Home » বিশ্ব » ভারতে মাতৃস্নেহে বড় হলেন অন্যের সন্তান
ভারতে মাতৃস্নেহে বড় হলেন অন্যের সন্তান
ভারতে মাতৃস্নেহে বড় হলেন অন্যের সন্তান

ভারতে মাতৃস্নেহে বড় হলেন অন্যের সন্তান

সন্তান কে হাসপাতাল থেকে তুলে দেওয়া হয় মায়ের হাতে কিছু দিন পর থেকে মা সালেমার সন্দেহ হয়, পেটের সন্তানই তো  আমাকে দিয়েছে হাসপাতাল? কিছুদিন যেতেই চেহারা আকৃতিতে ফুটে উঠে উপজাতির ছাপ। সালমার সাথে একই দিনে হাসপাতালে ভর্তি  হলেন বড়ো উপজাতির নারী শেফালি ও তার স্বামী অনিল বড়োর মুখাবয়ব উপজাতি ধাঁচের হলেও শিশুকে দেখে তাঁদের মনেও সন্দেহের দানা বেঁধেছিল। শেষ পর্যন্ত ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে জানা যায় যে, শেফালির সন্তান কে মানুষ করছে সালমা এবং সালমার সন্তানকে মাতৃদুগ্ধ, মাতৃস্নেহে বড় করেছেনর্ শেফালি।

ঘটনাটি ঘটেছিল ভারতের আসামের দরং জেলায়।

সালমা ও শেফালির দুই সন্তানের বয়স যখন সাত বছর দুই মাস তখন তাদের ধারনা সত্যি হলো। সে সময় মাতৃস্নেহে বড় করা সন্তানকে প্রকৃত মায়ের হাতে তুলে দিতে মন কাঁদছে তাদের।

তাদের দুই পরিবার সিদ্ধান্ত নিলেন যে,আদালত যেটা বলবে সেটাই করা হবে। কিন্তু আলোচনার পরে দুই মা জানিয়েছেন, তাদের কে এক পরিবেশ থেকে অন্য পরিবেশে নিলে  শিশুদের মনে প্রভাব পড়বে। অবশেষে তাদের দুই পরিবার সিদ্দন্ত  নিলেন, শেফালির সন্তান সালমার কোলে, সালমার  ছেলে শেফালির ঘরেই বড় হবে।

২০১৫ সালের ১১ মার্চ তার স্ত্রী সালেমা ও মেনাপাড়া বেজরপাড়ার বাসিন্দা অনিল বড়োর স্ত্রী শেফালিদেবীকে একই সঙ্গে প্রসূতিকক্ষে নেওয়া হয় বলে জানান, দরং জেলার শ্যামপুর বদলিচরের বাসিন্দা সাহাবুদ্দিন।  নবজাতক শিশুদেরকে এক সপ্তাহ পরে যার যার বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যাওয় হয়। হঠাৎএকদিন সাহাবুদ্দিন বাড়ি ফিরে দেখেন স্ত্রী কাঁদছেন। তার মনে সন্দেহ হলো,  তাদের বাচ্চা বদলাবদলি হয়েছে। সাহাবুদ্দিন পরিবারে কাউকে এ কথা বলতে নিষেধ করেন তার স্ত্রী শেফালিকে। কিন্তু স্ত্রীর সন্দেহ দূর হয়নি। সাহাবুদ্দিন তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেন, শিশুকে নিয়ে এধরনের সন্দেহ করলে মহান আল্লাহ পাপ দেবেন। তাঁর বাচ্চার বয়স যখন প্রায় দু’বছর বয়স সে সময় তার চেহারায় মঙ্গোলীয় ধাঁচ স্পষ্ট। বাচ্চাদের বয়স যখন আড়াই বছর বয়স সে সময় তারা পুলিশকে ঘটনাটি জানান।পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে পরে অনিল বড়োর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে। ডিএনএর পরীক্ষার নমুনা নিয়ে বাবা-মা শিশুকে নিয়ে হায়দরাবাদে পাঠানো হয়। তাঁরা যে ধারনা করেছে তা আসলে সত্যি।

নার্সরা আমার হাতে যে বাচ্চা দিয়েছে আমি তাকেই নিয়েছি বলে জানান,শেফলিদেবী। ফর্ম পূরণ করার সময় টিপছাপ নিয়েছে ওরা।’

তাদের এই দুই পরিবার রাজ্যের স্বাস্থ্য অধিকর্তার কাছেও অভিযোগ  করেছিলেন।পুলিশওআইন অনুযায়ী ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২০বি ও ৪২০ ধারায় মামলা রুজু করেছে।

আদালতের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে জানান ,জেলা প্রশাসক অশোক কুমার বর্মণ।  আদালতে পক্ষ থেকে যদি প্রকৃত মায়ের কাছে শিশু দু’টিকে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দেয় হয়, এবং মায়েরা সন্তানদের ছাড়তে রাজি না হন, তখন দত্তক নেওয়ার আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যেতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: