Home » জাতীয় » শীতের দাপটে কারো পৌষ মাস-কারো সর্বনাশ
শীতের দাপটে কারো পৌষ মাস-কারো সর্বনাশ
শীতের দাপটে কারো পৌষ মাস-কারো সর্বনাশ

শীতের দাপটে কারো পৌষ মাস-কারো সর্বনাশ

পৌষ মাসের চিত্র হলো সকাল এবং সন্ধ্যায় কিছুটা কুয়াসা দেখা যায় , দুপুরে প্রচুর রোদ, কখনো একটু ঝিড়ঝিড়ে বাসাত। কিন্তু প্রায় মাসটি তার বৈশিষ্ট গত দিক থেকে শেষ পর্য়ায়ে এসে পরেছে। দিন শেষে দেখা যায় হালকা কুয়াসা , পুরো সকাল পর্যন্ত এর প্রভাব বিস্তার করছে। রোদের তেমন তাপ অনুভব হচ্ছে না। কিছু লোক এটাকে আনন্দের সাথে বরন করে নিচ্ছে এবং কারও কাছে দুভোগের।

দেশ ব্যাপী শৈত্যপ্রবাহ চলছে ,বলে আবহাওয়া বিদরা জানিয়েছে।। দেশের অধিকাংশ জেলা সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগামী তিন থেকে চার দিন পর্যন্ত এর কোন পরিবতন নাও হতে পারে।

এই শীত কে উপেক্ষা করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবীরা তাদের কাজে যোগ দিচ্ছে। একই সাথে তার তাদের শীতের পোষাক পরছে। খেজুরের গুড়সহ তার শীতের বিভন্ন ধরনের সবজি ক্রয় করছে। শীত মানেই তো পিঠাপুলির সময়,একাথা জানালেন রায়হান। পরিবারের সবাইকে নিয়ে শীতের পিঠা খাওয়ার যে কাতটা  আনন্দের তার বালার অপেক্ষা রাখেনা । রাইয়ান যখন বাজারের ব্যাগ নিয়ে গাড়িতে উঠলেন তখন ৮-১০ বছরেরএকটি শিশুতার  গাড়ির সামনে এসে হাজির হলো। গায়ে ময়লা, ছেঁড়া জামা; ঠান্ডায় কালচে শরীর। শীতের কাঁপুনিও শরীরে স্পষ্ট। কিশোরগঞ্জ বাড়ি,তার নাম সিয়াম। বাবা নেই, থাকে মায়ের সঙ্গে মোহাম্মদপুরের বাঁশবাড়ি এলাকার বস্তিতে। সিয়ামদের কাছে শীত যে কি কষ্টের তা জানালো। তারা বলল যে, গরমই ভালো।

অনেকটা সিয়ামের মতো অবস্থা রহমত আলীর। দিন পাঁচেক আগে গাইবান্ধা  থেকে এসেছিল রহমত আলী তার অবস্থা প্রায় সিয়ামের মত। রিকশা চালাচ্ছেন মাত্র একটি শার্ট পরে। তিনি মিরপুরের ছো্টি একটি গ্যারেজে থাকবেন। রিকশা চালালে শীত লাগে না বলে রহমত জানিয়েছেন। তবে বৃহসস্পতিবার রাত তাকে আগুনের পাশে কাটাতে হয়েছে।শীতের্ এমন চিত্র দেখা যায় কারওয়ান বাজার, কমলাপুর রেলস্টেশন, দোয়েল চত্বর-সংলগ্ন ফুটপাতসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায়। শীতের এই অবস্থায় তার এলাকায় বেশিরভাগ লোক গোল হয়ে কাগজ-খড়কুটো পুড়িয়ে উষ্ণতা নিতে দেখা গেছে। ফুটপাতে কাটে আবার অকের জীবন।

শীতের নিম্নবিত্ত ও ছিন্নমূল মানুষের কষ্ট সীমাহীন হলেও হাসি ফুটেছে দোকানিদের। নিউমার্কেটের একাধিক ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, গত বছরের মতো এ বছরও শীত তেমন ছিল না। তবে দুই দিন থেকে শীত বাড়ায় শীতের কাপড় বিক্রি বেড়েছে। সেই সঙ্গে দামও কিছুটা বেড়েছে বলে স্বীকার করেছেন তাঁরা।

সায়েন্স ল্যাবরেটরির মোড়ে কথা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবদুর রশিদের সঙ্গে। রশিদ বলেন, অন্য জায়গার চেয়ে ক্যাম্পাসে শীত একটু বেশি। পাতলা কম্বলে আর শীত মানছে না। নীলক্ষেতে এসেছিলেন লেপ কিনতে। লেপ বানাতে দেরি হবে। এই ফাঁকে এলিফ্যান্ট রোডে যাচ্ছেন শীতের কাপড় দেখতে।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নয়টি আউটলেট আছে ফ্যাশন হাউস ‘ওটু’র। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী জাফর ইকবাল বলেন, গত দুদিন থেকে শীতের কাপড়ের চাহিদা বেড়েছ। তবে গতকাল শুক্রবার সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে। তিনি বলেন, ‘শুধু আমার আউটলেটেই নয়, নয়টি আউটলেটেই গতকাল শীতের কাপড় বেশি বিক্রি হয়েছে।’

শীতের এই ধার কত দিন থাকবে—জানতে চাইলে আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ বজলুর রশীদ বলেন, আগামী তিন-চার দিন এই অবস্থা থাকতে পারে। তবে ঢাকায় যে শীত পড়েছে, এটাকে শৈত্যপ্রবাহ বলা যাবে না। আজও (গতকাল) সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৫ থেকে ১০ কিলোমিটারের মধ্যে ছিল।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামলে তাকে শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়। ৬ ডিগ্রির নিচে নামলে তাকে বলা হয় তীব্র শৈত্যপ্রবাহ।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: