Home » অন্যান্য » অলসতা নীরবে ধ্বংস করছে আমাদের উন্নতির পথ
অলসতা নীরবে ধ্বংস করছে আমাদের উন্নতির পথ
অলসতা নীরবে ধ্বংস করছে আমাদের উন্নতির পথ

অলসতা নীরবে ধ্বংস করছে আমাদের উন্নতির পথ

মানুষ স্বভাবতই আরাম প্রিয়। কঠোর পরিশ্রম আর সাধনা বরাবরই আমাদের কাছে বিষাক্ত। আমরা ভাবি সবই একাই হয়ে যাবে আর তাই সেই পথ চেয়ে থাকি যে সফলতা সময় হলে একাই হবে।

রোজ রাতে ইন্টারনেটে ফেসবুক, ইউটিউব গেম, মুভি আর গান বাজনা নিয়েই ব্যস্ত থাকি। রাতে ঘুমানোর বিষয়টি একদমই নেই বললেই চলে। আর সেই সাথে পরের দিনের কথা মোটেও ভাবনায় থাকে না। থাকে না কোন উদ্দেশ্য আর নিয়মনীতি। সকাল হলেও ঘুমের রাজ্যে থাকি আমরা আর সেই ঘুম যেন শেষ হবার নয়। অথচ জীবনের অতি প্রয়োজনীয় বিষয় ঘুমকেও আমরা সঠিক ভাবে ব্যবহার করিনা। কথায় বলে, সময়ের কাজ অসময়ে করলে তাতে কোন ফল থাকে না। হ্যা আর আমরা সেটাই বেশি করে থাকি। পড়া লেখা, আদব কায়দা, ধর্ম, খেলাধুলা এসব যেন আজ কোন সকালেই শেষ হয়ে গেছে।

আচ্ছা একটু বাল্যকালের সময়টার দিকে তাকাবেন কি?

তখন শৈশবের সময় । রোজ সকাল সকাল ঘুম হতে উঠে ফজরের নামাজ আদায় করেই কিন্তু আমরা মক্তব পড়তে যেতাম দল বেধে। তার পর পড়ার টেবিলে মন দিয়ে পড়তে বসতাম। না হয় কেউ কেউ টিউশন বা প্রাইভেট পড়তে ব্যস্ত থাকতাম। তার পরেই সকালের খাবার খেয়ে বন্ধুদের সাথে দল বেধে স্কুলে যেতাম। স্কুলে কত মজা আর হাসি খুশি সময় কাটাতাম। পড়ার প্রতিযোগিতা গড়তাম বন্ধুদের সাথে। কঠোর শ্রম আর মেধার বিনিময়ে পরীক্ষায় ভালো ফলাফল। স্কুল থেকে ফিরে দল বেধে গসুল করতে যেতাম পাড়ার পুকুরে পুকুরে বা নদীতে। সে কি মজার দিন গুলো। এরি মধ্যে সবাই মিলে সময় মত নামাজ আদায় করতাম। বিকেলে পাড়ার সব ছেলে মেয়েরা মিলে মাঠে খেলাধূলা করতাম। কতই না মজা হত তখন। সন্ধ্যার নামাজ শেষে আবার গভীর মনোযোগ দিয়ে পড়ার টেবিলে বসতাম।

বড়দের সাথে সম্মানের সাথে কতা বলা, ছোটদের স্নেহো ভালোবাসা আর প্রতিবেশিদের সাথে মিলেমিশে দিন কাটানো ছিল এক অন্যরকম বিষয়। তাদের সাথে মিলেমিশে কাজে সহযোগিতা করার বিষয়টি ছিল আরও ভালো লাগার। কোন হিংসা বিদ্বেশ থাকতো না মনের মাঝে। সবারই তখন দিন গুলো কাটতো অনেক আনন্দ আর মজার সাথে।

তখনকার সময়ে বিনোদোনও ছিল। সেটা ছিল টিভি দেখা, নাচ গানের প্রতিযোগিতা, খেলাধুলা, রেডিও, ভিডিও গেমস ইত্যাদি। যেখানে সবাই মিলে মিশে সেই আনন্দগুলো ভাগ করে নিতাম।

সেই সময় বড়রা কঠোর পরিশ্রম আর কাজের প্রতি মনোযোগী ছিল। কোন অলসতার ছাপ গায়ে লাগতো না। সবাই মিলেমিশে সকাল বেলা হতেই যার যার কাজে ব্যস্ত হয়ে পরতো।

এ জীবনটা ছিল খুবই সুন্দর আর আনন্দধারার। কিন্তু এখনকার সময়ে তার কিছুই হয় নেই। সময়, দিন সকাল-বিকাল আর রাত সবই একই রকম রয়েছে গেছে শুধু পাল্টে গেছে আমাদের জীবন ধারা। তখনকার সময়ে ছিল কঠোর শ্রম আর এখন হয়েছে যত সব অলসতার কারখানা।

এখন আর সকালে ফজর নামাজের সময়টা মনে থাকে না। মনে থাকে না সূর্য্য উদয় হবার সময়টাও। তাই নীরবে অলসতার সাথে হাত মিলিয়ে আমরা আরাম প্রিয়তা লাভ করি বেলা ১০টা অবদি। কি স্কুল বা পড়া লেখা কিছুই মাথায় নেই। সময় হলেই হবে বলে বসে থাকি। আর এতে শরীরের মাঝে বাসা বাধছে নানান ধরনের রোগবালাই। শরীরে জমছে চর্বি আর সেই সাথে আরও ব্যাধি। মোবাইল ফোনের মাঝে চলছে আরেকটি জগৎ যার কোন মানেই নেই। সারাটা দিন কাজকে ফাকি দিয়ে পরে থাকি সোস্যাল মিডিয়ায়, গেম, আর গান বাজনায়। এতে দূরে পড় রয়েছে প্রত্যহের কাজ। ছেলে মেয়েরা লেখা পড়ার বিপরীতে সময় দিচ্ছে মোবাইল ফোনে। আধুনিকতার ছোয়ায় মস্তিস্কগুলো অকেজো হয়ে পরেছে। ঘিরে ধরেছে নানান অলসতায়। অযথা পার হচ্ছে সময় পরে রয়েছে হাজারও কাজ।

রাত দিন আর পরিশ্রম করতে হয়না। ডিজিটাল যুগে সব কিছুই হাতের নাগালে তবুও আমরা খুজে পাইনা। এখনকার সময়টাকে একটু বাল্যকালের সময়ের সাথে মিলিয়ে দেখবেন কি? বললে হয়তো সবাই বলবে ভাই এখন আধুনিক যুগ আর সেটা ছিল মান্দার তলার যুগ। সো নো নিড ব্রো..। আসলেই কি তাই? আমি তো এমনটা দেখিনা। এখনকার সময়টাতে বেশি হচ্ছে লোক ঠকানো। মিছে মিছে সবই হয়ে গেছে জনপ্রিয়। অতি আধুনিকতায় তাই আমরা সেটাকে নতুন নিয়ম আর আধুনিক বিষয় বলে চালিয়ে যাই। কিন্তু ভেবে দেখার জন্য মনে হয় না।

কিন্তু আধুনিক সময়ে যদি আমরা অলসতাকে না প্রশ্রয় দিয়ে আগের মতই নিয়ম মাফিক কাজ করে যাই তাতে মনে হয় আমরা আরো বেশি উন্নতি আর বেশি আধুনিক হতে পারবো। উন্নত জীবন গড়তে পারবো। সুশিক্ষায় শিক্ষিত হতে পারবো। পড়ালেখার পাশাপাশি ধর্মীয় জ্ঞান, নামাজ আদায়, ভদ্রতা, সমাজে মিলেমিশে বসবাস করা, একসাথে খেলাধূলা করে শরীরচর্চা করা, ভালো চাকরির জন্য ভালো করে নিজেকে প্রস্তুত করা, আধুনিকতার ছোয়ায় নিজেকে সঠিক ভাবে কাজে লাগিয়ে আধুনিক করে নেয়া আর সেই সাথে নিজেকে সেরা প্রস্তুত করা খুবই সহজ হবে। আর সেই সাথে দূর হবে আমাদের মাঝে বাসা বেধে থাকা অলসতাও।

সবই সম্ভব। পৃথিবীতে অসম্বভ বলে কিছুই নেই। সবই হাতের নাগালে। শুধু সঠিক সময় আর নিজের প্রচেশ্টার বিষয়। তাই যদি অলসতাকে দূরে ঠেলে রেখে আমরা আমাদের প্রতিটি সময়কে কাজে লাগিয়ে জীবন গড়তে পারি তাহলে আধুনিকতার যুগে আরও আধুনিক হওয়া সম্ভব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: