Home » জাতীয় » আইন ও বিচার » পেছানো হয়েছে আকায়েদের বিচারের শুনানি
পেছানো হয়েছে আকায়েদের বিচারের শুনানি
পেছানো হয়েছে আকায়েদের বিচারের শুনানি

পেছানো হয়েছে আকায়েদের বিচারের শুনানি

এখনই সন্ত্রাসী হিসেবে নিজের দোষ স্বীকার না করে বরং ন্যায়বিচার পাওয়ার জন্য বিচারিক লড়াই চালিয়ে যেতে ইচ্ছুক আকায়েদ উল্লাহ। শুধু তা-ই নয়, গ্রেপ্তারের পরপরই হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে দেওয়া তাঁর আগের বিবৃতি প্রত্যাহার করার জন্য আবেদন পেশ করবেন তিনি। গত বছরের ডিসেম্বরের ১১ তারিখ ম্যানহাটনের পোর্ট অথরিটি বাস টার্মিনালে পাইপবোমা বিস্ফোরণে হাতেনাতে আটক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই অভিবাসী। ওই বিস্ফোরণে একমাত্র আকায়েদ যে নিজেও গুরুতর আহত হয়েছিলেন।

১৭ এপ্রিল আকায়েদের মামলার শুনানি ছিল। সেখানে পূর্বের মতোই দোষ স্বীকার করতে অনীহা প্রকাশ করেছেন তিনি। যদিও তার বিরুদ্ধে সিক্সথ ডিগ্রি অপরাধের অভিযোগ নেওয়া হয়েছে, যার একটি হচ্ছে, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে সন্ত্রাসী বাহিনীদের সহযোগিতা করা। আগামী অক্টোবর পর্যন্ত এ মামলার শুনানি পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই বিচারকাজ নিউইয়র্কের বাইরেও স্থানান্তর করা হতে পারে বলে জানিয়েছে তাঁর আইনজীবী।

নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজ-এর খবরে বলা হয়েছে, বিচারক রিচার্ড জুলিভানের আদালতে ২৬৩ ঘণ্টার ভিডিও ফুটেজ আদালতে সরবরাহ করেছেন আকায়েদের আইনজীবী অ্যামি গ্যালিসিও। এই তথ্যপ্রমাণ দিয়ে আকায়েদের পক্ষে দাবি করা হয়েছে যে এখন পর্যন্ত আকায়েদের বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগে কেবল বাহ্যিক দিকগুলো বিবেচনা করে দেখা হচ্ছে। সেগুলো দিয়েই তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠিত হয়েছে। আদালত শুনানি পিছালেও আকায়েদকে দুর্ধর্ষ অপরাধের শাস্তি হিসেবে ম্যানহাটন কারাগারের নির্জন কক্ষে স্থানান্তরিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। সেখানে অন্য কোনো কয়েদির সঙ্গে মেলা মেশা করার সুযোগ পাবেন না আকায়েদ।

২৮ বছর বয়সী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অভিবাসী আকায়েদ উল্লাহ গত ১১ ডিসেম্বর টাইম স্কয়ারের কাছে এক ফুটের মতো লম্বা একটি পাইপবোমা বিস্ফোরণে আহত হয়ে ধরা পড়েন। ওই ঘটনার ১১ ঘণ্টা আগে আকায়েদ ফেসবুকে ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন বলে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। এর বাইরে তাঁর নিজের পাসপোর্টে ‘আমেরিকা তুমি ধ্বংস হও’ বলে ঘৃণাসূচক বাক্য লিখে রেখেছিলেন। যেটা এর আগের জানুয়ারির ১১ তারিখের শুনানিতে অস্বীকার করেন আকায়েদ। তৃতীয় দফার এই শুনানিতে তিনি ন্যায়বিচার পাওয়ার জন্য লড়াই চালিয়ে যেতে আবেদন করেছেন।

আকায়েদ ৭ বছর পূর্বে পারিবারিক অভিবাসনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। বাংলাদেশে তাঁর স্ত্রী ও এক বছর বয়সী একটি সন্তান রয়েছে। তিনি নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের ফ্ল্যাটল্যান্ড এলাকায় থাকতেন। তিনি প্রথমে ট্যাক্সি চালাতেন। পরে ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: