Home » খেলাধুলা » ব্রাজিলের কোচ হিসেবে তিতের অর্জন কেমন!!
ব্রাজিলের কোচ হিসেবে তিতের অর্জন কেমন!!

ব্রাজিলের কোচ হিসেবে তিতের অর্জন কেমন!!

রাশিয়া বিশ্বকাপে হাড্ডা-হাড্ডি লড়াইতে বার বার সফলতা পেয়েছে তিতের ব্রাজিল। ২০১৪ বিশ্বকাপের পর ২০১৬ সালের ১৬ জুন ব্রাজিল দলের দায়িত্বে যোক দেন তিতে। তার স্বপ্ন একটাই ছিল অগোছালো দলকে সর্বেসর্বা করে গড়ে তোলা। আর সেই উদ্দেশ্যে কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন এই লড়াকু অভিজ্ঞ কোচ। তার পুরো নাম আদেনর লিয়োনার্দো বাচ্চি। পরিচিত তিতে নামে। ২০১৬-র জুনে তিনি ব্রাজিলের দায়িত্ব নেওয়ার পরে রাতারাতি অবিশ্বাস্য পরিবর্তন দেখা গিয়েছে। ঘরোয়া ফুটবল লিগে দারুণ সাফল্য এর আগেও তাঁকে দু’বার জাতীয় দলের কোচের পদ পাওয়ার কাছাকাছি নিয়ে এসেছিল।

কিন্তু তীরে এসে তরী হাড়িয়েছেন তিনি। এতে তার কোন ব্যার্থতা ছিল না। ব্রাজিলের ক্লাব দল করিন্থিয়াসের কোচ হিসেবে ফিফা ক্লাব ওয়ার্ল্ড কাপ জিতেছিলেন ২০১২-তে। শুরুতে রক্ষণাত্মক মনস্ক ছিলেন তিনি। কিন্তু ফুটবল থেকে এক বছরের ছুটি নিয়ে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ান ফুটবল জ্ঞান বাড়ানোর জন্য। তার পরেই আক্রমণাত্মক ফুটবল দর্শনের ছোঁয়াও আসে তাঁর কোচিংয়ে। রাশিয়ায় রক্ষণ ও আক্রমণের উপযুক্ত মিশেলে তিনি ব্রাজিলকে খেলাবেন বলে আশা অনেকের।

তার চেষ্টার ফলে দলে আজ তারকা ক্ষ্যাত খেলোয়াড়ে কানায় কানায় ভর্তি। নেইমার, কুতিনহো, জেসুস, ফিরমিনো, পাওলিনহো, উইলিয়ান, কস্তা, মার্সেলো, দানিয়েল, মিরান্দাদের মত সেরা মানের অভিজ্ঞ খেলোয়াড় নিয়ে তিতের সাজানো কঠিন ব্রাজিল। উদ্দেশ্য ছিল কেবল ২০১৪ বিশ্বকাপে ঘরের মাটিতে নেইমারহীন দলের জার্মানী আঘাত। সেবার দল ছিলো নেইমার কেন্দ্রিক যার কারনে তার অনুপস্থিতে জার্মানি সেরা সুযোগ পেয়ে বিধস্ত করে ব্রাজিলকে। ৭-১ ব্যাবধানের লজ্জাজনক হারে কেদেছে ব্রাজিল আর বিশ্বভক্তদের মন।

সেবার কোচের দায়িত্বে ছিলেন দুঙ্গা। কেবল দলকে লজ্জাজনক হারই নই দিয়েছে আরও অনেক ব্যার্থতার ফল। সেই লন্ডভন্ড অগোছালো ব্রাজিল দল যারা কিনা খাদের তলায় পরে গিয়েছিল তাদের টেনে তোলার দায়িত্ব নেন কাধে এই তিতে। উদ্দেশ্য ছিল দলকে আবার নতুন রূপে তৈরি করার আর রাশিয়া বিশ্বকাপে পৌছানোর টিকিটটি হাতে নেয়ার। তার অভিজ্ঞতাকে বার বার নিরিক্ষন করে ছেলেদেরকে শিখিয়েছে কিভাবে খেলাকে নিজের কাছে পোষ মানানো যায়। আর সেই সাথে দলের ১১ জন খেলোয়াড়কেই সমান ভাবে তৈরী করা যেনো কারো উপরে কেউ নির্ভরশীল হতে না হয়। সেটা তিনি প্রমানও করেছেন ইতিমধ্যে।

২০১৬ সাল হতে তিতের অর্জন অনেক কিছু। এ পর্যন্ত ২৫টি ম্যাচ খেলে জয় ২০টি ম্যাচে, ড্রো করেছে ৪টি আর হার মাত্র ১টি। গোল করেছে ৫৪টি আর হজম করেছে ৬টি। একমাত্র সফলদল বলতে ব্রাজিলই যারা এমন নৈপূণ্য লাভ করেছে। জয়ের শতকরা হাড় ৮০% জা রেকর্ড।সেই সাথে এখনো ক্লিনশীট ১৯টি ম্যাচে।

এ বারের ব্রাজিল দলে সব চেয়ে চোখে পড়ার মতো ব্যাপার হচ্ছে, ২০১৪-র মতো তারা শুধুমাত্র নেমার-নির্ভর নয়। অবশ্যই নেমার থাকছেন তাদের সব চেয়ে বড় তারকা এবং প্রধান ফুটবলার হিসেবে কিন্তু তিনিই একমাত্র অস্ত্র নন। তিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই এই পরিবর্তন চোখে পড়ছে। নেমারকে স্বাধীনতা দেওয়ার পাশাপাশি তিতে দল হিসেবে খেলার সংস্কৃতি গড়ে তুলেছেন এবং সেটাই রাশিয়ায় সব চেয়ে বড় শক্তি হতে পারে ব্রাজিলের। কাজেমিরো, গ্যাব্রিয়েল জেসুসের মতো নতুন মুখ রয়েছে। ফিলিপে কুটিনহো, উইলিয়ান আছেন। প্রত্যেকে ইউরোপের বিভিন্ন লিগে দারুণ খেলে নজর কেড়েছেন। সব মিলিয়ে এটা এমন একটা ব্রাজিল দল, যারা পাসিং ফুটবল খেলতে পারে, আক্রমণ করতে জানে আবার পাশাপাশি রক্ষণ সামলানোর দক্ষতাতেও পিছিয়ে নেই। তার সঙ্গে নেমারের মতো বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলারের উপস্থিতিও রয়েছে।

তিতের হাতেই দলে গড়ে ওঠেছে অনেক তারকা। তাদের মধ্যে সেরা আকর্ষণ অবশ্যই নেইমার। নিজের দেশে গত বিশ্বকাপে চোট পেয়ে বিশ্বকাপ স্বপ্নটা ভঙ্গ হয়ে যায়। সেই সাথে দেখতে হয়েছিল জার্মানির কাছে সেই ১-৭ লজ্জার হার। সে দিন গোটা ব্রাজিল কেঁদেছিল সেই হার দেখে। চার বছর পরে এ বার নেইমারের দিকেই ব্রাজিল ভক্তরা তাকিয়ে থাকবেন ১৬ বছর পরে ফের বিশ্বকাপ তাঁদের দেশে নিয়ে আসার জন্য। রিয়ো দে জেনেইরোতে তিনি ব্রাজিল অলিম্পিক্সে প্রথম বার সোনা জিতেছেন। সেই জয়ে নায়ক ছিলেন নেইমারই। তবে এ বারেও নেইমার রাশিয়ায় আসছেন নানা আশঙ্কা-অনিশ্চয়তা নিয়ে। পায়ের পাতায় চোট পাওয়ার পরে অস্ত্রোপচার হয়েছে। তাই চাপটা বেশি না নেয়াটাও একটি কারণ তবে দলে সেই সাথে রয়েছেন তার বিকল্প কিছু তারকা খেলোয়াড়ও। যারা নেইমারহীন খেলতে পারে, জয় ছিনিয়ে আনতে পারে। তাই কুতিনহো, কস্তা, জেসুস, ফিরমিনো, উইলিয়ানের মত খেলোয়াড়দের ভিরে বলাই যাচ্ছে এ এক অন্যরকম ব্রাজিল।

worldcup

সবশেষে একটাই কথা,নতুন কোচ মানে নতুন আশা,নতুন স্বপ্ন। তবে কেউ যদি ভেবে থাকেন যে তিতে আবার সেই ৭০ এর সাম্বা ফিরিয়ে আনবে তবে সেই আশা বাদ দেন,বর্তমান যুগে সাফল্য পেতে হলে ট্যাকটিকাল ফুটবল খেলেই সাফল্য পেতে হবে।আর সাফল্য পাওয়ার আশা বাস্তবায়নের জন্য কিছু সময় তিতেরও লাগবে।প্রথম কিছু ম্যাচে আশানুরূপ পারফর্ম না করলেও যেনো আপনারা সবাই কোচের গুষ্ঠি উদ্ধার করবেন না,মনে রাখবেন বর্তমানে তিতেই হচ্ছে ব্রাজিলের সেরা কোচ, কোচ হিসেবে বাকিদের চেয়ে অনেক এগিয়ে আছে তিতে ।মিনিমাম ১ বছর সময় পেলে সে দল ও ভক্তদের হতাশ করবে না ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: