Home » জাতীয় » আইন ও বিচার » ভ্রাম্যমাণ আদালতের রায় শুনে আসামির দৌড়
ভ্রাম্যমাণ আদালতের রায় শুনে আসামির দৌড়
ভ্রাম্যমাণ আদালতের রায় শুনে আসামির দৌড়

ভ্রাম্যমাণ আদালতের রায় শুনে আসামির দৌড়

ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। লাইসেন্স না থাকার ফলে গাবতলী লিংকের (৮ নম্বর) পরিবহনের বাসচালক মিলনকে (২৫) একমাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক।

এ আদেশের পর তাকে ট্রাফিক বক্সে রাখা হয়। কিন্তু হঠাৎ করে পুলিশ সদস্যদের রেখেই ট্রাফিক বক্সের জানালা খুলে মিলন দিলেন দৌড়… পরে দেখা যায়- মিলনের পেছন পেছন দৌড়াচ্ছেন পুলিশ।

বুধবার (০২ মে) দুপুরের দিকে রাজধানী শহরের মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে রাজধানী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে এই ঘটনাটি ঘটেছে।

মিলনের পেছন থেকে পুলিশ সদস্যরা ‘ধর, ধর’ বলে চিৎকার করতে থাকলেও কেউ এগিয়ে আসেনি। ততক্ষণে আসামি মিলন খামারবাড়ী মোড় পার হয়ে উঠে পড়েন মিরপুরগামী একটি বাসে। তবে আপ্রাণ চেষ্টার পরেও পালাতে সক্ষম হননি মিলন।

ওয়াকিটকি দিয়ে যোগাযোগের মাধ্যমে একটু সামনেই পুলিশ সদস্যরা বাস থামিয়ে আটক করেন দণ্ডপ্রাপ্ত মিলনকে।

মিলন তখন চিৎকার করে বলতে থাকেন, ‘স্যার আমার লাইসেন্স ছিল। পরে লাইসেন্স আনায়ে আপনাদের দেখাইলাম। কিন্তু আপনারা আমার কথা না শুইনাই সাজা দিয়া দিলেন।’

পুলিশ বলেন, চালক মিলনের সাথে কোনো লাইসেন্স ছিল না। লাইসেন্স থাকলেও সঙ্গে না রেখে গাড়ি চালানো অপরাধ। তাই ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করায় তাকে এ সাজা দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, বুধবার দুপুর পর্যন্ত মিরপুর ১, ২, ১০, শ্যামলী ও কল্যাণপুর এলাকায় এই ভ্রাম্যমাণ আদালত চালানো হয়। লাইসেন্সবিহীন গাড়ি চালানো, বেপরোয়া গতিসহ বিভিন্ন কারণে ১০ চালককে প্রায় ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

সর্বমোট মামলা করা হয়েছে ২৪টি, জরিমানা আদায় করা হয়েছে ৫৩ হাজার টাকা। এছাড়াও ৩টি গাড়িকে ডাম্পিংয়ে পাঠানো হয়েছে।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক বিআরটিএ এর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাজহারুল ইসলাম জানান, এটা আমাদের নিয়মিত অভিযান। ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে আমাদের এ অভিযান অব্যাহত রাখা হবে।

ছুটির দিনে কেন অভিযান পরিচালিত হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ছুটির দিনে রাস্তায় গাড়ির চাপ কিছুটা কম থাকে। এই সুযোগে ড্রাইভাররা ছুটিতে থাকে, আর ড্রাইভিং সিটে বসে চালকের সহকারী। এ জন্য আমরা এ দিনটিকে বেছে নিয়েছি।

এ কারণে লাইসেন্সবিহীন এবং অপ্রাপ্ত বয়স্কের চালক বেশি পাওয়া গেছে বলেও জানিয়েছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাজহারুল ইসলাম।

ডিএমপি ট্রাফিক পশ্চিম বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) আবু তোরাব মো. শামসুর রহমান জানান, সমসাময়িক সময়ে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো যেন দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। তাই এসব চালকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলছে। ফিটনেসবিহীন গাড়ি ও লাইসেন্সবিহীন চালকদের বিরুদ্ধে আমাদের এ অভিযান চলবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: