Home » বিশ্ব » ব্লাড ক্যান্সারের প্রতিরোধক হলুদ
ব্লাড ক্যান্সারের প্রতিরোধক হলুদ
ব্লাড ক্যান্সারের প্রতিরোধক হলুদ

ব্লাড ক্যান্সারের প্রতিরোধক হলুদ

৬৭ বছর বয়সী ডিনেকে ফার্গুসনের  শরীরে ১০ বছর আগে ক্যান্সার  নামক মরণব্যাধী ধরা পড়ে। ক্যান্সার  সনাক্ত হওয়ার ১৫ মাসের মধ্যেই এ মরণব্যাধীর জীবাণু তার সারা শরীরে ছড়িয়ে  পড়ে এবং তিনি ছিলেন উত্তর লন্ডনের বাসিন্দা।

ডিনেকে ফার্গুসন কোনভাবেই সুস্থ হচ্ছিলেন না ক্যান্সারের অসুস্থ্যতা থেকে যদিও তিনি এর চিকিৎসা হিসেবে ডিনেকে কেমোথেরাপি নেন এবং চিকিৎসকরা একসময় তার সেল ট্রান্সপ্ল্যান্টও করেন ।

২০১১ সালে ডিনেকে তার শরীরের আরও দুবার ষ্টিম সেল থেরাপি ব্যর্থ  হওয়ার পর  ইন্টারনেটে হলুদের নানা গুণের কথা জানেন এবং শুরু করেন অন্যরকম চিকিৎসা। তিনি সেই ইন্টারনেটের হলুদের গুন শুনার পর প্রতিদিন হলুদের বানানো কারকিউমিন ট্যাবলেট খেতে থাকেন। যা অনেক রোগের ঘরোয়া প্রতিষেধক ব্যবহার করা হয়।

ডিনেকে প্রতিনিয়ত খালি পেটে আট গ্রাম করে কারকিউমিন খেতে শুরু করেন।  বেশ কিছুদিন যাওয়ার পর তিনি বিশুদ্ধ বাতাসে অক্সিজেন নেওয়ার জন্য ব্রিথ্রিং থেরাপি কোর্স করেন।  অবশেষে তিনি অন্যসব চিকিৎসা বাদ দিয়ে শুধু হলুদের তৈরি কারকিউমিন খাওয়া এবং ব্রেথিং থেরাপি নেওয়া দ্বারা ক্যান্সারের চিকিৎসা চালিয়ে যান।  বছর পাঁচেক যাওয়ার পর তিনি তার শরীরের  পরীক্ষা করে দেখেন যে তার শরীরে ক্যান্সারের মাত্রা  কমে গিয়ে তা সহনীয় পর্যায়ে চলে এসেছে এবং শারীরিকভাবে বেশ সুস্থও লাগছে তার কাছে।

ডিনেকের চিকিৎসকরা বিট্রিশ মেডিকাল জার্নালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে  বলেছেন, যে তাদের জানা মতে, ক্যান্সারের ডাক্তারি চিকিৎসার বাইরে কারকিউমিন ব্যবহার করে এই প্রথমবার এত সুন্দর ফলাফল পাওয়া গেল।

কারকিউমিন ট্যাবলেটটি কিনতে ডিনেকের ১০ দিনে মাত্র ৫০ পাউণ্ড খরচ হতো। বিশেষজ্ঞরা এরই মধ্যে বিশ্বাস করেন, হলুদ আলঝাইমার, হৃদরোগ এবং হতাশা থেকে বাঁচতে দারুণ কাজ করে। তবে ক্যান্সার চিকিৎসায় জন্য  হলুদ যে এখনও সেইভাবে কার্যকর কিনা তা গবেষণায় প্রমানিত নয়।

ডিনেকের চিকিৎসকরা বলেন, কারকিউমিনের প্রভাবে বেশ কিছু টিউমারের বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয়। কিন্ত  মনে রাখতে হবে ক্যান্সারের রোগের জন্য সব রোগীর ক্ষেত্রে এই চিকিৎসা একইভাবে কাজ নাও রেতে পারে।যেটা ডিনেকের ক্ষেত্রে দারুণ কাজ করেছে। অন্য সব চিকিৎসা বন্ধ করে দিয়ে কারকিউমিন শুরু করার ফলে এর প্রভাবটা একেবারে স্পষ্ট ভাবে দেখা  গিয়েছে।

ডিনেকের মতে, তার এই ঘটনা জানার পর অনেক মানুষ হলুদের তৈরি কারকিউমিনের প্রতি আগ্রহী হবেন। তবে ক্যান্সারের প্রতিষেধক হিসেবে এখনই সবাইকে হলুদ ব্যবহারের পরামর্শ দিতে রাজি নন চিকিৎসকরা।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: