Home » অন্যান্য » ভয়ংকর রূপে আসছে বর্ষা
ভয়ংকর রূপে আসছে বর্ষা
ভয়ংকর রূপে আসছে বর্ষা

ভয়ংকর রূপে আসছে বর্ষা

‘গভীর গর্জন করে সদা জলধর/উথলিল নদ-নদী ধরনীর উপর…’। ঋতুবৈচিত্রের স্নাত-স্নিগ্ধকাল ‘বর্ষা’ এভাবেই ধরা পড়েছিল কবি মাইকেল মধুসুদন দত্তের কবিতায়। বর্ষা নিয়ে কবিদের বৃষ্টিবন্দনা এ অঞ্চলের মানুষেরই মনোছবি তুলে ধরে। কল্পনা, উচ্ছ্বাস, চাঞ্চল্য, আবেগ, বেদনা ও স্মৃতি এগুলোতে একাকার বাংলার এ ঋতু। ব্যস্ত নগরজীবনেও ছাপ ফেলে যায় বৃষ্টিমুখর বাদলদিন।

আবহাওয়া অফিস বলছে, গত কয়েকদিন ধরে বাংলাদেশের ওপর মৌসুমী বায়ু বেশ সক্রিয়। ‍যদিও বর্ষার ঝুম বৃষ্টির দেখা এখনও সেভাবে মিলেনি। তবে শনিবার (৩০জুন) থেকে সারা দেশেই বৃষ্টির প্রবণতা বেড়ে বর্ষার চিরায়ত রূপ দেখা যেতে পারে। বিশেষ করে দক্ষিাণাঞ্চলের খুলনা, বরিশাল এবং চট্টগ্রামে ভারী বর্ষনের সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক ঢাকাটাইমসকে বলেন, বাংলাদেশের ওপর মৌসুমী বায়ু মোটামুটি সক্রিয় রয়েছে, এটা উত্তরাঞ্চলে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। এর প্রভাবে আগামী শনিবার থেকে সারা দেশেই বৃষ্টির প্রবণতা বেড়ে যাবে। বিশেষ করে দক্ষিাণাঞ্চলের খুলনা, বরিশাল এবং চট্টগ্রামে ভারী বর্ষনের সম্ভাবনা রয়েছে।

নাজমুল হক বলেন, এখন বর্ষার স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হচ্ছে। তবে দুই-তিন দিন পর বৃষ্টির প্রবণতা বেড়ে যাবে। শনিবার থেকে পরবর্তী ৭২ ঘন্টা বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। বৃহস্পতিবার সকাল ৬ টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘন্টায় সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে দক্ষিনাঞ্চলের ভোলায় ৪০ মিলিমিটার এবং ঢাকায় বৃষ্টিপাত হয়েছে ১২ মিলিমিটার।

তিনি বলেন, এখন সারা দেশে তাপমাতা স্বাভাবিক রয়েছে। তাপমাত্রা বাড়ার তেমন কোনও সম্ভাবনা নেই। বুধবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাতা রেকর্ড করা হয়েছিল কিশোরগঞ্জের নিকলিতে ৩৫.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রাঙ্গামাটি ২৪ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩২.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সারাদেশের দিন এবং রাতের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

বৃহস্পতিবার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়া ও বিজলী চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারী ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারী ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে।

নদীবন্দরসমূহের জন্য আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হযেছে, রংপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুরা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, সিলেট, ঢাকা, ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার অঞ্চল সমূহের উপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘন্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দর সমূহকে ১ নম্বর (পুনঃ) ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এদিকে মৌসুমী বায়ু অক্ষ ভারতের রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে উত্তর-পূর্ব দিকে আসাম পর্যন্ত পর‌্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় ঢাকায় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৯৫ শতাংশ। আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত সন্ধ্যা ৬ টা ৫০ মিনিটে এবং শুক্রবার ঢাকায় সূর্যোদয় ভোর পাঁচটা ১৪ মিনিটে। (সূত্র : ঢাকাটাইমস)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: