Home » খেলাধুলা » ক্রিকেট » রুবেল হোসেনের রেকর্ড
রুবেল হোসেনের রেকর্ড
রুবেল হোসেনের রেকর্ড

রুবেল হোসেনের রেকর্ড

সঠিক সময়ে ইয়র্কার মারতে ভালোবাসেন যেকোনো পেসার। বিশেষ করে ইনিংসের শেষ দিকে। আর এ কাজটায় বেশ পারদর্শি হলেন শ্রীলংকার পেসার লাসিথ মালিঙ্গা। ৪৮তম ওভারে রুবেল হোসেন ঠিক তা-ই করলেন। তাঁর নিখুঁত নিশানার ইয়র্কারে জিম্বাবুয়ের ব্যাটিং পিটার মুরের স্টাম্প উড়ে গেল। ইনিংস এর শেষ হওয়ার পথ শুরু তখন থেকেই। আর সেই সাথে রুবেল হোসেনের হান্ড্রেড উইকেট পাওয়ার পথ সুগম হয়ে গেল কিন্তু এর জন্য আর একটা উইকেট প্রয়োজন ছিল তার ।

কিন্তু জিম্বাবুয়ের পেসার তেন্দাই চাতারা রুবেলকে অপেক্ষায় রাখেননি।  এ পেসার  রুবেলের পরের বলটা টেনে আনলেন স্টাম্পে, ব্যস, ওয়ানডেতে ‘সেঞ্চুরি’ হয়ে গেল রুবেল হোসেনের!

পঞ্চম বাংলাদেশি হিসেবে অবশ্য রুবেল হোসেনের  উইকেট পাপ্তির এই সেঞ্চুরি। রুবেলের আগে মাইলফলকটি ছুঁয়েছেন মোহাম্মদ রফিক, আবদুর রাজ্জাক, মাশরাফি বিন মুর্তজা আর সাকিব আল হাসান। বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে ওয়ানডেতে সবার আগে শততম উইকেটের মাইলফলক ছুঁয়েছেন স্পিনার  আব্দুর রাজ্জাক (৬৯তম ওয়ান্ডে ম্যাচ) এর মাধ্যমে। দ্বিতীয়তে মাশরাফি, যার লেগেছে ৭৮টি ম্যাচ। সাকিবের দরকার হয়েছিল ৮৮টি ম্যাচ এবং মোহাম্মাদ রফিকের ১০৪টি ম্যাচ। রুবেল সেই একই কীর্তি গড়লেন ৮১তম ম্যাচের মাধ্যমে। অর্থাৎ রুবেল ঢুকে পড়লেন মাশরাফি ও সাকিবের মাঝে—বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে ওয়ানডেতে তৃতীয় দ্রুততম ১০০ উইকেটশিকারির তালিকায় নাম লেখিয়ে।

এই পরিসংখ্যানটি বাংলাদেশী  ক্রিকেটমোদীদের জন্য বেশ  শুখকর নয়। কারণ  আমাদের কি বেশ দেরি হয়ে যাচ্ছে না?  যেখানে ওয়ানডেতে দ্রুততম ১০০ উইকেট শিকারের মাইলফলকে আমাদের বোলারদের অবস্থান কোথায় আর অন্যান্য বিশ্বখ্যাত বোলারদের পরিসংখ্যানের অবস্থান  ঠিক কোথায়?

ওয়ান্ডেতে সবার ওপরে থাকা মিচেল স্টার্ক উইকেট শিকারের ‘সেঞ্চুরি’ উদ্‌যাপন করেছেন  মাত্র ৫২তম ম্যাচে। এ তালিকায় দশম স্থানে রয়েছেন ডেনিস লিলি, যার লেগেছে ৬০তম ম্যাচ। অস্ট্রেলিয়ান এই পেস কিংবদন্তির থেকে ৪ ম্যাচ বেশি খেলে যেখানে কুড়িতম অবস্থান অ্যালান ডোনাল্ড। বাংলাদেশে সবার আগে এ কীর্তি গড়া রাজ্জাক সেই একই তালিকায় ৪১তম। রুবেল যে শীর্ষ পঞ্চাশেও নেই, সেটা পরিসংখ্যান না ঘেঁটেও বলা যায়।

অথচ, রুবেল বাংলাদেশের জাতীয় দলে খেলছেন বহুদিন  ধরে। ২০০৯ সালে ওয়ানডে অভিষিক্ত রুবেলের পরের বছরই অভিষেক ঘটেছে অজি ক্রিকেটার মিচেল স্টার্কের। মাইলফলকটি ছুঁতে তাঁর সময় লেগেছে ৬ বছর। সেখানে রুবেল সময় নিলেন ৯ বছর। স্টার্কের সঙ্গে তুলনায় ঠিক না গেলেও সময়টা কি বেশি নয়?

কিংবা সাকলায়েন মুশতাকের কথাই ধরুন। পাকিস্তানের এ কিংবদন্তি অফ স্পিনার ১৯৯৫ সালে ওয়ানডে অভিষেকের পর ১০০ উইকেট পেতে সময় নিয়েছেন মাত্র ২ বছর। আর এখন বিশ্বের অন্যতম সেরা স্পিনার সাকিবের তা ছুঁতে সময় লেগেছে ৪ বছর। রাজ্জাকের ক্ষেত্রেও একই সময় লেগেছে।

তবে ‘বিশেষজ্ঞ’ স্পিনার সাকলায়েনের সঙ্গে এ তুলনায় ‘অলরাউন্ডার’ সাকিবের ২ বছর সময় বেশি নেওয়া, খুব বেশি চোখে লাগে না। যেটা লাগে মাশরাফির ক্ষেত্রে, কিন্তু সে জন্য দায়ী তাঁর ক্রমাগত মরণঘাতি ইনজুরি। ২০০১ সালে অভিষিক্ত মাশরাফির ১০০ উইকেট পেতে সময় লেগেছে ৭ বছর।

তবে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারির তালিকায় প্রথম তিনটি জায়গা কিন্তু এই ‘ত্রয়ী’র—মাশরাফি (২৩২), সাকিব (২২৯) ও রাজ্জাক (২০৭)। রুবেল পাঁচে থাকলেও ডাবল সেঞ্চুরিই করতে কত সময় নেবেন কে জানে! সেটা সময়ের অপেক্ষায় থাকা যাক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: