Home » বাংলাদেশ » অপরাধ » সাটুরিয়ায় নারীর মরদেহ নিয়ে বিবাধ, দাফনে বাঁধা!

সাটুরিয়ায় নারীর মরদেহ নিয়ে বিবাধ, দাফনে বাঁধা!

”`আমি গরিব মানুষ, দিন এনে দিন খায়। ঘরে দুই হাজার টাকাও জমা নাই। মেয়ের মরদেহ নিয়ে সারারাত বইসা আছিলাম। দাফনের জন্য তারা ৫০ হাজার টাকা দাবি করছে। টাকা না হলে দাফন হবে না বলে জানাইছে কবরস্থান কমিটি। এখন আমি এতো টাকা কই পাবো? কিভাবে মেয়ের দাফন করবো?”

শনিবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৮টার দিকে নিজ বাড়ির উঠানে মেয়ের মরদেহ সামনে নিয়ে এভাবেই বিলাপ করছিলেন হনুফা বেগম নামে মধ্যবয়সী নারী। মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার ধানকোড়া ইউনিয়নের বরুন্ডী গ্রামের মোসলেম মিয়ার স্ত্রী হনুফা বেগম।

মোসলেম মিয়া বলেন, আমার দুই ছেলে ও দুই মেয়ের। বিয়েও করেছেন ২টি। দ্বিতীয় পক্ষের মেয়ে লাবনী আক্তার (২৬)। শুক্রবার (১৩ এপ্রিল) বিকেলে আশুলিয়ার ভাড়া বাসায় মেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। খবর পেয়ে মেয়ের মা আশুলিয়ার পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির কার্যালয় এলাকার ওই বাড়ি থেকে মেয়েকে নিয়ে ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

হাসপাতালে নেওয়ার পরই ডাক্টাররা জানালেন, তাদের মেয়ে লাবনী স্ট্রোক করে অনেক আগেই পথিমধ্যেই মারা গেছেন। তাই আর দেরি না করে মেয়ের মরদেহ নিয়ে গ্রামের বাড়ি চলে আসেন হনুফা বেগম। এসময় লাবনীর স্বামী জালাল হোসেনও সঙ্গে ছিলেন।

তার স্বামী বলেন, লাবণীর মরদেহ এনে গোসল শেষে জানাজা নামায শেষে কবর স্থানে দাফনের জন্য নিয়ে গেলে কবরস্থানের কর্তৃপক্ষরা লাশ দাফন করতে দেয়নি। বরং তারা ৫০ হাজার টাক দাবী করেন। কমিটির সদস্যরা হলেন, এলাকার মবেদ আলীর ছেলে হাসেন মিয়া, হুসেন মিয়ার ছেলে নুরু মিয়া এবং বজলুর রশিদের ছেলে মান্নান হুজুর। তাদের দাবি টাকা পরিষদ না হলে লাশ দাফন করা যাবে না।

এই বিষয়ে এলাকার মাতুব্বর হোসেন মিয়ার ছেলে নুরু মিয়া বলেন, কবরস্থানের উন্নয়ন বাবদ এক গাড়ি ইট কেনার টাকা মৃতের পরিবারকে দিতে হয়। এরই ধারাবাহিকতায় মুরুব্বিরা লাবনীর পরিবারের কাছে নগদ টাকা অথবা ওই ইট কিনে দেওয়ার জন্য বলেন। কিন্তু এতে লাবনীর মা-বাবা রাজি হননি। তাই মরদেহ দাফনে আপত্তি জানানো হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কারোরি নাম প্রকাশ করেন নি তিনি।

জিজ্ঞাসাবাদে মান্নান হুজুর জানান, লাবনীর পরিবারের কাছে তিনি কোনো টাকা-পয়সা দাবি করেননি।
কবরস্থান কমিটির সাধারণ সম্পাদক হাসান মাহমুদ ওরফে হাসেন আলীর বাড়িতে গেলে তাকে বাড়িতে খুজে পাওয়া যায়নি। এমনকি তার মোবাইল ফোনে বার বার ফোন করা হলেও সে একবারও কল রিসিভ করেননি।

মৃত লাবনীর মামাতো ভাই বাবুল হোসেন বলেন, নিয়ম অনুযায়ী স্বামীর বাড়ি এলাকায় দাফন হবে মৃত লাবনীর। কিন্তু বাবার বাড়ি এলাকায় মরদেহ দাফন করতে চাওয়ায় মৃত্যুর কারণ নিয়ে এলাকায় নানান গুঞ্জন ওঠে। বহিরাগত মরদেহ দাফন করতে হলে কিছু টাকা দিতে হবে বলে জানান স্থানীয়রা। তাই লাবনীর পরিবারের কাছে টাকা চাওয়া হয়ে থাকতে পারে।

সাটুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুর রহমান বাংলানি্উজকে বলেন, মরদেহ দাফনের জন্য ৫০ হাজার টাকা চাওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। ভুক্তভোগী পরিবার থেকে অভিযোগ পেলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে বলেও জানান তিনি।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this: