহাড়ের শহরে।

এদিকে ঝুলন্ত সেতুটিকে আশ্রয় করে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায়ের কিছু নারী জীবিকা নির্বাহের তাগিদে স্থানীয়দের হাতে তৈরি বিভিন্ন ডিজাইনের ব্যাগ এবং আচারের পসরা সাজিয়ে জমজমাট ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এদের মধ্যে মিতালী চাকমা বলেন, আমি গত কয়েকদিন যাবত গড়ে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকার পণ্য বিক্রি করেছি। বেচাকেনা খুব ভাল হয়েছে।

স্থানীয়দের হাতে তৈরি চোখ ধাঁধানো বিভিন্ন ধরনের সুন্দর সুন্দর ডিজাইন করা ব্যাগ । ডিজাইন ভেদে বড় ব্যাগগুলো ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা এবং ছোটগুলো ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

আরেক বিক্রেতা রত্না চাকমা জানান, পরিবারের উপর নির্ভর না করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে স্বাধীনভাবে নিজে ব্যবসা শুরু করেছি। প্রতিদিন গড়ে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকার পণ্য বিক্রি করছি।

রাঙামাটি পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্সের নির্বাহী কর্মকার্তা সূর্যসেন ত্রিপুরা বলেন, টানা ছুটি থাকার কারণে পর্যটকরা ক্লান্তি দূর করতে রাঙামাটিতে ছুটে এসেছেন। প্রতিদিন ১৫শ’ থেকে ২ হাজার পর্যটকের সমাগম ঘটছে পর্যটন কমপ্লেক্সে। বেচা-বিক্রিও ভাল হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

কমপ্লেক্সের নির্বাহী কর্মকর্তা আরও বলেন, পহেলা মে পর্যন্ত কটেজের সবকয়টি রুম অগ্রিম বুকিং রয়েছে। এর পরের কয়েকদিনও ৫০ ভাগ বুকিং রয়েছে।

সূর্যসেন ত্রিপুরা বলেন, ভূমি ধসের ফলে পর্যটন কমপ্লেক্সের অনেক ক্ষতি হয়েছে। সংস্কারসহ নানা সমস্যা দূরীকরণে ঊর্ধ্বতন মহলকে অবগত করা হয়েছে।

হোটেল প্রিন্স’র স্বত্তাধিকারী নেছার আহম্মেদ জানান, আমার হোটেলের সবকয়টি রুম পহেলা মে পর্যন্ত বুকিং এবং মে মাসের ৮-১০ তারিখ পর্যন্ত ৬০ ভাগ বুকিং রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: