Home » বিশ্ব » প্রেমে প্রতারিত অন্তঃসত্ত্বা কিশোরীর স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন
প্রেমে প্রতারিত অন্তঃসত্ত্বা কিশোরীর স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন
প্রেমে প্রতারিত অন্তঃসত্ত্বা কিশোরীর স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন

প্রেমে প্রতারিত অন্তঃসত্ত্বা কিশোরীর স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন

পূর্ব মেদিনীপুর জেলার সুতাহাটা গ্রামের ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীর প্রতারিত হয়ে নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা। একই গ্রামের এক যুবকের সাথে তার প্রেম ছিল। ছেলেটি তাকে আর তার পরিবারকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে মেয়েটির সঙ্গে দীর্ঘ দিনের যৌন সম্পর্কে জড়ায়।এক পর্যায়ে মেয়েটি তার সন্তান গর্ভেধারণ করে।খবরটি কিশোরীর পরিবার আর ঐ যুবক যেনে যায়।এক পর্যায়ে ছেলেটি মেয়েটিকে প্রতারিত করে পরিবার সহ গ্রাম ছেড়ে পালায়।

কিশোরী প্রতারনার শিকার হওয়ায় তার আর তার পরিবারের সম্মানহানি ঘটে। এর ফলে কিশোরী বাধ্য হয়ে প্রশাসনের কাছে তার স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন করেন।প্রশাসনের কাছে পাঠানো চিঠিতে কিশোরী লিখেছে, আমার আর সমাজে বেঁচে থাকার প্রয়োজন নেই। পরিবারের মান-সম্মান ধুলোয় মিশে গেছে। আমি তাই স্বেচ্ছায় মরে যেতে চাই। আত্মহত্যার অবেদন বিবেচনা নেওয়া হবে না। কারণ ভারতে স্বেচ্ছামৃত্যু অবৈধ।

ঐ কিশোরী বলেন, ও আমাকে বিয়ে করবে বলে আশ্বাস দিয়েছিল। এভাবেই ও আমার সঙ্গে বাজে কাজ করেছে। প্রথমে আমি কিছু বুঝতে পারিনি। মাঝে মাঝে পেটে ব্যথা হতো, ভাবতাম এমনি ব্যথা হচ্ছে। এরপরে মা ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলে বুঝতে আর দেরি হয়না তাদের।

কিশোরী মা খুবই দুশচিন্তায় পরে যায় আর এই কুকাজে লিপ্ত ছেলের নাম জানার জন্য খুব মারধর করে।অবশেষে নাম জানতে পারলে এলাকাবাসির সাহায্য নিয়ে দুই পরিবার সম্মতিতে তাদের বিয়ের দিন ঠিক করা হয়। অবশেষে বিয়ের দিনে ছেলেটি ও তার পরিবার গ্রাম ছেড়ে পালায়। ফলে কিশোরীর আর মৃত্যু ছাড়া কোনো কিছুই থাকে না আর।

থানায় অভিযোগ করা হয় বলে প্রশাসনের কাছে লেখা চিঠিতে ওই কিশোরী জানিয়েছে। তখনই তার আবারও ডাক্তারি পরীক্ষা হয়। ঘটনার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি পূর্ব মেদিনীপুরের পুলিশ। তবে প্রশাসন সূত্র জানায়, কয়েক দিন আগে ওই যুবকের বাবাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযুক্ত যুবককে খুঁজছে পুলিশ।

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশন প্রশ্ন তুলেছে, ব্যবস্থা নিতে এতো গড়িমসি করছে কেন পুলিশ? কমিশনের অন্যতম সদস্য প্রসূন ভৌমিক বলেন, আমার প্রশ্ন, শিশুদের যৌন হেনস্থার হাত থেকে রক্ষার করার জন্য থাকা পস্কো আইন অনুযায়ী পুলিশ মামলা দায়ের করেছে? না করা হলে কেন এত দেরি হলো? এটা গুরুতর অবহেলা। এ ঘটনা যে ঘটিয়েছে এখন তো তার জেলহাজতে থাকা উচিত ছিল। যারা তাকে পালাতে সাহায্য করেছে, তাদেরও হাজতে থাকার কথা।

পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের সভাপতি মধুরিমা মণ্ডল বলেন, প্রশাসন তাদের মতো নিশ্চয়ই ব্যবস্থা নেবে। কিন্তু ব্যবস্থা নিতে এরই মধ্যে দেরি তো হয়েছেই। তবে যথাসাধ্য মত চেষ্টা চালাচ্ছেন তারা। এর উপযুক্ত সাজা দিবেন বলে আশ্বাস দেন কিশোরীর পরিবারকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: