Home » অর্থনীতি » মুন্সীগঞ্জে ‘বৃহৎ’ কুমড়ার বাজারজাতকরণ শুরু!
মুন্সীগঞ্জে ‘বৃহৎ’ কুমড়ার বাজারজাতকরণ শুরু!
মুন্সীগঞ্জে ‘বৃহৎ’ কুমড়ার বাজারজাতকরণ শুরু!

মুন্সীগঞ্জে ‘বৃহৎ’ কুমড়ার বাজারজাতকরণ শুরু!

বাংলাদেশের একটি বৃহত্তর জেলা হচ্ছে মুন্সীগঞ্জ! আর মুন্সিগঞ্জ জেলায় রয়েছে বাংলাদেশের একটি বৃহত্তর বিল। যেখানে মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার বাজার থেকে সাড়ে চার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিলেই মিলবে গাদিঘাট নামের একটি গ্রাম। গাদিঘাট নামের এই গ্রামের ১৩৬ বর্গ কিলোমিটারের এই অঞ্চলটি দেশের মধ্যাঞ্চলের সবচেয়ে বড় প্রাচীন বিল। শীত শেষে আড়িয়াল বিলে গেলে চোখে পড়বে জমি থেকে বৃহৎ আকৃতির মিষ্টি কুমড়া আনা নেওয়ায় কাজে ব্যস্ত কৃষকের চিত্র।

আর এ জেলার আড়িয়াল বিলের শুরুটা মূলত গাদিঘাট থেকেই। এখানকার মিষ্টি কুমড়া দুই মনেরও বেশি ওজনের হয়ে থাকে। আশ্বিন মাস থেকে এ কুমড়ার চাষাবাদ শুরু হয়। ফাল্গুন মাসের শেষ পর্যন্ত চলে কুমড়া বিক্রি। গাদিঘাট অংশে ২৭০ হেক্টর জমিতে চাষ করা হয় এবং গত বছরে ১১ হাজার ৩৪০ মেট্রিক টন কুমড়া আড়িয়াল বিল থেকে উৎপাদন হয়েছে যা প্রতি হেক্টরে প্রায় ৪২ টন।

এদিকে মুন্সিগঞ্জ জেলার আড়িয়াল বিলের চাষী সাত্তার মিয়া বলেন, সার, ওষুধ, পরিবহন খরচসহ আনুষঙ্গিক খরচ বেড়ে যাওয়ায় নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। যে পরিমাণ টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে, তাতে সবকিছু দিয়ে লাভের টাকা আসবে কিনা তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছি। এসব মিষ্টি কুমড়ার কেজি ২০ টাকা থেকে ৫০ টাকাও বিক্রি হয়। এছাড়াও পিস হিসেবে ২০০ থেকে ৩০০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়ে থাকে।

অপরদিকে জমি থেকে ‍মিষ্টি কুমড়া আনা-নেওয়ার কাজে ব্যস্ত শাওন হোসেন বলেন যে, আশেপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে শ্রমিক হিসেবে এখানে অনেকেই আসে কাজ করতে। জমি থেকে পরিপক্ক মিষ্টি কুমড়া মাথায় তুলে নিয়ে রাস্তার পাশে স্তূপ আকারে রাখা হয়। নৌকা দিয়েও দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। চুক্তি হিসেবে পারিশ্রমিক বাবদ ৭০০০ হাজার টাকা পেয়েছি।

এছাড়া আড়িয়াল বিলের চাষীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আড়িয়াল বিলের মাটি খুব উর্বর। আর তাই এখানকার মাটিতে সবজি কাজ করা খুবই লাভজনক। আর এ কারনেই ১৪ হাজার হেক্টর জমিতে ধান চাষ করা হয় এবং চাষাবাদ করা হয় কুমড়া। অন্যান্য আরও সবজির সঙ্গে এসব কুমড়া চাষাবাদ হয়ে থাকে।

এদিকে মুন্সীগঞ্জ জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. হুমায়ূন কবীর জানায়, বর্ষার পানি নেমে গেলে কচুরিপানা স্তূপ করে কুমড়ার চারা লাগানো হয়। অনেকেই বীজ সংরক্ষণের জন্য নিজ বাড়িতেও কুমড়া সংরক্ষণ করে থাকে। আর তাই এখানকার মিষ্টি কুমড়া ৮০-৮৫ কেজি পর্যন্ত ওজনের হয়ে থাকে। 

তিনি আরো বলেন, আড়িয়াল বিলের ২৭০ হেক্টর জমিতে এসব কুমড়া চাষ হয়। গত বছরে ১১ হাজার ৩৪০ মেট্রিক টন কুমড়া আড়িয়াল বিল থেকে উৎপাদন হয়েছে যা প্রতি হেক্টর জমিতে প্রায় ৪২ টনআর তাই মুন্সিগঞ্জ জেলার চাষিরা খুবই খুশি যে এসকল বৃহৎ আকারের কুমড়া বাজারে বিক্রি করতে পারায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: