Home » খেলাধুলা » ক্রিকেট » কলকাতার বিরুদ্ধে রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে চেন্নাই সুপার কিংসের জয়

কলকাতার বিরুদ্ধে রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে চেন্নাই সুপার কিংসের জয়

আইপিএল মানেই যেনো বারতি উত্তেজনা বারতি উল্লাস। আইপিএল এর উদ্বোধনী ম্যাচে নাটকীয় ভাবে ঘরের মাঠে হারতে হয় মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সকে। প্রতিটি ম্যাচই যেনো টান টান উত্তেজনায় পূর্ণ। গত রাতে কলকাতা-চেন্নাই এর ম্যাচটি কোন অংশে কম নয়। এ্যান্ড্রু রাসেল এর ঝড়ো ইনিংস এর উপর ভর করে কলকাতার রানের পাহাড় গড়েও হারের স্বাদ নিতে হয় ডিকের দলকে। আবার অপরদিকে ২০৩ রানের টার্গেটে নেমে শুরুতেই মারকুটে শেন ওয়াটশন শুরুটা করেন ঝড়ো ভাবে।

কলকাতা-চেন্নাই ম্যাচটির লড়াইটা ছিল তারুণ্য বনাম অভিজ্ঞতার। দীনেশ কার্তিকের তরতাজা  নেতৃত্ব বনাম অভিজ্ঞ ধনির চৌকশতা।আগের ম্যাচে কেকেআর  কোহলির বিরুদ্ধে জয় পেয়েছিল ঠিকই, কিন্তু ক্যাপ্টেন কুল ধোনিকে পরাস্ত করা গেল না। দুই বছর নির্বাসন কাটিয়ে উঠে হলুদ জার্সির নেতা হিসেবে ধোনিকে বেছে নিয়ে যে কোনও ভুল করেননি ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকরা, সেটাই ফের স্পষ্ট।

স্কোরবোর্ডে  জমা  ২০২ রানের একটি পাহাড়। তাই  ব্যাট হাতে নামার আগেই স্নায়ু চাপে পড়ে যায়  বিপক্ষের ব্যাটসম্যানরা।তবে সব ছাড়িয়ে দিনটি ছিলো একটু ভিন্ন। ওয়াটসন,-রাইডু ভাল করেই  জানতেন শুরুটা যদি হাত খুলে ধোলাই করতে পারি তাহলে এই রান তাড়া করে জেতাটা হয়ে যাবে অসম্ভব।

তবে ওয়াটসনকে থামিয়ে খেলার মোড় ঘুরিয়ে আনে কেকেআর। এতে বিপাকে পড়তে হয় ধনির দলকে ।ওয়াটসনকে হারিয়ে রানরেট  অনেকটাই নিচে নেমে আসে।তবে সেই ভয়টাও কেটে যায়  বিলিংস এর ব্যাট হাতে নিয়ে। বিলিংস ব্যাট হাতে মাত্রই ঘুরে যায় ম্যাচের মোড়।আর ক্লাইম্যাক্সে আবার ‘চাম্পিয়ন’ সেই ‘ডিজে ব্রাভো’।

তবে বারবার ধনির বিপদ ডেকে আনা কুলদিপ জাদবও কালকে ভুলে গেছেন ধোনির দুর্বল পয়েন্ট। অবশ্য ধোনিকে আটকাতে না পারলেও রাইদুকে ঠিকই ফেরান সাঝঘরে।

১১টি ছক্কা ও একটি চার হাঁকিয়ে ৩৬ বলে অপরাজিত ৮৮ রানের ইনিংস নাইটদের জয়ের মঞ্চ তৈরি করে দিয়েছিলেন একাহাতেই। তাকে আটকানোর সবরকম চেষ্টা চালান ক্যাপ্টেন কুল। স্বদেশি সতীর্থ ব্রাভোকেও বল করতে পাঠান। কিন্তু ফল হল উল্টো। অনেকটা ক্ষুদার্থ সিংহের মুখে খাবার রেখে দেওয়ার মতো। চেনা বোলারকে বলে-বলে ছক্কা মারলেন রাসেল। তিন ওভারে ৫০ রান দিয়ে তখন বিধ্বস্ত ব্রাভো। কিন্তু সব শোধ তুলে নিলেন ব্যাট হাতে। দলের হয়ে তার ক্যামিও ভূমিকাও যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেটাই প্রমাণ করলেন।

শেষ দুই বল পর্যন্ত ছিল টান-টান উত্তেজনা। কাকে ছেড়ে কাকে দেখবেন দর্শকরা। কার ইনিংসকে সেরার শিরোপা দেবেন। ভেবে কূল করে ওঠাই যেন অসম্ভব। রাসেল, ওয়াটসন, বিলিংস সকলেই ছিলেন এদিন সেরা। রুদ্ধশ্বাস ম্যাচের ইতি হল ঘরের দলের জয় দিয়েই। বিফলে গেল আন্দ্রে রাসেলের দুর্দান্ত অপরাজিত ৮৮ রানের ঝড়ো ইনিংসটি।

আরো পড়ুন-    এশিয়া কাপের ১৪তম আসর ভারতে নয়, হবে আরব আমিরাতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this: