Home » জাতীয় » ৯৯ কোটি টাকা পাচ্ছেন সিনেমা হলের মালিক
৯৯ কোটি টাকা পাচ্ছেন সিনেমা হলের মালিক
৯৯ কোটি টাকা পাচ্ছেন সিনেমা হলের মালিক

৯৯ কোটি টাকা পাচ্ছেন সিনেমা হলের মালিক

ইটালিয়ান মার্বেল ওয়ার্কস লিমিটেড নামে একটি কোম্পানি পুরান ঢাকার ওয়াইজঘাটে একসময়ে মুন সিনেমা হলের মালিক ছিল।ওই সম্পত্তি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের সময়।পরে ওই সম্পত্তি মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের অধীনে ন্যস্ত করা হয়। ইটালিয়ান মার্বেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাকসুদুল আলম এই সম্পত্তির মালিকানা দাবি করেন।পুরাতন ঢাকার মুন সিনেমা হলের মালিকানা নিয়ে একটি মামলাও করা হয়েছিল।

মামলার পর সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী বাতিলের যে রায় এসেছিল সেই জমি ও সেখানে গড়া স্থাপনার মূল্য ৯৯ কোটি টাকার ওপরে। বিশেষজ্ঞরা যে অর্থ  নির্ধারিত  করেছে তা তিন কিস্তিতে পরিশোধ করতে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট ও এর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত।

এই  অর্থ পরিশোধ করতে হবে ইটালিয়ান মার্বেল ওয়ার্কস লিমিটেডকে ।আজ দায়িত্বরত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞার নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।

আদালত নির্দেশ দেয়,প্রথম দুই মাসের মধ্যে ২৫ কোটি, দ্বিতীয় দুই মাসের মধ্যে বাকি ২৫ কোটি ও চলতি বছরের ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে বাকি অর্থ পরিশোধ করতে  হবে।আদালতে শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

ইটালিয়ান মার্বেল ওয়ার্কস লিমিটেডের মালিক মাকসুদুল আলমের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী তৌফিক নেওয়াজ।

জিয়াউর রহমানের শাসনামলে ঘোষিত এক সামরিক ফরমানে সরকার কোনো সম্পত্তি পরিত্যক্ত ঘোষণা করলে তা আদালতে চ্যালেঞ্জ করা যাবে না বলা হয়। ইটালিয়ান মার্বেল ২০০০ সালে হাইকোর্টে ওই ফরমানসহ সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী চ্যালেঞ্জ করেন। ২০০৫ সালের ২৯ আগস্ট হাইকোর্ট রায় দেন। মোশতাক, সায়েম ও জিয়ার ক্ষমতাগ্রহণ সংবিধানপরিপন্থী ঘোষণা করা হয়। ২০১০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হয় ।আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় বহাল রাখেন।মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টকে  ৯০ দিনের মধ্যে ইটালিয়ান মার্বেলকে মুন সিনেমা হল ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এ অবস্থায় সম্পত্তি ফিরে পেতে ২০১২ সালের ১০ জানুয়ারি ইটালিয়ান মার্বেল ওয়ার্কস মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন করেন। এর ধারাবাহিকতায় ২০১৭ সালের ১৫ জানুয়ারি আপিল বিভাগ ওই সম্পত্তি অভিজ্ঞ ও নিরপেক্ষ এক প্রকৌশলীকে দিয়ে জমি ও স্থাপনার মূল্য নির্ধারণ করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেন।

অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরীকে দিয়ে এই মূল্য নির্ধারণ করতে বলা হয়।রাষ্ট্রপক্ষ এর ধারাবাহিকতায় এ–সংক্রান্ত প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করে । আজ ওই আবেদনটি নিষ্পত্তি করে এই আদেশ দেওয়া হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: