Home » অন্যান্য » রক্ত দেয়ার আগে অবশ্যই মনে রাখবে এই বিষয়গুলো
রক্ত দেয়ার আগে অবশ্যই মনে রাখবে এই বিষয়গুলো
রক্ত দেয়ার আগে অবশ্যই মনে রাখবে এই বিষয়গুলো

রক্ত দেয়ার আগে অবশ্যই মনে রাখবে এই বিষয়গুলো

রক্তদান স্বাস্থ্যের জন্য ভাল।পরিবারের সদস্য বা বন্ধু-বান্ধব কারো রক্তের প্রয়োজন হলে আমরা অনেকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেই।তবে মনে রাখবেন শুধু রক্ত দিলেই চলবে না। রক্ত দেয়ার আগে ও পরে রক্তদাতাকে বেশ কিছু ব্যাপারে খেয়াল রাখতে হবে।

মুমূর্ষু রোগীর জন্য যদি রক্তের প্রয়োজন হয়, তখন আপনজন না হলেও অনেকে রক্ত দিয়ে থাকেন। রক্ত দেয়ার জন্য প্রয়োজন সেবামূলক মানসিকতা। আজকাল সহজে একজন আরেকজনকে রক্ত দিয়ে থাকে। বিশেষ করে তরুণরা, খুব আগ্রহ নিয়ে অপরিচিতদেরও রক্ত দিয়ে থাকেন।

রক্ত দিলে রক্তদাতার কোনো শারীরিক ক্ষতি হয় না। সুস্থ, সবল, নিরোগ একজন মানুষ প্রতি চার মাস অন্তর রক্ত দিতে পারেন। রক্তদানের ক্ষেত্রে রক্তদাতার কিছু শারীরিক বিষয় লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন। জেনে নিন রক্তদানের আগে যেসব বিষয়গুলো খেয়াল রাখতে হবে।

সুস্থ থাকতে হবে : রক্তদাতাকে অবশ্যই শারীরিকভাবে সুস্থ হতে হবে। অসুস্থ অবস্থায় কখনো রক্ত দেয়া যাবে না। শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে রক্ত দিলে বিপাকে পড়তে পারেন আপনি।

বয়স : কোনো সুস্থ ব্যক্তি যদি রক্ত দিতে চান, তবে তার বয়স অবশ্যই ১৮ বছর হতে হবে। ১৮ বছরের নিজে কোনো ব্যক্তি রক্তদান করতে পারবেন না।

ওজন ১১০ পাউন্ড : রক্তদানের আগে রক্তদাতার ওজন ও বয়স যাচাই করে নিতে হবে। কোনো ব্যক্তির ওজন যদি ১১০ পাউন্ডের নিচে হয়, তবে ওই ব্যক্তি রক্ত দিতে পারবেন না।এছাড়া রক্তদাতার রক্তচাপের দিকে লক্ষ্য রাখা দরকার। খুব বেশি বা খুব কম কোনোটিই রক্তদানের ক্ষেত্রে সহায়ক নয়

পিরিয়ড ও গর্ভাবস্থায় : কোনো নারী পিরিয়ড চলাকালীন বা গর্ভাবস্থায় রক্তদান করতে পারবেন না। কারণ এ সময় রক্তদান নারীর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

অ্যান্টিবায়োটিক সেবন : অ্যান্টিবায়োটিক সেবনরত অবস্থায় কোনো ব্যক্তি রক্তদান করতে পারবেন না। এ ছাড়া রক্তদানের কাছাকাছি সময়ে কোনো বড় দুর্ঘটনা বা অস্ত্রোপচার হয়ে থাকলে রক্তদান না করা বাঞ্ছনীয়রক্তের হিমোগ্লোবিন ১১-এর নিচে হলে রক্ত দেয়া ঠিক নয়। এতে করে হার্টবিট বেড়ে যাওয়া, ক্লান্ত লাগা, চোখে ঝাপসা দেখা, মাথা ঘোরাসহ অজ্ঞানও হয়ে যেতে পারেন।

রক্ত দেয়ার আগে
তরল খাবার: রক্ত দেয়ার আগে পুষ্টিকর খাবার খেয়ে নিন কিন্তু তৈলাক্ত কিছু খাবেন না। রক্ত দানের আগে প্রচুর পরিমাণে তরল খাবার খেতে হবে।

ঘুমিয়ে নেবেন: যেদিন রক্ত দেবেন তার আগের রাতে অনেকটা সময় ভালো করে ঘুমিয়ে নেবেন।রক্ত দেয়ার দুইদিনের মধ্যে মাথা ব্যথার কোনও ওষুধ খাবেন না।

গান শুনতে পারেন: গান শুনতে পারেন অথবা আপনার আশেপাশে থাকা অন্যান্য ডোনারদের সাথে কথা বলতে পারেন। এমন একটি শার্ট পড়ুন যেটার হাতা কনুইয়ের উপর ওঠানো যায়। সবচেয়ে ভালো হয় টি-শার্ট পড়লে। রক্ত দেয়ার সময় কোনও চাপ অনুভব করা যাবে না।

রক্ত দেয়ার পরে

অ্যালকোহল জাতীয় পানীয়: যেদিন রক্ত দেবেন ওইদিন ভারী কোনও জিনিস বহন করবেন না।রক্ত দেয়ার পর চার গ্লাস পানি খান এবং পরবর্তী ২৪ ঘণ্টা অ্যালকোহল জাতীয় পানীয় গ্রহণ করবেন না।

চুলকানি: আপনার হাতের যে জায়গায় ব্যান্ডেজ লাগানো থাকে ওইটা অন্তত কয়েক ঘণ্টা রাখুন। ব্যান্ডেজ খুলে সাবান ও পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে পারেন। নইলে চুলকানি হতে পারে।

মাথা ঘোরা: রক্ত দেয়ার পরপর হঠাৎ করে দাঁড়ালে অনেকের মাথা ঘোরাতে পারে এবং দুর্বল লাগতে পারে। এরকম হলে একটু শুয়ে থাকুন। একটু ভালো বোধ করলেই আবার উঠে দাঁড়ান।

আয়রন, ফোলাইট: আয়রন, ফোলাইট, রিবোফ্লাবিন, ভিটামিন বি৬ সমৃদ্ধ খাবার যেমন লাল মাংস, মাছ, ডিম, কিশমিশ, কলা ইত্যাদি খাবার বেশি করে খাবেন। এসব খাবার আপনার রক্ত তৈরিতে সাহায্য করে।

শারীরিক পরিশ্রমের: প্রচুর পরিমাণে পানি ও পানি জাতীয় খাবার গ্রহণ করুন। এই ব্যাপারে মোটেও অবহেলা করবেন না। কয়েক ঘণ্টার জন্য শারীরিক পরিশ্রমের কাজ করা থেকে বিরত থাকুন এবং বেশ কিছুদিন সাধারণ সময়ের তুলনায় একটু কম পরিশ্রম করে বিশ্রাম নিন।

তিন মাস পর: রক্তদানের তিন মাস পর নতুন করে রক্ত দিতে পারবেন। এর আগে কোনোভাবেই পুনরায় রক্ত দেবেন না।

রক্তদানের পরে কিছু বিষয় অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে। এক ব্যাগ রক্তদানের পর কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেয়া দরকার। রক্তদানের পর দুই গ্লাস পানি বা জুস খেলে রক্তের জলীয় অংশটুকু পূরণ হয়ে যায়। এর পর পর্যাপ্ত পানি ও জুস পান করতে হবে, সেই সঙ্গে ৮ ঘণ্টা ঘুম। খাবারে কলিজা, বিভিন্ন ধরনের কচু, ডিম, দুধ রাখতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: