Home » বিশ্ব » বিয়ের ১৮ ঘণ্টার মধ্যেই মৃত্যু নববধু হিথার
বিয়ের ১৮ ঘণ্টার মধ্যেই মৃত্যু নববধু হিথার
বিয়ের ১৮ ঘণ্টার মধ্যেই মৃত্যু নববধু হিথার

বিয়ের ১৮ ঘণ্টার মধ্যেই মৃত্যু নববধু হিথার

ভালবাসা মানে না হাজারো বাধা। হতে পারে সেই বাধা মৃত্যুর মতন। ঠিক তেমনি একটি সত্য নিখাত ভালবাসার ঘটনা ঘটে গেল যুক্তরাষ্ট্রে। বর ছিলেন ডেভিড মোসহের আর কণে হিথার মোসহের । মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও হাসপাতালেই বিয়ে করলেন এই প্রেমিক যুগল। বিয়ের ঠিক ১৮ ঘণ্টা পরই হারাতে হয় তার প্রাণ প্রিয় জীবন সঙ্গীনি। মৃত্যুর পূর্বে নববধূ হিথার মোসহের  তার সদ্য বিবাহিত স্বামীর প্রতি তার গভীর ভালবাসার কথা প্রকাশ করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাটের হার্টফোর্ড শহরের ফ্যান্সি হাসপাতাল ও মেডিকেল সেন্টারের সকল চিকিৎসক , কর্মী গত বছরের ২২ ডিসেম্বর এক অভূতপূর্ব দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেন। বিয়ের সাদা পোশাকে অক্সিজের মাস্ক লাগিয়ে হাসপাতালের বেডে শুয়ে ছিলেন কনে হিথার মোসহের ।  এ অবস্থাতেই তার বিয়ে হয় প্রেমিক ডেভিড এর  সঙ্গে। বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অক্সিজেন মাস্ক লাগানো অবস্থাতেই দুই হাত তুলে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন হিথার। ঠিক তার কিছু সময় (১৮ ঘণ্টা পরই )পরই হিথার ত্যাগ করেন তার প্রান।ছেড়ে যান এই নিশৃার্ত পৃথিবী আর চির দিনের জন্য একা করে যান তার প্রেমিক স্বামী ডেভিডকে।

কিন্তু তার বিয়ের মুহূর্তের সেই ছবিটাগুলোই এখন ভাইরাল হয়ে ঘুরছে নেট দুনিয়ায়। স্মৃতি হিসাবে থেকে গেল প্রেম কাহিনী।এটাই বিশ্বের মর্মান্তিক বিবাহ ইতিহাস আর সবচেয়ে স্বল্প সময়ের বিয়ে।

 

২০১৫ সালে হিথারের সঙ্গে প্রথম দেখা হয়েছিল ডেভিডের। প্রথম দর্শনেই প্রেম। ধীরে ধীরে গাঢ় হতে থাকে তাদের সম্পর্ক। কিন্তু সুখের সময় খুব বেশি স্থায়ী হয়নি তাদের। ঠিক যে সময় ডেভিড তার প্রেমিকা হিথারকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন ঠিক সেদিনই ধরা পড়ে হিথার স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত। এই খবর জানার পরও ডেভিড তার প্রস্তাব ফিরিয়ে নেননি। তিনি ঠিক করেছিলেন, প্রেমিকার এই কঠিন অবস্থায় সবসময় তিনি তার পাশে থাকবেন। কিন্তু হিথারের ক্যান্সার একদম শেষ পর্যায়ে ধরা পড়ে। একারণে চিকিৎসকরা তাদের জানিয়েছিলেন হিথারের বাঁচার কোন সম্ভাবনা নেই। তারপরও ডেভিড ঠিক করেছিলেন বিয়ের শপথ তিনি হিথারের সঙ্গেই নেবেন। তার শেষ সময়টাকে আনন্দে ভরিয়ে দেবেন।

প্রথমে তারা ঠিক  করেছিলেন ডিসেম্বরের ৩০ তারিখ বিয়ে করবেন। কিন্তু হিথারের শারীরিক পরিস্থিতি দ্রুতই খারাপ হচ্ছিল। চিকিৎসরাও জানিয়েছিলেন, হিথারের হাতে খুব বেশি সময় নেই। একারণে হাসপাতালে ২২ ডিসেম্বর বিয়ের আয়োজন করা হয়। সাদা গাউনে হাসপাতালের বেডে শুয়ে ছিলেন হিথার। দুই পরিবারের আত্মীয়স্বজন, বন্ধু বান্ধরাও উপস্থিত ছিলেন। মৃত্যুশয্যাতেই প্রেমিকার হাতে আংটি পরিয়ে দেন ডেভিড। জীবনের শেষ শব্দ দুইটি উচ্চারণ করেন হিথার। প্রেমিকের দিকে গভীর দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলেন, আই ডু’। এর কিছুক্ষণ পরেই শরীর আবারও খারাপ হতে শুরু করে হিথারের। বিয়ের ঠিক ১৮ ঘণ্টা পরেই তার মৃত্যু হয়।

ডেভিড বলেন, আমি তাকে তীব্র যন্ত্রনায় ছটফট করতে দেখেছি। কিন্তু বিয়ের আগ পর্যন্ত বেঁচে থাকার আশা হিথার ছাড়েনি। তার মতো কেউ কখনও ভালবাসতে পারবে না আমায়। তিনি আরও বলেন, যেখানে বিয়ের শপথ নিয়ে একসঙ্গে থাকার কথা ছিল আমাদের, সেখানে আমি আমার স্ত্রীকে চিরদিনের জন্য বিদায় জানালাম।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: