Home » জাতীয় » বিধ্বস্ত বিমানের যাত্রীগুলো পুড়ছিল আর কষ্টে চিৎকার করছিল!
বিধ্বস্ত বিমানের যাত্রীগুলো পুড়ছিল আর কষ্টে চিৎকার করছিল!
বিধ্বস্ত বিমানের যাত্রীগুলো পুড়ছিল আর কষ্টে চিৎকার করছিল!

বিধ্বস্ত বিমানের যাত্রীগুলো পুড়ছিল আর কষ্টে চিৎকার করছিল!

গতকাল নেপালের আকাশ এবং জমিনটা এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার সাক্ষি হয়ে থাকল। আকাশে থাকা বিমান হঠাৎ করে নেপালের কাঠমুন্ডুতে ল্যান্ড করতে গিয়ে বিধ্বস্ত হয়ে আগুন ধরে যায়। দীর্ঘ প্রায় ৩৪ বছর পর এমন এক  হার্ট কাপানো বিমান দুর্ঘটনা দেখল সারা বিশ্ব।

গতকাল উড়োজাহাজটি নামার আগমুহূর্তে বাঁ দিকে কাত হয়ে যায় যাত্রীরা চিৎকার করতে শুরু করেন হঠাৎ করে পেছনে আগুন দেখতে পায় যাত্রীরা  ভয়াবহ সেই বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণে বাচা এক যাত্রী বলেন,আমার বন্ধু আমাকে বলে, “চলো দৌড়ে সামনে যাইকিন্তু আমরা যখন দৌড়ে সামনে যাচ্ছিলাম, আমার বন্ধুর গায়ে আগুন ধরে যায় সে পড়ে যায়

এভাবেই ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করেন শাহরীন আহমেদ। কাঠমান্ডুতে গতকাল সোমবার বিধ্বস্ত হওয়া ইউএসবাংলার বিএস ২১১ ফ্লাইট থেকে প্রাণে রক্ষা পাওয়া যাত্রী তিনি

গতকাল বিধ্বস্ত হওয়া ইউএস-বাংলার বিমানে করে ২৯ বছরের শাহরীন এক বন্ধুর সঙ্গে নেপালে বেড়াতে যাচ্ছিলেন। ওই দুর্ঘটনায় তাঁর শরীরের অনেক জায়গায় পুড়ে গেছে। বর্তমানে কাঠমান্ডু মেডিকেল কলেজ টিচিং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি আছেন।

সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কাঁদতে কাঁদতে ঘটনার বর্ণনা দিচ্ছিলেন শাহরীন। বলেন,মানুষগুলো পুড়ে যাচ্ছিল। তারা চিৎকার করছিল। কয়েকজন পড়ে যায়। জ্বলন্ত বিমান থেকে তিনজনকে লাফ দিতে দেখি। এটা ভয়ানক ছিল। সৌভাগ্যবশত কেউ আমাকে টেনে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যায়

পেশায় শিক্ষক শাহরীন যাচ্ছিলেন কাঠমান্ডু পোখারায় ঘুরতে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছে, শাহরীনের ডান পায়ে আঘাত লেগেছে এবং তাঁর শরীরের ১৮ শতাংশ পুড়ে গেছে। অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে

আরেক বাংলাদেশি যাত্রী মেহেদি হাসান কাঠমান্ডু যাচ্ছিলেন তাঁর স্ত্রী, এক বোন বোনের মেয়ের সঙ্গে। জীবনের প্রথম বিমান ভ্রমণ যে এতটা ভয়বহ অভিজ্ঞতার মুখে ফেলবে, তা কখনো ভাবেননি মেহেদি হাসান

মেহেদি হাসান বলেন, ‘আমার সিট পেছনের দিকে ছিল। যখন আগুন দেখতে পাই, আমার পরিবারের দিকে তাকাই আমি। আমরা জানালার কাচ ভেঙে ফেলার চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু পারছিলাম না। আশা করছিলাম, কেউ এসে আমাদের উদ্ধার করবে। দুর্ঘটনায় আমি আর আমার স্ত্রী বেঁচে গেছি। তবে আমার কাজিন তাঁর মেয়ের কোনো খোঁজ পাচ্ছি না।

মেহেদি হাসানও এখন কাঠমান্ডু মেডিকেল কলেজ টিচিং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেনকত ভয়ঙ্কর সে দৃশ্য তা কাউকে বলে বুঝানো যাবে না।

আরো পড়ুন-

ইউএস-বাংলা বিএস২১১ এয়ারলাইন্স এর পাইলটের সাথে কন্ট্রোল টাওয়ারের যে ট্রান্সমিশন হয়েছিল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: