Home » বিশ্ব » মশা ধ্বংসে ব্যবহার করা হবে ড্রোন!!
মশা ধ্বংসে ব্যবহার করা হবে ড্রোন!!
মশা ধ্বংসে ব্যবহার করা হবে ড্রোন!!

মশা ধ্বংসে ব্যবহার করা হবে ড্রোন!!

কথায় আছে না, মশা মারতে কামান-বন্দুক। এটি একটি প্রবাদ হলেও এবার যেনো এর উল্টো ঘটনা ঘটতে চলেছে। মশা মারতে নয় মশা বৃদ্ধি করতেই ব্যবহার করা হচ্ছে কামান-বন্দুক নয়, একেবারে ড্রোন।

মানবজীবনের অন্যতম শত্রু হলো মশা। মশার কামড়ে ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু কিংবা চিকনগুনিয়ায় ভুগে অকালেই পৃথিবী ছাড়তে হয়েছে অনেককেই। মশার কামড় থেকে রেহাই পেতে মানুষ কত কিনা করেছে। কিন্তু এবারে মশা মারতে ওড়ানো হবে ড্রোন। রিমোট কন্ট্রোলচালিত সেই ড্রোন থেকে ছাড়া হবে মশা। তবে সেই পুরুষ মশাগুলো ‘বন্ধ্যা’, যেগুলো বংশবিস্তারে ঠিক বিপরীত কাজ করবে।

সম্প্রতি মাঠপর্যায়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর মশার জীবাণু নিধন ও বন্ধ্যাত্বকরণে বড় সাফল্য পেয়েছে জাতিসংঘ। ব্রাজিলে জিকা ভাইরাস মোকাবিলায় এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। জীবাণুমুক্ত ও বন্ধ্যা করে কয়েক লাখ এডিস মশাকে ড্রোন দিয়ে ছাড়া হচ্ছে আকাশে।

জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ)জানিয়েছে, যেসব পুরুষ মশা মানবশরীরে জিকা ও ডেঙ্গুর ভাইরাস ছড়ায়, সেগুলোকে পরীক্ষাগারে লালন করে জীবাণুমুক্ত ও বন্ধ্যা করা হয়। ফলে এই সকল মশা নারী মশার সঙ্গে মেলামেশা করলেও আর কার্যকর ডিম তৈরি হবে না।

এ বিষয়ে আইএইএর বিশেষজ্ঞ জেরেমি বোয়্যার বলেন, ‘এ পদ্ধতিতে সময়ের সঙ্গে মশার বংশবিস্তার কমানো ও মশার পরবর্তী প্রজন্ম ৯৯ শতাংশ পর্যন্ত দমন করাও সম্ভব। আগে মশা বাতাসে ছেড়ে দেওয়ার কথা আমাদের চিন্তায় ছিল না। কিন্তু এখন ড্রোন ব্যবহার করে তা ছাড়া হচ্ছে।’

এছাড়া প্রচুর খরচ কমিয়ে এবং বৃহৎ মাত্রায় মশা বাঁচিয়ে এটা একটি বড় সাফল্য বলে মনে করছেন তারা। কীটনাশকের ব্যবহার কমাতে ইতোমধ্যে থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, গ্রিস, মন্টিনিগ্রোসহ অনেক দেশই এ প্রকল্পে আগ্রহ দেখিয়েছে বলে জানান জেরেমি বোয়্যার। এছাড়া জীবাণু নিধন ও বন্ধ্যত্বকরণের এ সাফল্যে মশাকে বাঁচিয়ে রেখেও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখা যাবে বলে মনে করছেন গবেষকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this: