Home » জীবনধারা » সজিনার যত ভেষজগুণ!
সজিনার যত ভেষজগুণ!
সজিনার যত ভেষজগুণ!

সজিনার যত ভেষজগুণ!

সজিনা প্রায় তিনশ’ রোগের প্রতিকার এবং প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে। দেহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ কিডনি ও লিভারকে সচল রাখে। পাশাপাশি ডায়াবেটিস এবং শরীরের কোলেস্টরেলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। দেহের অতিরিক্ত ওজন কমানো, মায়ের দুধের পরিমাণ বাড়ানো, হজমে সহায়তাকরণ এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূরীকরণেও রাখে বিরাট ভূমিকা।

এছাড়া ক্যান্সার, ব্লাডপ্রেসার, অ্যানিমিয়া, কিডনির পাথর, বন্ধ্যাত্ব, হার্ডের ব্যথা, জয়েন্টের ব্যথাসহ আরো নানা রোগের জন্য বেশ উপকারী। শরীরের রক্তশূন্যতা দূর করতে সজিনার ডাঁটা সিদ্ধকরে চিবিয়ে খেতে হয়। এছাড়া কৃমিনাশক ও জ¦রনাশক হিসেবে কাজ করে। ফলের নির্যাস ধনুষ্টংকার, প্যারালাইসিস, যকৃত ও প্লীহাজনিত রোগের উপকার করে। সজিনার পাতা ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে।

জর ও সর্দি সারাতে সজিনাপাতার কার্যকারিতা বেশ। নিয়মিত পাতার রস খেলে শাসকষ্ট দূর হয়। পাতা বেটে টিউমার এবং ফোড়ায় ব্যবহার করলে উপকার হয়। দাঁতের মাড়ি ফুলে যাওয়ায় কিংবা রক্ত দেখা দিলে পরিমাণমতো পানি দিয়ে সজিনা পাতা গরম করে নিয়মিত দু’তিনবার কুলকুচা করতে হবে। এভাবে ৭/৮ দিন ব্যবহার করলে প্রতিকার পাওয়া যায়। ৮/১০ ফোঁটা পাতার রস, সে সাথে এক কাপ পরিমাণ দুধ মিশিয়ে খেলে হেঁচকিওঠা বন্ধ হয়ে যাবে। পাকাপাতার ২/৩ চামচ রস খাবারের আগে খেলে উচ্চরক্তচাপ কমে যায়। তবে ডায়াবেটিস রোগীকে এ রস খাওয়ানো যাবে না।

কুকুরে কামড়ালে সজিনা পাতা পিষে এর সাথে পরিমাণমতো হলুদ, রসুন, গোলমরিচ ও লবণ মিশিয়ে খেলে বিষ নষ্ট হয়ে যায়। সাপেকাটা রোগীর জন্য এর মূল ও বীজ ব্যবহার হয়। কানসহ শরীরের কোনো স্থানে ব্যথা হলে কিংবা ফুলে গেলে সজিনার শিকড় বেটে রস বের করে প্রলেপ দিলে উপকার পাওয়া যায়।

কুষ্ঠ রোগ হলে বীজের তেল বা বীজ বেটে প্রলেপ দিলে ভালো কাজ করে। বাতে আক্রান্ত করলে প্রতিদিন ৪/৫ চা চামচ গাছের ছালের রস খেলে আরাম অনুভব হবে। হাঁপানীর জন্য ফুলের রস বেশ উপকারী। এছাড়া দুধের সাথে মিশিয়ে খেলে কিডনির পাথর নিমূল করে। ফুল ও ডাঁটা পক্স প্রতিরোধক। মূলের ছাল বেটে প্রলেপ দিলে দাদ (দাউদ) রোগ ভালো হয়। কপালে আঠা মালিশ করলে কিংবা দুধের সাথে মিশিয়ে খেলে মাথা ব্যথা দূর হয়। খুসকি দূর করতে পাতার রস মাথায় ভালোভাবে ঘষতে হবে।

সজিনার ফল, বিচি, পাতা, ফুল, গাছের বাকল, মূল এবং আঠা প্রতিটি মহামূল্যবান। এসব ব্যবহারে দেহে পুষ্টির অভাব পূরণ হয়। পাশাপাশি শরীরকে রাখে নীরোগ। তাই আসুন, বসতবাড়ির পতিত জায়গায় সজিনা গাছ রোপণ করি। নিজে সুস্থ থাকি। অপরকেও রাখি তরতাজা। এমন সুযোগ সবার যেন হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: