Home » অন্যান্য » বর্ষায় রোগবালাই ও স্বাস্থ্য সচেতন
বর্ষায় রোগবালাই ও স্বাস্থ্য সচেতন
বর্ষায় রোগবালাই ও স্বাস্থ্য সচেতন

বর্ষায় রোগবালাই ও স্বাস্থ্য সচেতন

বৃষ্টি ও বর্ষাকাল মানেই অন্যরকম আমেজ আর ভালোলাগা। এই সময়ে কিছু কিছু ক্ষেত্রে নিজেদের বেশ আবেগময় লাগে। বিশেষ করে তরুনদের মধ্যে সতেজতা আর রিফ্রেশমেন্ট মোমেন্ট থাকে। আর এ ক্ষেত্রে গান, কবিতা আর সুরের এক অদ্ভুত মিশেল হয়ে আছে জীবনে। মেঘলা আবহাওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই হয়তো মন গেয়ে ওঠে, “আজি ঝর ঝর মুখর বাদল দিনে…”

তবে এই আবেগময় বর্ষাকালেই বিভিন্ন রোগের বৃদ্ধি ঘটে বলে দায়ী এই সিজরটা। এ সময় হঠাৎ হঠাৎ টানা বৃষ্টি থাকে আবার কখনো থেমে থেমে ঝিরঝির বৃষ্টিও হয়। এ সময় স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় ব্যাকটেরিয়া-ভাইরাসের কারণে অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। আর জ্বর, সর্দি, কাশি প্রভৃতি নানা রোগ হরহামেশাই লেগে থাকে। তবে এগুলোর পাশাপাশি পানি বাহিত রোগ বেশি হয়ে থাকে, যেমন- কলেরা, টাইফয়েড, ডায়রিয়া ইত্যাদি হয়ে থাকে।

বর্ষাকালে হিপোথার্মিয়া, চোখের সংক্রমণ, শ্বাস প্রশ্বাসের স্থানান্তর সংক্রমণ, লেপটোপিয়েরোসিস পানি, শ্বাস প্রশ্বাসের সংক্রমণ ইত্যাদি হতে পারে। আবার যাদের হাঁপানির সমস্যা আছে তাদের জন্যও বেশ ভোগান্তির। ভাইরাল ইনফেকশন, ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন, বা পরজীবী প্রাদুর্ভাব থেকে ডায়রিয়ার মত জীবাণুগুলো সাধারণত দূষিত খাদ্য বা পানি, দূষিত বস্তু বা হাত ইত্যাদির মাধ্যমে বৃহদান্ত্রতে পৌঁছায়। ক্ষেত্র বিশেষে কিডনির সমস্যাও সৃষ্টি করতে পারে।

তবে কিছু নিয়ম মেনে চললেই সাচ্ছন্দ জীবন জাপন করা সম্ভব-

১. আপনার ঘরের কাছাকাছি পানি, ফুলের পাত্র, কুলার ইত্যাদি পানি নিঃসরণ প্রতিরোধ করুন। যেমন কূপ এবং স্টোরেজ ট্যাংকের পানির উৎসগুলি আচ্ছাদিত করা উচিত এবং মশার প্রজনন প্রতিরোধ করতে এবং মশারি বহন করে রোগ প্রতিরোধ করা উচিত। পোকামাকড় প্রতিরোধক ব্যবহার করুন এবং মশা, মাছি থেকে দূরে থাকার জন্য সতর্কতা গ্রহণ করুন।

২. বাড়ি থেকে বের হলে অবশ্যই ছাতা এবং রেইনকোট সঙ্গে নিয়ে বের হবেন।

৩. বাইরে বের হলে ব্যাগে আর একটি শুকনো পোশাক রাখুন। ভেজা পোশাক খুলে রেখে শুকনো পোশাক পরুন।
৪. এ সময় শাক সবজি ভালো করে শুকিয়ে পরিষ্কার করুন, যা জীবাণু পরিত্রাণ করবে। প্রায় ১০ মিনিটের জন্য লবণের পানিতে সবুজ শাক ভিজিয়ে নিন। এ দ্রবণ জীবাণু অপসারণ করতে সাহায্য করে এবং পরে সেগুলি রান্না রান্না করা ভাল।

৫. বর্ষার সময়, পায়ের পাতায় আটকানো পানিতে নানা ধরনের সমস্যা হতে পারে তাই পায়ের পাতা বা স্যান্ডেল যেন ভেজা না থাকে সেদিকে বিশেষ মনোযোগ দেয়া প্রয়োজন।

৬. চামড়া বা নখের ফুসকুড়ি সংক্রমণ প্রতিরোধ করার জন্য লম্বা পোশাক পরবেন না।

৭. খাবার খেয়ে বা খাবার আগে এবং টয়লেট করার পর হাত ধুয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিতে হবে।

৮. যদি সম্ভব হয় তাহলে বৃষ্টির মধ্যে মোটরসাইকেটিং এড়িয়ে চলুন।

৯. বৃষ্টি-বাদলার দিনে শারীরিক ইমিউনিটি কমে যায়। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে ভিটামিন ‘সি’ সমৃদ্ধ খাবার খান।

১০. বৃষ্টিতে ভিজলে বাড়ি ফিরে অবশ্যই গোসল করে নেবেন।

১১. গরম খাবার-দাবার খান।

১২. পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকুন। বর্ষায় পরিষ্কার থাকা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। এতে শরীরে ভাইরাস বাসা বাঁধতে পারবে না।

১৩. বিশুদ্ধ জপানি পান করুন। বর্ষায় পানি পানের ইচ্ছে কম থাকলেও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বেশি করে পানি পান করা উচিত।

১৪. পুষ্টিসমৃদ্ধ বাড়ির খাবার খান। তেল-মশলাদার খাবার বেশি না খাওয়াই ভাল। এতে সুস্থতা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি ফ্লু থেকেও বাঁচবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: