Home » বিশ্ব » ভারতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য নজিরের সন্ধান!!
ভারতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য নজিরের সন্ধান!!
ভারতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য নজিরের সন্ধান!!

ভারতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য নজিরের সন্ধান!!

ধর্মের জন্য পিছিয়ে নেই মানবিকতা। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য নজির রাখলেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদিয়ার করিমপুর এলাকার জনগন। নিজেরা চাঁদা তুলে সেখানকার নাটনা গ্রামের এক হিন্দু বৃদ্ধের মৃতদেহ সমাধিস্থ করার কাজে অংশ নিলেন মুসলিম সম্প্রদায়ের বাসিন্দারা।

করিমপুর থানার নাটনা গ্রামের বড় বটতলাকে এলাকার মানুষজন সর্বধর্মের মিলনে কেন্দ্র বলে মনে করেন। এই বটতলায় বিশ্রামাগারে বছর দুই ধরে নব্বই বছর বয়সী এক বৃদ্ধ থাকতেন। গত সোমবার বিকেলে তার ইন্তেকাল হয়। এরপর এলাকার মুসলিম সম্প্রদায় হিন্দু ধর্মের লোকজনের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মানিকপুর শ্মশানের কাছে ভৈরব নদের পাশে বৃদ্ধকে সমাধিস্থ করেন। খবর আজকালের।

এ সময় সে এলাকার রহমান বিশ্বাস বলেন, আমাদের এলাকায় হিন্দু-মুসলমান বিভেদ নেই। কোনো বাড়িতে কারও মৃত্যু সংবাদ পেলে দুই সম্প্রদায়ের মানুষই হাজির হই।

শ্মশানযাত্রী শ্যামপ্রসাদ মণ্ডল বলেন, বৃদ্ধ কোনো এক কারণে তার পরিচয় দিতেন না কখনোই। তবে তার ইন্তেকালের পর তার এক আত্মীয়ের কাছ থেকে তার পরিচয় জানতে পারি। নাম সনৎ কুমার গোস্বামী। তেহট্ট থানার হরিপুর গ্রামে তার নিজ বাড়ি। গত দুই বছর এই বিশ্রামাগারে একা থাকার পর সোমবার তার মৃত্যু হয়। এরপর দুই সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে চাঁদা তুলতে নামি। এক ঘণ্টার মধ্যে সংগ্রহ হয় দশ হাজার টাকা।

স্থানীয় বাসিন্দা জব্বার বিশ্বাস বলেন, বিশ্রামাগারের সামনেই আমার মুদির দোকান। ওনার কষ্ট দেখে প্রতিদিন সকালে মুড়ি, দুপুরে ও রাতে ভাত দিতাম। উনি জ্ঞানী মানুষ ছিলেন। শাস্ত্র থেকে নানা বিষয়ে বেশ বলতে পারতেন। মারা যাওয়ার পর এলাকার সবাই মিলে চাঁদা তুলেছি। ওনার শেষইচ্ছা মতো, সোমবার রাতে ভৈরবের পাড়ে তাকে সমাধিস্থ করা হয়। আমরা সকলে মিলে ঠিক করেছি হিন্দু মতে, ব্রাহ্মণ ডেকে সব ক্রিয়াকর্ম করা হবে। কীর্তন থেকে বালক সেবাও হবে।

এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, নাটনায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নজির এই প্রথম নয়। এর আগেও নানা ঘটনার মধ্যে দুই সম্প্রদায়ের মানুষ সম্প্রীতির নজির দেখিয়েছেন। এই গ্রামে সম্প্রীতি রক্ষা করে চলেছে ২৫০ বছরের প্রাচীন বট গাছটি। এই বট গাছতলার পূর্ব দিকে বাউল ফকির সম্প্রদায়ের আখড়া। আবার পশ্চিম দিকে ঈদগাহ, যেখানে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ নিয়মিত নমাজ পড়েন। পূর্ব–পশ্চিমের মাঝের অংশে দুর্গাপুজো, কালীপুজো, শিবপুজো থেকে নামযজ্ঞের মত নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠান হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: