Home » জাতীয় » অপরাধ » ফরিদপুরে মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানীর অভিযোগে মানববন্ধন

ফরিদপুরে মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানীর অভিযোগে মানববন্ধন

ফরিদপুর শহরের বেসরকারী মেডিকেল টেকনোলজি কলেজ কমিউনিটি ‘ম্যাটস’ এর কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও যৌন হয়রানীর অভিযোগ নিয়ে আন্দোলনে নেমেছে শিক্ষার্থীরা।

রবিবার দুপুরে এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনের মুজিব সড়কে এক মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করে শিক্ষার্থীরা। পরে তারা যৌন হয়রানী ও প্রতারণার বিষয়টি উল্লেখ করে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন ও পুলিশ সুপার বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তাদের মোট ৪ বছরের কোর্স। ৩ বছর একাডেমিক ও ১ বছর ইন্টার্ন। কলেজ কর্তৃপক্ষ তাদের ভর্তির পূর্বে বিএমডিসির অনুমোদন রয়েছে উল্লেখ করলেও এখন তারা বিএমডিসির সনদ দিতে পারছে না। পরে খোঁজ নিয়ে তারা জানতে পারে এই কলেজে বিএমডিসির কোনো অনুমোদন নেই।

দুপুরে ফরিদপুর শহরের পশ্চিম খাবাসপুর এলাকার কমিউনিটি ম্যাটস কলেজ ক্যাম্পাস থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি মুজিব সড়ক হয়ে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে।

মানববন্ধন শেষে তারা জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন ও পুলিশ সুপারের বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করে। মানববন্ধনে অন্যান্যের মধ্যে, মো. আবদুল্লাহ আল নোমান, সজিব হাসান, আশিক, আন্না আকতার, মুক্তা আক্তার প্রমুখ বক্তব্য প্রদান করেন।

একাধিক নারী শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, ‘ভাইভা পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দিবে, নম্বর কম দিবেসহ নানা অযুহাতে তাদের যৌন হয়রানী করা হয়। তাদের ফরিদপুরের বাইরে ট্যুরে যাওয়ারও অফার দেওয়া হয়। অনেক মেয়ে এসব কারণে কলেজ ত্যাগ করেছে।’

কলেজের ছাত্রী রিয়া বলেন, ‘ভর্তি হওয়ার আগে তাদের বলা হয়েছিল বিএমডিসি থেকে সনদ দেওয়া হবে। এখন তা দেওয়া হচ্ছে না। কলেজের প্রতিটি মেয়ে কোন না কোনভাবে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে।’

নাহিদ হাসান নামে এক ছাত্র জানান, ‘ভাইভা পরীক্ষায় কোনো টাকা নেওয়ার কথা না থাকলেও ছাত্রদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নেওয়া হয়। আর ছাত্রীদের কু-প্রস্তাব দেওয়া হয়। রাজি না হলে ভাইভাতে ইচ্ছে করে ফেল করিয়ে দেওয়া হয়।’

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কলেজ অধ্যক্ষকে তারা কখনোই পান না। যে কোনো ধরনের অভিযোগ নিয়ে কথা বলতে চাইলে পরিচালকদের সঙ্গে কথা বলতে হয়।’

কলেজে গিয়ে দেখা যায়, চারতলা ভবনের নিচ তলায় একটি ফার্নিচারের শোরুম। আর উপরের তিনটি ফ্লোরে একাডেমিক, প্রশাসনিক ও শির্ক্ষার্থীদের আবাসিক হোস্টেল, এই নিয়ে চলছে কলেজটি। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ অনুযায়ী পাওয়া গেল না কলেজ অধ্যক্ষকে।

কথা হলো, কলেজের অন্যতম পরিচালক মো. মহসিনের সঙ্গে। যৌন হয়রানী বিষয়টিকে তিনি ভিত্তিহীন ও অমূলক বলে উল্লেখ করেন। বিএমডিসির অনুমোদন নিয়ে তিনি বলেন, ‘বিএমডিসি একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠান। আমরা স্টেট মেডিকেল বোর্ড অব ফ্যাকাল্টি থেকে সনদ দিয়ে থাকি। বিএমডিসির অনুমোদন একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। আমরা আবেদন করেছি, এই মাসেই তাদের পরিদর্শনের আসার কথা। আশা করছি বিএমডিসির অনুমোদনও পেয়ে যাবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: