Home » বিশ্ব » সিরিয়ায় মার্কিন জোটের হামলা নিয়ে বিশ্বনেতাদের মন্তব্য
সিরিয়ায় মার্কিন জোটের হামলা নিয়ে বিশ্বনেতাদের মন্তব্য
সিরিয়ায় মার্কিন জোটের হামলা নিয়ে বিশ্বনেতাদের মন্তব্য

সিরিয়ায় মার্কিন জোটের হামলা নিয়ে বিশ্বনেতাদের মন্তব্য

গতবছরেই বিরোধীদের ওপর রাসায়নিক হামলার অভিযোগে সিরিয়াতে মিসাইল হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ঠিক একই ভোবে গত শুক্রবার (১৩ এপ্রিল) রাতে সেই ঘটনার পূনরাবৃতি ঘটান এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তার নির্দেশেই যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স এর যৌথ মতে মিসাইল হামলা চালাতে সক্ষম হয় মার্কিন বাহিনী।

ট্রাম্পের নির্দেশে সিরিয়ায় হামলার পর শনিবার নিজের টুইটারে টুইট করে জানান, “শিশন কমপ্লিট”। একই ভঙ্গিতে ২০০৩ সালে ইরাকে হামলা করেছিলেন যুক্তরাষ্টের তৎকালিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ আর এই কারনে তাকে জেদী রাষ্ট্রপতি খেতাবে ভুশিত করা হয়।

তবে মিসাইল হামলা নিয়ে পেন্টাগণনের দাবি, সিরিয়ার পূর্ব গৌতায় রাসায়নিক হামলার জন্য আসাদবাহিনীকে দায়ী করে বিভিন্ন রাসায়নিক অস্ত্র স্থাপনাগুলোর লক্ষ্য করে মিসাইল হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য। এসময় সারা রাত ১০৫টি মিসাইল ছোড়া হয় বলে দাবি তাদের।আর মিসাইলের লক্ষ ছিলো রাজধানী দামেস্ক এর একটি গবেষণা কেন্দ্র ও হোমসের ২টি অস্ত্র ঘরে হামলা।

তাই এই হামলাকে প্রশংসা জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, নিখুঁত অভিযান। ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের বিচক্ষণতার জন্য ধন্যবাদ। এর চেয়ে ভালো কিছু হওয়া সম্ভব ছিল না।

ট্নরাম্পের এমন কার্য কলাপকে মার্কিরান রাজনিতী পাড়ার নীতিনির্ধারকদের একটা বড় অংশ সমর্থন জানাচ্ছেন।বিপরীতে অন্যদলটি বিগত ৭ বছর ধরে চলা সিরিয়া যুদ্ধকে ‘মার্কিন সরকারের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের অভাব’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। আর এই দ্বিতীয় দলেরই একজন রিপাবলিকান সিনেটর জন ম্যাককেইন।

মিসাইল হামলার পর একটি বিবৃতিতে তিনি জানান, কেবল আকাশপথে হামলার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের মিশনে সফল হওয়া সম্ভব না। দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের জন্য সিরিয়া ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোতে অনেক বেশি আক্রমণাত্মক কৌশল অবলম্বন করতে হবে।

এক বছর আগে সিরিয়ার আসাদ সরকারের পতনের জন্য মিসাইল হামলার চেয়েও অনেক বেশি আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ গ্রহণের পক্ষে মত দিয়েছিলেন ম্যাককেইন।

মার্কিন নেতাদের সমর্থন থাকলেও সিরিয়ায় হামলা নিয়ে ভিন্ন মত প্রকাশ করেছে বিশ্বনেতারা। একাধিক পশ্চিমা পরাশক্তির মতে, এ হামলা সিরিয়ার রাসায়নিক অস্ত্র কার্যক্রমের একদম কেন্দ্রে আঘাত হেনেছে, যদিও তা আসাদবাহিনীকে উৎক্ষেপ করা মোটেও যথেষ্ট নয়।

তবে সিরিয়ায় আর কোনো সামরিক অভিযানে অংশ নিতে ভিন্নমত প্রকাশ করেছে জাপান।কিন্তু জাতিসংঘের স্থায়ী সদস্য হিসেবে মিত্র যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যকে এই বিষয়ে সমর্থ ন করেন তারা।

জার্মানির চ্যান্সেলর আঙ্গেলা মেরকেল বলেন, ভবিষ্যতে রাসায়নিক হামলার ব্যাপারে সিরিয়া সরকারকে সতর্ক করতে এ হামলার প্রয়োজন ছিল।

এদিকে যুক্তরাজ্য হামলায় অংশ নিলেও, এর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে দেশটির বিরোধী লেবার পার্টির নেতারা। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে’র সরকারের এ অভিযানের আইনগত বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তারা।

সবার আগেই জানা ছিল যে এই হামলায় তুরস্ক সমর্থন দিয়েছে। সিরিয়ার ওপর মার্কিন হামলাকে ‘সঠিক জবাব’ বলে জানায় দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

আবার এই হামলার বিপক্ষে মত জ্ঞাপন করেছেন চীন। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বর্ননা মতে জানা যায়, সিরিয়ার হামলা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।

রাশিয়ার মতো একই পথে হাঁটছে ইরান। দেশটির শীর্ষ নেতা আয়াতুল্লাহ আল খোমেনি বলেন, এ হামলা অপরাধ ছাড়া আর কিছুই না। আর এ অপরাধের জন্য যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের আমি পরিষ্কারভাবে অপরাধী বলছি।

যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররাষ্ট্র জর্দান এ হামলাটাকে খুবই বিপদজনক আগ্রাসন হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

জর্দানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি বিবৃতিতে বলা হয়, এর মাধ্যমে সিরিয়ার নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা আরও নষ্ট হবে। ফলে এ অঞ্চলে কোণঠাসা হয়ে পড়া সন্ত্রাসবাদীরা আবারও বিস্তারের সুযোগ পাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: